ময়মনসিংহ , সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
যতবার ইচ্ছা হবে, যখন ইচ্ছা হবে, আমি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্যালুট জানাবো বললেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক পানির পাইপলাইনে বিষ প্রয়োগ ‘সাবভার্সিভ অ্যাক্টিভিটিজ’বলে মন্তব্য করেছেন এসপি মাসুদ শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড মামলা: ট্রাইব্যুনালে আজ অভিযোগ দাখিল চূড়ান্ত অনুমোদনের পথে নবম পে-স্কেল: শিগগিরই কার্যকরের জোরালো প্রস্তুতি মদনে ভুয়া বায়া দলিলে জমি রেজিস্ট্রি করার অভিযোগ: দলিল লেখক রহিছ মিয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ কেন্দুয়ায় নতুন ইউএনও সানজিদা চৌধুরী রংপুর প্রাণিসম্পদ অফিসে কী ঘটছে এসব? নেত্রকোনায় বসতঘর থেকে যুবকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার আজ শুরু হচ্ছে চট্টগ্রাম বোর্ডের স্থগিত থাকা এইচএসসি পরীক্ষা
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

মদনে ভুয়া বায়া দলিলে জমি রেজিস্ট্রি করার অভিযোগ: দলিল লেখক রহিছ মিয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ভুয়া বায়া দলিলের নকল ব্যবহার করে জমির দলিল রেজিস্ট্রেশনের চেষ্টা করার অভিযোগে দলিল লেখক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. রহিছ মিয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মো. জাহিদ হাসান। একই সঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাকে দলিল-সংক্রান্ত সব ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ রয়েছে, নোটিশ পাওয়ার পরও রহিছ মিয়া সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সামনে নিজ চেম্বারে বসে সহকারীদের মাধ্যমে দলিল-সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ জুন ২০২৬ তারিখে লেখক সনদ নম্বর-৪৪৭ধারী দলিল লেখক মো. রহিছ মিয়া একটি দলিল রেজিস্ট্রেশনের জন্য কার্যালয়ে উপস্থাপন করেন। দলিলের দাতাগণ ছিলেন নোয়াপাড়া গ্রামের ফৌজদার মিয়া, কিশোর মিয়া ও জহিরুল ইসলাম (সর্বপিতা মৃত ইন্নছ আলী)। দলিলের গ্রহীতা ছিলেন একই গ্রামের মো. আছাব আলী (পিতা: মৃত লাল হোসেন)।

দলিল যাচাই-বাছাইয়ের সময় নামজারি ও বায়া দলিলের নকল কপি পর্যবেক্ষণে সাব-রেজিস্ট্রার দেখতে পান, উপস্থাপিত বায়া দলিলের নকলটি ভুয়া ও মনগড়া। এ বিষয়ে দলিল লেখক ও সংশ্লিষ্ট পক্ষদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৮ জুন ২০২৬ তারিখে রহিছ মিয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, তার কর্মকাণ্ড নিবন্ধন আইন, ১৯০৮, দলিল লেখক (সনদ) বিধিমালা, ২০১৪, জেলা রেজিস্ট্রারের ১৭ আগস্ট ২০২৫ তারিখের অফিস আদেশ এবং প্রচলিত আইন-বিধির পরিপন্থী। সাত কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দলিল মুসাবিদা, প্রস্তুত, লিখন, রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রমে সহায়তা, দলিলের নকল বা তথ্য সংগ্রহ, মূল দলিল ডেলিভারি ও আবেদনপত্র লিখনসহ সব ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। এদিকে রহিছ মিয়া ইতোমধ্যে নোটিশের জবাব দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, পদারকোনা মৌজার ২১০, ২৯৮ ও ৩৭৭ নম্বর বিএস/বিআরএস রেকর্ডভুক্ত জমির ক্ষেত্রে ১৯৮৫ ও ১৯৮৬ সালের তিনটি কথিত ভুয়া দলিল (নং-৩১৭, ৮০৫ ও ৪৯৯) ব্যবহার করে ১৩ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে ২৫-৬৪৩ নম্বর নামজারি খারিজ খতিয়ান খোলা হয়। দলিলের একজন গ্রহীতা মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, “আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। জমিটি মূলত আছাব আলীদের দখলে। তারাই কাগজপত্র ঠিক করেছে বলে আমাকে জানিয়েছে। এর বেশি আমার জানা নেই।” এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে দলিল লেখক রহিছ মিয়ার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে জানান। এরপর একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মো. জাহিদ হাসান বলেন, “বায়া দলিলের নকল কপি সম্পর্কে দলিল লেখক ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগণ সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হন। এজন্য রহিছ মিয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং সব ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। তিনি নোটিশের জবাব দিয়েছেন। বিষয়টি জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত জেলা রেজিস্ট্রার নেবেন।”

