ময়মনসিংহ , বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
মদনে পৌনে ২ লাখ টাকার নিষিদ্ধ জাল জব্দ ও পুড়িয়ে ধ্বংস টেকনাফ-উখিয়ায় র‌্যাব-বিজিবি-এপিবিএনের যৌথ ধাক্কা: বিপুল ইয়াবা, অস্ত্র ও নগদ টাকাসহ ৬ জন আটক সচিবালয় অভিমুখী সড়ক বন্ধ করে দিল পুলিশ নেত্রকোনার মদনে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত, নেত্রকোণায় জুনের অপরাধ পর্যালোচনা সভা: শ্রেষ্ঠ সার্কেল স্বজল ও শ্রেষ্ঠ ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন ম্যারাডোনাকে জয় উৎসর্গ করে মেসি বললেন, ‘এটি তাঁরই উপহার’ ফাইনালের ঠিক আগে বড় শাস্তির মুখে আর্জেন্টিনা? পূর্বধলায় সার্বজনীন কালী মন্দিরের নতুন কমিটি গঠন: সভাপতি ডাঃ দ্বীজেশ, সম্পাদক শৈলেন্দ্র ১৭ বছর ধরে পায়ের ভারে বন্দি আবু বক্কর, অর্থাভাবে থমকে আছে চিকিৎসা জয়পুরহাটে শিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ মিছিল
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

১৭ বছর ধরে পায়ের ভারে বন্দি আবু বক্কর, অর্থাভাবে থমকে আছে চিকিৎসা

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী ইউনিয়নের আমলাতুলি গ্রামের ২৫ বছর বয়সী আবু বক্কর দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে একটি বিরল শারীরিক সমস্যার সঙ্গে লড়াই করছেন। মাত্র আট বছর বয়সে তার ডান পা অস্বাভাবিকভাবে ফুলতে শুরু করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পায়ের আকার ও ওজন এতটাই বেড়ে গেছে যে বর্তমানে স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করাও তার জন্য অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে উঠেছে।

আবু বক্কর স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাইদুল ইসলামের একমাত্র ছেলে। পরিবারের সদস্যরা জানান, ছেলেকে সুস্থ করার আশায় তারা দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় শহরের হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়েছেন। কিন্তু কোনো চিকিৎসাতেই আশানুরূপ ফল পাওয়া যায়নি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আক্রান্ত পায়ের অবস্থা আরও জটিল হয়েছে।

আবু বক্করের বাবা মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, “ছেলের চিকিৎসার জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। ২০২২ সালে উন্নত চিকিৎসার আশায় তাকে ভারতের চেন্নাইয়ে নিয়ে যাই। সেখানে চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জানান, কয়েক ধাপে অস্ত্রোপচার করতে হবে। এতে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা ব্যয় হবে। আমাদের মতো নিম্ন আয়ের পরিবারের পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা সম্ভব নয়।”

বর্তমানে আবু বক্কর বাড়িতেই অবস্থান করছেন। শারীরিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও পরিবারের বিভিন্ন ছোটখাটো কাজে সহযোগিতা করার চেষ্টা করেন তিনি। তবে পায়ের অতিরিক্ত ওজনের কারণে স্বাভাবিক চলাফেরা, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক জীবনযাপন তার জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

ছেলের চিকিৎসার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন মানবিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সহযোগিতা কামনা করেছেন তার পরিবার। তাদের বিশ্বাস, প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা পেলে উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে আবু বক্কর আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন।

এ বিষয়ে শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, “রোগীকে নিয়ে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

স্থানীয় বাসিন্দাদেরও আশা, সরকারি সহায়তা এবং সমাজের মানবিক মানুষের সহযোগিতায় আবু বক্করের চিকিৎসা নিশ্চিত হবে এবং দীর্ঘ ১৭ বছরের দুর্বিষহ জীবন থেকে মুক্তির পথ তৈরি হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মদনে পৌনে ২ লাখ টাকার নিষিদ্ধ জাল জব্দ ও পুড়িয়ে ধ্বংস

১৭ বছর ধরে পায়ের ভারে বন্দি আবু বক্কর, অর্থাভাবে থমকে আছে চিকিৎসা

আপডেট সময় ০৯:৩৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী ইউনিয়নের আমলাতুলি গ্রামের ২৫ বছর বয়সী আবু বক্কর দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে একটি বিরল শারীরিক সমস্যার সঙ্গে লড়াই করছেন। মাত্র আট বছর বয়সে তার ডান পা অস্বাভাবিকভাবে ফুলতে শুরু করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পায়ের আকার ও ওজন এতটাই বেড়ে গেছে যে বর্তমানে স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করাও তার জন্য অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে উঠেছে।

আবু বক্কর স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাইদুল ইসলামের একমাত্র ছেলে। পরিবারের সদস্যরা জানান, ছেলেকে সুস্থ করার আশায় তারা দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় শহরের হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়েছেন। কিন্তু কোনো চিকিৎসাতেই আশানুরূপ ফল পাওয়া যায়নি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আক্রান্ত পায়ের অবস্থা আরও জটিল হয়েছে।

আবু বক্করের বাবা মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, “ছেলের চিকিৎসার জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। ২০২২ সালে উন্নত চিকিৎসার আশায় তাকে ভারতের চেন্নাইয়ে নিয়ে যাই। সেখানে চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জানান, কয়েক ধাপে অস্ত্রোপচার করতে হবে। এতে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা ব্যয় হবে। আমাদের মতো নিম্ন আয়ের পরিবারের পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা সম্ভব নয়।”

বর্তমানে আবু বক্কর বাড়িতেই অবস্থান করছেন। শারীরিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও পরিবারের বিভিন্ন ছোটখাটো কাজে সহযোগিতা করার চেষ্টা করেন তিনি। তবে পায়ের অতিরিক্ত ওজনের কারণে স্বাভাবিক চলাফেরা, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক জীবনযাপন তার জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

ছেলের চিকিৎসার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন মানবিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সহযোগিতা কামনা করেছেন তার পরিবার। তাদের বিশ্বাস, প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা পেলে উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে আবু বক্কর আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন।

এ বিষয়ে শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, “রোগীকে নিয়ে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

স্থানীয় বাসিন্দাদেরও আশা, সরকারি সহায়তা এবং সমাজের মানবিক মানুষের সহযোগিতায় আবু বক্করের চিকিৎসা নিশ্চিত হবে এবং দীর্ঘ ১৭ বছরের দুর্বিষহ জীবন থেকে মুক্তির পথ তৈরি হবে।