আন্তর্জাতিক পর্যটকদের ভ্রমণ প্রক্রিয়া সহজ করতে ‘প্যাকেজ ভিসা’ নামে পরীক্ষামূলক এক উদ্যোগের সূচনা করেছে সৌদি আরব। এই সুবিধার আওতায় যোগ্য পর্যটকরা বিমান টিকিট, আবাসন ও অন্যান্য ভ্রমণসেবার সমন্বয়ে গঠিত একটি সমন্বিত প্যাকেজের অংশ হিসেবেই পর্যটন ভিসা পাবেন।
সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আপাতত অনুমোদিত ভ্রমণ ও পর্যটন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে নির্বাচিত কিছু পাইলট বাজারে এই কার্যক্রম চালু করা হচ্ছে।
যেসব সুবিধা মিলবে
এই পদ্ধতির মূল লক্ষ্য হলো ভ্রমণকারীদের আলাদাভাবে বিমান, হোটেল ও ভিসা ব্যবস্থাপনার ঝামেলা থেকে মুক্তি দেওয়া। তবে এই সেবা কেবল সেই সব অনুমোদিত ভ্রমণ প্রতিষ্ঠানই দিতে পারবে, যাদের নিজস্ব ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, কারিগরি সক্ষমতা এবং ২৪ ঘণ্টার গ্রাহকসেবা ব্যবস্থা রয়েছে।
‘ভিশন ২০৩০’ পরিকল্পনার অংশ
মূলত সৌদি আরবের বৃহত্তর ‘ভিশন ২০৩০’ পরিকল্পনার অধীনে পর্যটন খাতের প্রসারের লক্ষ্যেই ‘প্যাকেজ ভিসা’র এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে সৌদি পর্যটন মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং দেশটির বিমা কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে কাজ করেছে।
ট্যুরিস্ট ই-ভিসা চালুর পর থেকে সৌদি আরব সময়ে সময়ে ভিসা নীতি সহজ করতে ‘অন অ্যারাইভাল ভিসা’ এবং ‘স্টপওভার ট্রানজিট ভিসা’র মতো একাধিক নমনীয় ব্যবস্থা চালু করেছে। এসব পদক্ষেপের সুফল হিসেবে ২০২৫ সালে দেশটি ২ কোটি ৯০ লাখেরও বেশি বিদেশি পর্যটককে স্বাগত জানাতে পেরেছে।
পর্যটন খাতে চাঙাভাবের প্রত্যাশা
প্যাকেজ ভিসা চালু হওয়ায় ট্রাভেল কোম্পানিগুলো এখন সৌদি ভ্রমণকে আরও সুবিধাজনক করতে সম্পূর্ণ প্যাকেজ ভ্রমণসূচি তৈরি করতে পারবে। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্যমতে, ভ্রমণ ব্যবস্থাপনা সহজ হওয়ায় পর্যটকরা এখন আরও দীর্ঘ সময় সৌদি আরবে অবস্থান করবেন, ভ্রমণে আরও বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতা লাভ করবেন এবং সেই সঙ্গে পর্যটন খাতে ব্যয়ও বাড়বে।
এই কর্মসূচি বিদেশি পর্যটকদের জন্য সৌদি আরবে প্রবেশ আরও সহজ করা, বেসরকারি খাতের সঙ্গে দৃঢ় অংশীদারত্ব গড়ে তোলা এবং নিরবচ্ছিন্ন পর্যটন অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করার দেশটির চলমান প্রচেষ্টার প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ডিজিটাল ডেস্ক 
























