ময়মনসিংহ , মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ কাতারের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন ‘তুমি কে, আমি কে, ফার্মের মুরগি’—স্লোগানে উত্তাল সায়েন্সল্যাব এলাকা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ নতুন দায়িত্বে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১০১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নীত হচ্ছে শ্রমিক ইউনিয়নের দ্বন্দ্বে স্থবির রাজশাহী, বন্ধ অভ্যন্তরীণ সব রুটের বাস সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রমের আওতায় মৌলিক দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান প্রশ্নে ত্রুটি থাকলে পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে জানিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধনে ১২ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন বৈরী আবহাওয়ায় এইচএসসি পরীক্ষা: অনুপস্থিত সাড়ে ১৯ হাজার, বহিষ্কার ২৯ শিক্ষার্থী
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

গাইবান্ধায় বিশাল রামমূর্তি নির্মাণকারী হরিদাসকে ৪ দিনের রিমান্ডে

  • স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ১০:১১:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
  • ১৯ বার পড়া হয়েছে

মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে এশিয়ার সর্ববৃহৎ রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোক্তা শ্রী হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

গত সোমবার (১৩ জুলাই) বিকালে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ রিপন হোসেনের আদালত এই আদেশ দেন।এর আগে, আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) কেএম রাকিবুল হুদা। আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে শুনানি করেন।

তার পক্ষে এক আইনজীবী বলেন, মানি লন্ডারিংয়ের ব্যাপারে একটা লাইন অভিযোগে লেখা নেই। তিনি ধর্মের পথের লোক। তিনি একটা মন্দির বানিয়েছেন, সেখানে ভক্তরা বিভিন্ন টাকা পয়সা দেয় মন্দিরের জন্য। এখানে মানি লন্ডারিংয়ের কিছু নেই।

বিচারকের অনুমতি নিয়ে হরিদাস আদালতে বলেন, ‘আমি একজন কৃষক ছিলাম, এখন মন্দির পরিচালনা করি। মন্দির করে যদি অপরাধী হই তাহলে কিছু করার নাই।’ আদালতকে হরিদাস আরও বলেন, ‘ভক্তদের দেওয়া এ টাকা যদি অন্যায় কাজে পরিচালনা করি তাহলে সেটা দেখা হোক।’ পরে বিচারক এ টাকা ভক্তদের দেওয়া কি-না জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘জ্বি’।

এ সময় উভয় পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আদালতে বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হলে জেলগেটে করা যেতে পারে, রিমান্ডে নেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। পরে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত নথিপত্র পর্যালোচনা করেন। পরবর্তীতে বিচারক শ্রী হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, প্রাথমিক তদন্তে আসামির বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে হুন্ডির মাধ্যমে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচারের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, আসামির নামে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেনের তথ্য মিলেছে। এসব অর্থের উৎস, কারা অর্থ জমা দিয়েছেন এবং এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে আসামিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে। এছাড়া তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে রাখা প্রয়োজন। অন্যথায় তিনি জামিনে মুক্তি পেলে তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গত ১২ জুলাই রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার সিআইডির একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের হওয়া মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের কোমরপুরের মধ্যরামচন্দ্রপুর (নয়াপাড়া) গ্রামের মৃত গোপিনাথ চন্দ্র তরণী দাসের ছেলে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, শ্রী হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস একজন সাধারণ ব্যবসায়ী হলেও ব্যবসার আড়ালে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচার ও হুন্ডি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। তার বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি ব্যবসাবহির্ভূত বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ জমা করেছেন। অনুসন্ধানে তার নামে থাকা পাঁচটি ব্যাংক হিসাব এবং চারটি মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে বিভিন্ন সন্দেহজনক উৎস থেকে মোট ৯ কোটি ৩৫ লাখ ৩২ হাজার ৪৫১ টাকা জমার তথ্য পাওয়া গেছে।তদন্ত সংস্থার দাবি, প্রাথমিক অনুসন্ধানে এসব লেনদেন মানিলন্ডারিং-সংশ্লিষ্ট অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে প্রতীয়মান হয়েছে।

সার্বিক অনুসন্ধানে সংগৃহীত তথ্য প্রমাণ, সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ, ব্যাংকিং ডকুমেন্টস ও অন্যান্য তথ্যাদি বিশ্লেষণে জানা যায়, অভিযুক্ত শ্রী হরিদাস অজ্ঞাতনামা ২/৩ জনের একটি সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্র পরস্পর যোগসাজশে হুন্ডি তথা ‘দেশি বিদেশি মুদ্রা পাচার করতো’। সর্বমোট ৯ কোটি ৩৫ লাখ ৩২ হাজার ৪৫১ টাকা অপরাধলদ্ধ অর্থ অর্জনসহ অর্জিত টাকা ও রূপান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধনী-২০১৫) এর ২ (শ) এ৫ (১৪) ও (২৬) ধারা অনুসারে সম্পৃক্ত অপরাধ। ওই ঘটনায় অর্গানাইজড ক্রাইম (ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম) সিআইডির পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ কাতারের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন

