নেত্রকোণা সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দক্ষ অর্থ ব্যবস্থাপনার এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে নেত্রকোণা পৌরসভা। পৌর নগর পরিচালয় ও অবকাঠামো উন্নতিসাধন (এনপিআইডিপি) প্রকল্পের কাজ শেষে গুণগত মান বজায় রেখে ১ কোটি ৩৩ লাখ ২৬ হাজার টাকা সাশ্রয় করা হয়েছে। সেই অর্থ দিয়ে পৌর এলাকায় অতিরিক্ত ১ দশমিক ২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের নতুন ৬টি আরসিসি সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রকল্পের অব্যবহৃত আরও ৫৯ লাখ ২৬ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে সরকারি কোষাগারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভার সদ্য বিদায়ী পৌর প্রশাসক মো. আরিফুল ইসলাম সরদারের তদারকিতে এনপিআইডিপি প্রকল্পের ৪টি প্যাকেজের কাজ সুচারুভাবে সম্পন্ন হয়। সিডিউল অনুযায়ী রাস্তার কাজের মান ও পরিমাপ শতভাগ ঠিক রেখে অতিরিক্ত অর্থ সাশ্রয় করা সম্ভব হয়, যা পৌরসভার ইতিহাসে একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা।
সাশ্রয়ের টাকায় যেসব নতুন সড়ক
সরেজমিনে দেখা যায়, সাশ্রয়কৃত অর্থ পৌরসভার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকার যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়নে ব্যবহার করা হয়েছে:
মোক্তারপাড়া এলাকা: পৌরসভা থেকে মোক্তারপাড়া ব্রিজ পর্যন্ত প্রকল্প থেকে ৩৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা সাশ্রয় করে মোক্তারপাড়া এলাকায় ৪০০ মিটার দৈর্ঘ্যের ৩টি আরসিসি রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে।
চন্দ্রনাথ স্কুল থেকে পাসপোর্ট অফিস: অজহর রোড এবং পান মহালের মোড় থেকে ইসলামপুর মোড় পর্যন্ত প্রকল্প থেকে সাশ্রয়কৃত ৬৮ লাখ ৫০ হাজার টাকায় ৫০০ মিটার দীর্ঘ আরসিসি রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে।
পশ্চিম সাতপাই এলাকা: এ অংশের প্রকল্প থেকে ২১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা সাশ্রয় করে রেললাইনের পাশ দিয়ে আবুল হোসেন তালুকদারের বাড়ি পর্যন্ত ২৪০ মিটারের নতুন আরসিসি রাস্তা করা হয়েছে।
মনিকা রোড: মনিকা রোডের প্রকল্প থেকে ৭ লাখ টাকা সাশ্রয় করে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) বাংলোর পেছনে ৬০ মিটার দীর্ঘ আরসিসি সড়ক তৈরি করা হয়েছে।
সরকারি কোষাগারে ফেরত ৫৯ লাখ টাকা
শুধু নতুন সড়ক নির্মাণই নয়, এনপিআইডিপি প্রকল্পের চারটি প্যাকেজের অতিরিক্ত ৫৯ লাখ ২৬ হাজার টাকা সরাসরি সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে অর্থিক শৃঙ্খলার নজির গড়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে:
পৌরসভা থেকে মিফতাহুল উলুম মাদ্রাসা সড়ক প্রকল্প থেকে ১৬ লাখ ২৬ হাজার টাক হাটখোলা রোড ড্রেন প্রকল্প থেকে ১০ লাখ টাকাবাহির চাপড়া এলাকায় সাবেক কমিশনার আমির হোসেনের বাড়ি থেকে বড়ওয়ারী সড়ক থেকে ৩০ লাখ টাকাউকিলপাড়া ড্রেন প্রকল্প থেকে ৩ লাখ টাকা সাশ্রয় করে সরকারি তহবিলে জমা দেওয়া হয়।
”সরকারি অর্থের প্রতিটি টাকার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল। কাজের মানের সঙ্গে বিন্দুমাত্র আপস না করেই এ ব্যয় সাশ্রয় করা হয়েছে এবং সেই অর্থ জনগণের কল্যাণেই পুনরায় ব্যয় করা হয়েছে।”— মো. আরিফুল ইসলাম সরদার, সদ্য বিদায়ী পৌর প্রশাসক, নেত্রকোণা পৌরসভাসার্বিক অবকাঠামো ও নাগরিক সেবার উন্নয়নস্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এবারই প্রথম নেত্রকোণা পৌরসভায় জনগণকে সরাসরি সম্পৃক্ত করে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
বিদায়ী প্রশাসকের মেয়াদে সাতপাই সরকারি কলেজ থেকে রেলক্রসিং সড়ক, নিউটাউন পুকুরপাড়, সদর হাসপাতাল, বারহাট্টা রোড ও চক মসজিদ থেকে ইসলামপুর রাস্তাসহ বিভিন্ন সড়ক পুনর্নির্মাণ করা হয়।এছাড়া ধলাই নদী সংস্কার, দুটি বড় সাঁকো নির্মাণ, পৌর ভবনের সৌন্দর্যবর্ধন, ১০ কিলোমিটার নতুন বিদ্যুৎ লাইন সম্প্রসারণের মাধ্যমে ৪০০টি নতুন সড়ক বাতি স্থাপন এবং বকেয়া পড়া প্রায় ৫৫ লাখ টাকার বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে পৌরসভাকে আর্থিক দায়মুক্ত করা হয়েছে।
এডিপি ও টিআর কর্মসূচির আওতায় পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতে ১৩টি ডাস্টবিন স্থাপনসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে সিসি রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে।একই সরকারি বরাদ্দ থেকে অর্থ সাশ্রয় করে নতুন অবকাঠামো নির্মাণ এবং সরকারি তহবিলে অর্থ ফেরতের এই উদ্যোগকে জাতীয় পর্যায়ে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহারের একটি ইতিবাচক ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত বলে মনে করছেন পৌরবাসী।

হারাধন সূত্রধর: (নেত্রকোণা) বিশেষ প্রতিনিধি 





















