নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ঢাকাসহ তিন জেলায় বিশেষ ‘পিংক বাস’ সেবা চালু করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)।
মন্ত্রী বলেন, নারী যাত্রীরা যেন এই বাসে চড়তে ও যাতায়াত করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। শুধু বাস চালু করলেই হবে না, পুরো সেবাটিকে সময়ের সঙ্গে আরও উন্নত করতে হবে।
বিআরটিসি ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মঙ্গলবার যে সেবা শুরু হলো, দুই মাস পর এর মান আরও বাড়াতে হবে। বিদ্যমান লজিস্টিক সহায়তা ও জনবল হয়তো নতুন ব্যবস্থার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত নাও থাকতে পারে। তবে প্রতিদিন ব্যবস্থাপনার উন্নতি করতে হবে।
নারী যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাতায়াতের পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা সরকার করবে এবং মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে দায়বদ্ধ থাকবে। এই উদ্যোগকে টেকসই রাখা, আরও সমৃদ্ধ করা এবং বিস্তৃত করাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ।
শেখ রবিউল আলম বলেন, নারী যাত্রীদের জন্য বাসে ওঠার আগের অপেক্ষার সময় থেকে শুরু করে বাসে ওঠা এবং বাস থেকে নামা পর্যন্ত পুরো যাত্রাটিই নিরাপদ ও যাত্রীবান্ধব করতে হবে। অপেক্ষার সময় অনেক নারী বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। বাসের ভেতরেও ব্যবস্থাপনার কারণে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। আবার বাস থেকে নামার সময়ও অনেক ক্ষেত্রে অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি হয়।
নারীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দেশের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। রাষ্ট্র বিনির্মাণে তাদের অবদান রয়েছে। ভোটারদেরও অর্ধেকের বেশি নারী। পরিবারের অর্থনীতিতেও নারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই নারীদের সক্ষমতাকে রাষ্ট্রের কাজে পুরোপুরি ব্যবহার করতে হলে তাদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বিআরটিসি জানিয়েছে, নারীবান্ধব ও নারী চালক দ্বারা পরিচালিত পরিবহনব্যবস্থা নিশ্চিত করা সরকারের অঙ্গীকারের অংশ। এর অংশ হিসেবে মোট ১৪টি বিশেষ বাস দিয়ে এই সেবা শুরু হয়েছে। ঢাকার ১০টি রুটে ১০টি বাস, চট্টগ্রামে দুটি রুটে দুটি এবং বগুড়ায় দুটি রুটে দুটি বাস চলবে। ঢাকার ১০টি বাসের মধ্যে একটি একতলা এবং নয়টি দ্বিতল।
আগামী দিনে এই সেবা আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, রুটের সংখ্যা ও বাসের সংখ্যা বাড়ানো হবে। বর্তমানে নারীরা যে পরিবেশে যাতায়াত করছেন, সেটিও ধীরে ধীরে আরও উন্নত করা হবে।
বিআরটিসির বর্তমান ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরে শেখ রবিউল আলম বলেন, বিআরটিসি বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ২০০ বা তার বেশি বাস পরিচালনা করছে। সংস্থাটি বর্তমানে লোকসানে নেই, বরং ব্রেক-ইভেন অবস্থায় রয়েছে।
মাল্টিমোডাল যোগাযোগব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ই-বাসকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলাও সরকারের অঙ্গীকারের অংশ।
তিনি জানান, ২০০টি ই-বাসের মধ্যে ১০০টি নারীদের জন্য বিভিন্ন রুটে রাখা হচ্ছে। এর ফলে নারী বাসসেবার রুট ও বাসের সংখ্যা আরও বাড়বে। বর্তমানে যেসব এলাকায় এই সেবা চালু হয়েছে, তার বাইরে ভবিষ্যতে অন্যান্য বিভাগেও এ সেবা সম্প্রসারণ করা হবে।
নারীবাস উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব, বিআরটিসি চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকায় বাসগুলো চলবে নাতুন বাজার (কোকা-কোলা)-মতিঝিল, তালতলা-মতিঝিল, ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার-জিপিও, মিরপুর ১০-মতিঝিল, মিরপুর-মতিঝিল, মিরপুর ১২-মতিঝিল, মোহাম্মদপুর-মতিঝিল, আবদুল্লাহপুর-মতিঝিল এবং গাজীপুর-এবিআর-এর কর্মকর্তারা।
অন্য রুটগুলো হলো নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা, বগুড়ার শেরপুর-মাটিডালি এবং চট্টগ্রামের কালুরঘাট-পতেঙ্গা।

ডিজিটাল রিপোর্ট 






