গাইবান্ধায় বিশাল রামমূর্তি নির্মাণকারী হরিদাসকে ৪ দিনের রিমান্ডে

আপডেট সময় ১০:১১:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে এশিয়ার সর্ববৃহৎ রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোক্তা শ্রী হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

গত সোমবার (১৩ জুলাই) বিকালে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ রিপন হোসেনের আদালত এই আদেশ দেন।এর আগে, আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) কেএম রাকিবুল হুদা। আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে শুনানি করেন।

তার পক্ষে এক আইনজীবী বলেন, মানি লন্ডারিংয়ের ব্যাপারে একটা লাইন অভিযোগে লেখা নেই। তিনি ধর্মের পথের লোক। তিনি একটা মন্দির বানিয়েছেন, সেখানে ভক্তরা বিভিন্ন টাকা পয়সা দেয় মন্দিরের জন্য। এখানে মানি লন্ডারিংয়ের কিছু নেই।

বিচারকের অনুমতি নিয়ে হরিদাস আদালতে বলেন, ‘আমি একজন কৃষক ছিলাম, এখন মন্দির পরিচালনা করি। মন্দির করে যদি অপরাধী হই তাহলে কিছু করার নাই।’ আদালতকে হরিদাস আরও বলেন, ‘ভক্তদের দেওয়া এ টাকা যদি অন্যায় কাজে পরিচালনা করি তাহলে সেটা দেখা হোক।’ পরে বিচারক এ টাকা ভক্তদের দেওয়া কি-না জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘জ্বি’।

এ সময় উভয় পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আদালতে বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হলে জেলগেটে করা যেতে পারে, রিমান্ডে নেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। পরে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত নথিপত্র পর্যালোচনা করেন। পরবর্তীতে বিচারক শ্রী হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, প্রাথমিক তদন্তে আসামির বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে হুন্ডির মাধ্যমে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচারের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, আসামির নামে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেনের তথ্য মিলেছে। এসব অর্থের উৎস, কারা অর্থ জমা দিয়েছেন এবং এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে আসামিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে। এছাড়া তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে রাখা প্রয়োজন। অন্যথায় তিনি জামিনে মুক্তি পেলে তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গত ১২ জুলাই রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার সিআইডির একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের হওয়া মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের কোমরপুরের মধ্যরামচন্দ্রপুর (নয়াপাড়া) গ্রামের মৃত গোপিনাথ চন্দ্র তরণী দাসের ছেলে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, শ্রী হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস একজন সাধারণ ব্যবসায়ী হলেও ব্যবসার আড়ালে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচার ও হুন্ডি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। তার বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি ব্যবসাবহির্ভূত বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ জমা করেছেন। অনুসন্ধানে তার নামে থাকা পাঁচটি ব্যাংক হিসাব এবং চারটি মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে বিভিন্ন সন্দেহজনক উৎস থেকে মোট ৯ কোটি ৩৫ লাখ ৩২ হাজার ৪৫১ টাকা জমার তথ্য পাওয়া গেছে।তদন্ত সংস্থার দাবি, প্রাথমিক অনুসন্ধানে এসব লেনদেন মানিলন্ডারিং-সংশ্লিষ্ট অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে প্রতীয়মান হয়েছে।

সার্বিক অনুসন্ধানে সংগৃহীত তথ্য প্রমাণ, সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ, ব্যাংকিং ডকুমেন্টস ও অন্যান্য তথ্যাদি বিশ্লেষণে জানা যায়, অভিযুক্ত শ্রী হরিদাস অজ্ঞাতনামা ২/৩ জনের একটি সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্র পরস্পর যোগসাজশে হুন্ডি তথা ‘দেশি বিদেশি মুদ্রা পাচার করতো’। সর্বমোট ৯ কোটি ৩৫ লাখ ৩২ হাজার ৪৫১ টাকা অপরাধলদ্ধ অর্থ অর্জনসহ অর্জিত টাকা ও রূপান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধনী-২০১৫) এর ২ (শ) এ৫ (১৪) ও (২৬) ধারা অনুসারে সম্পৃক্ত অপরাধ। ওই ঘটনায় অর্গানাইজড ক্রাইম (ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম) সিআইডির পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।