ময়মনসিংহ , শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ করতে চায় যুক্তরাজ্য জানিয়েছেন মীর শাহে আলম স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকছে না, বৈধ হলেই প্রার্থী বলেছেন মীর শাহে আলম অবৈধ ড্রেজারে মাটি কাটা রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, পাইপ ও যন্ত্রপাতি জব্দ ও বিনষ্ট ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপ-নির্বাচন আগামী ২৯ অক্টোবর জানিয়েছেন ইসি সচিব ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ডিজিটাল পাল্লায় রশি বেঁধে ওজনে কারচুপি, ইলিশ ব্যবসায়ীর ১ লাখ টাকা জরিমানা বৃদ্ধ স্ত্রীকে কোলে নিয়ে খাবারের আকুতি: শেরপুর জেলা প্রশাসনের মানবিক সহায়তা খুলনার ভৈরব নদে ট্রলার-ফেরি সংঘর্ষ: আট দিন পর নিখোঁজ রাকিবের মরদেহ উদ্ধার, শোকাহত পরিবারের পাশে জেলা প্রশাসক কালিয়াকৈরে তীব্র গ্যাস সংকট: উৎপাদন ব্যাহত, দিশেহারা শিল্প মালিকরা নেত্রকোণায় জেলা প্রশাসকের সাপ্তাহিক গণশুনানি জনসাধারণের সমস্যা শুনে তাৎক্ষণিক সমাধান, কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ডোমারে পৃথক ঘটনায় যুবক ও অজ্ঞাতপরিচয়ের ব্যক্তির মৃত্যু
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

মদনে ভুয়া বায়া দলিলে জমি রেজিস্ট্রি করার অভিযোগ: দলিল লেখক রহিছ মিয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ভুয়া বায়া দলিলের নকল ব্যবহার করে জমির দলিল রেজিস্ট্রেশনের চেষ্টা করার অভিযোগে দলিল লেখক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. রহিছ মিয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মো. জাহিদ হাসান। একই সঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাকে দলিল-সংক্রান্ত সব ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ রয়েছে, নোটিশ পাওয়ার পরও রহিছ মিয়া সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সামনে নিজ চেম্বারে বসে সহকারীদের মাধ্যমে দলিল-সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ জুন ২০২৬ তারিখে লেখক সনদ নম্বর-৪৪৭ধারী দলিল লেখক মো. রহিছ মিয়া একটি দলিল রেজিস্ট্রেশনের জন্য কার্যালয়ে উপস্থাপন করেন। দলিলের দাতাগণ ছিলেন নোয়াপাড়া গ্রামের ফৌজদার মিয়া, কিশোর মিয়া ও জহিরুল ইসলাম (সর্বপিতা মৃত ইন্নছ আলী)। দলিলের গ্রহীতা ছিলেন একই গ্রামের মো. আছাব আলী (পিতা: মৃত লাল হোসেন)।

দলিল যাচাই-বাছাইয়ের সময় নামজারি ও বায়া দলিলের নকল কপি পর্যবেক্ষণে সাব-রেজিস্ট্রার দেখতে পান, উপস্থাপিত বায়া দলিলের নকলটি ভুয়া ও মনগড়া। এ বিষয়ে দলিল লেখক ও সংশ্লিষ্ট পক্ষদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৮ জুন ২০২৬ তারিখে রহিছ মিয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, তার কর্মকাণ্ড নিবন্ধন আইন, ১৯০৮, দলিল লেখক (সনদ) বিধিমালা, ২০১৪, জেলা রেজিস্ট্রারের ১৭ আগস্ট ২০২৫ তারিখের অফিস আদেশ এবং প্রচলিত আইন-বিধির পরিপন্থী। সাত কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দলিল মুসাবিদা, প্রস্তুত, লিখন, রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রমে সহায়তা, দলিলের নকল বা তথ্য সংগ্রহ, মূল দলিল ডেলিভারি ও আবেদনপত্র লিখনসহ সব ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। এদিকে রহিছ মিয়া ইতোমধ্যে নোটিশের জবাব দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, পদারকোনা মৌজার ২১০, ২৯৮ ও ৩৭৭ নম্বর বিএস/বিআরএস রেকর্ডভুক্ত জমির ক্ষেত্রে ১৯৮৫ ও ১৯৮৬ সালের তিনটি কথিত ভুয়া দলিল (নং-৩১৭, ৮০৫ ও ৪৯৯) ব্যবহার করে ১৩ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে ২৫-৬৪৩ নম্বর নামজারি খারিজ খতিয়ান খোলা হয়। দলিলের একজন গ্রহীতা মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, “আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। জমিটি মূলত আছাব আলীদের দখলে। তারাই কাগজপত্র ঠিক করেছে বলে আমাকে জানিয়েছে। এর বেশি আমার জানা নেই।” এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে দলিল লেখক রহিছ মিয়ার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে জানান। এরপর একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মো. জাহিদ হাসান বলেন, “বায়া দলিলের নকল কপি সম্পর্কে দলিল লেখক ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগণ সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হন। এজন্য রহিছ মিয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং সব ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। তিনি নোটিশের জবাব দিয়েছেন। বিষয়টি জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত জেলা রেজিস্ট্রার নেবেন।”