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যতবার ইচ্ছা হবে, যখন ইচ্ছা হবে, আমি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্যালুট জানাবো বললেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

মদনে ভুয়া বায়া দলিলে জমি রেজিস্ট্রি করার অভিযোগ: দলিল লেখক রহিছ মিয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

আপডেট সময় ১২:০৬:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ভুয়া বায়া দলিলের নকল ব্যবহার করে জমির দলিল রেজিস্ট্রেশনের চেষ্টা করার অভিযোগে দলিল লেখক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. রহিছ মিয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মো. জাহিদ হাসান। একই সঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাকে দলিল-সংক্রান্ত সব ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ রয়েছে, নোটিশ পাওয়ার পরও রহিছ মিয়া সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সামনে নিজ চেম্বারে বসে সহকারীদের মাধ্যমে দলিল-সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ জুন ২০২৬ তারিখে লেখক সনদ নম্বর-৪৪৭ধারী দলিল লেখক মো. রহিছ মিয়া একটি দলিল রেজিস্ট্রেশনের জন্য কার্যালয়ে উপস্থাপন করেন। দলিলের দাতাগণ ছিলেন নোয়াপাড়া গ্রামের ফৌজদার মিয়া, কিশোর মিয়া ও জহিরুল ইসলাম (সর্বপিতা মৃত ইন্নছ আলী)। দলিলের গ্রহীতা ছিলেন একই গ্রামের মো. আছাব আলী (পিতা: মৃত লাল হোসেন)।

দলিল যাচাই-বাছাইয়ের সময় নামজারি ও বায়া দলিলের নকল কপি পর্যবেক্ষণে সাব-রেজিস্ট্রার দেখতে পান, উপস্থাপিত বায়া দলিলের নকলটি ভুয়া ও মনগড়া। এ বিষয়ে দলিল লেখক ও সংশ্লিষ্ট পক্ষদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৮ জুন ২০২৬ তারিখে রহিছ মিয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, তার কর্মকাণ্ড নিবন্ধন আইন, ১৯০৮, দলিল লেখক (সনদ) বিধিমালা, ২০১৪, জেলা রেজিস্ট্রারের ১৭ আগস্ট ২০২৫ তারিখের অফিস আদেশ এবং প্রচলিত আইন-বিধির পরিপন্থী। সাত কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দলিল মুসাবিদা, প্রস্তুত, লিখন, রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রমে সহায়তা, দলিলের নকল বা তথ্য সংগ্রহ, মূল দলিল ডেলিভারি ও আবেদনপত্র লিখনসহ সব ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। এদিকে রহিছ মিয়া ইতোমধ্যে নোটিশের জবাব দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, পদারকোনা মৌজার ২১০, ২৯৮ ও ৩৭৭ নম্বর বিএস/বিআরএস রেকর্ডভুক্ত জমির ক্ষেত্রে ১৯৮৫ ও ১৯৮৬ সালের তিনটি কথিত ভুয়া দলিল (নং-৩১৭, ৮০৫ ও ৪৯৯) ব্যবহার করে ১৩ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে ২৫-৬৪৩ নম্বর নামজারি খারিজ খতিয়ান খোলা হয়। দলিলের একজন গ্রহীতা মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, “আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। জমিটি মূলত আছাব আলীদের দখলে। তারাই কাগজপত্র ঠিক করেছে বলে আমাকে জানিয়েছে। এর বেশি আমার জানা নেই।” এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে দলিল লেখক রহিছ মিয়ার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে জানান। এরপর একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মো. জাহিদ হাসান বলেন, “বায়া দলিলের নকল কপি সম্পর্কে দলিল লেখক ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগণ সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হন। এজন্য রহিছ মিয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং সব ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। তিনি নোটিশের জবাব দিয়েছেন। বিষয়টি জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত জেলা রেজিস্ট্রার নেবেন।”