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ করতে চায় যুক্তরাজ্য জানিয়েছেন মীর শাহে আলম

মদনে ভুয়া বায়া দলিলে জমি রেজিস্ট্রি করার অভিযোগ: দলিল লেখক রহিছ মিয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

আপডেট সময় ১২:০৬:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ভুয়া বায়া দলিলের নকল ব্যবহার করে জমির দলিল রেজিস্ট্রেশনের চেষ্টা করার অভিযোগে দলিল লেখক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. রহিছ মিয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মো. জাহিদ হাসান। একই সঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাকে দলিল-সংক্রান্ত সব ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ রয়েছে, নোটিশ পাওয়ার পরও রহিছ মিয়া সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সামনে নিজ চেম্বারে বসে সহকারীদের মাধ্যমে দলিল-সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ জুন ২০২৬ তারিখে লেখক সনদ নম্বর-৪৪৭ধারী দলিল লেখক মো. রহিছ মিয়া একটি দলিল রেজিস্ট্রেশনের জন্য কার্যালয়ে উপস্থাপন করেন। দলিলের দাতাগণ ছিলেন নোয়াপাড়া গ্রামের ফৌজদার মিয়া, কিশোর মিয়া ও জহিরুল ইসলাম (সর্বপিতা মৃত ইন্নছ আলী)। দলিলের গ্রহীতা ছিলেন একই গ্রামের মো. আছাব আলী (পিতা: মৃত লাল হোসেন)।

দলিল যাচাই-বাছাইয়ের সময় নামজারি ও বায়া দলিলের নকল কপি পর্যবেক্ষণে সাব-রেজিস্ট্রার দেখতে পান, উপস্থাপিত বায়া দলিলের নকলটি ভুয়া ও মনগড়া। এ বিষয়ে দলিল লেখক ও সংশ্লিষ্ট পক্ষদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৮ জুন ২০২৬ তারিখে রহিছ মিয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, তার কর্মকাণ্ড নিবন্ধন আইন, ১৯০৮, দলিল লেখক (সনদ) বিধিমালা, ২০১৪, জেলা রেজিস্ট্রারের ১৭ আগস্ট ২০২৫ তারিখের অফিস আদেশ এবং প্রচলিত আইন-বিধির পরিপন্থী। সাত কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দলিল মুসাবিদা, প্রস্তুত, লিখন, রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রমে সহায়তা, দলিলের নকল বা তথ্য সংগ্রহ, মূল দলিল ডেলিভারি ও আবেদনপত্র লিখনসহ সব ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। এদিকে রহিছ মিয়া ইতোমধ্যে নোটিশের জবাব দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, পদারকোনা মৌজার ২১০, ২৯৮ ও ৩৭৭ নম্বর বিএস/বিআরএস রেকর্ডভুক্ত জমির ক্ষেত্রে ১৯৮৫ ও ১৯৮৬ সালের তিনটি কথিত ভুয়া দলিল (নং-৩১৭, ৮০৫ ও ৪৯৯) ব্যবহার করে ১৩ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে ২৫-৬৪৩ নম্বর নামজারি খারিজ খতিয়ান খোলা হয়। দলিলের একজন গ্রহীতা মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, “আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। জমিটি মূলত আছাব আলীদের দখলে। তারাই কাগজপত্র ঠিক করেছে বলে আমাকে জানিয়েছে। এর বেশি আমার জানা নেই।” এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে দলিল লেখক রহিছ মিয়ার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে জানান। এরপর একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মো. জাহিদ হাসান বলেন, “বায়া দলিলের নকল কপি সম্পর্কে দলিল লেখক ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগণ সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হন। এজন্য রহিছ মিয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং সব ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। তিনি নোটিশের জবাব দিয়েছেন। বিষয়টি জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত জেলা রেজিস্ট্রার নেবেন।”