ময়মনসিংহ , শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
মক্কা প্যাক্টে যোগদান বাংলাদেশের নিজস্ব বিষয় বলেছেন জামায়াত আমির সরকার সার সংকটের অভিযোগ এড়াতে চাইছে বলে মন্তব্য করেছেন নাহিদ ইসলাম এক স্থানে ডিলার পয়েন্ট, অন্য স্থানে গুদাম: পীরগঞ্জে সার কিনতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে কৃষকরা কেরানীগঞ্জে ৬০ পুরিয়া হেরোইনসহ শীর্ষ মাদক কারবারি গ্রেফতার সীমান্তে বিজিবির কঠোর অভিযান: উদ্ধার ৫ হাজার পিস ভারতীয় ইলেকট্রিক রেজিস্টর যুব উন্নয়ন ও মানবিক সেবায় পূর্বধলায় স্বর্ণ সুধা যুব উন্নয়ন সমিতি ময়মনসিংহের গৌরীপুরে গুজিখার কেরামতিয়া মসজিদের উদ্যোগে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে জশনে জুলুস ও আনন্দ মিছিল অনুষ্ঠিত নেপালে ত্রাণ-উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তার জন্য প্রস্তুত বাংলাদেশ জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশায় বিশ্ববাজারে ফের কমল জ্বালানি তেলের দাম আজ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

বাবা ও মাকে নিয়ে কিছু কথা

মা আমাদের শরীর গঠন করেন, আর বাবা গঠন করেন আমাদের ভবিষ্যৎ। মায়ের গর্ভে ৯ মাসের আশ্রয়, আর বাবার কাঁধে চেপে ছিলাম বছরের পর বছর শুধু তাঁর শ্রম, ঘাম, দায়িত্বের উপর ভর করেই হাঁটতে শিখেছি জীবনের পথে।

মা প্রতিদিন বিনা বেতনে রান্না ঘরে কাজ করেন, আর বাবা মাসের শেষ কয়েনটাও আমাদের হাসির জন্য খরচ করে দেন। তবুও ভালোবাসার প্রকাশে মা যেনো রঙিন আকাশ,
আর বাবা হন সেই নীরব বাতাস, যার অস্তিত্ব টের পাই তখনই, যখন তিনি একটু কম থাকেন। মা আমাদের প্রিয় খাবার নিজের হাতে রান্না করেন, আর বাবা দোকান ঘুরে ঘুরে সেটা খুঁজে এনে দেন। কিন্তু কৃতিত্বটুকু দেন মায়েরই হাতে। মায়ের ভালোবাসা চোখে পড়ে, বাবার ভালোবাসা থাকে মাটির নিচে শিকড় হয়ে যা না দেখলেও বোঝা যায়, তাঁর কারণেই আমরা শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছি।

ফোনে কথা বলার সময় প্রথমে মায়ের খোঁজ নিই, মায়ের কাঁধে কাঁদতে পারি, কিন্তু বাবা কেবল দরজার কাছে দাঁড়িয়ে থাকেন চোখে হয়তো হাজার কথা, মুখে কোনো শব্দ নেই। সন্তান কষ্ট পেলে তিনিও কষ্ট পান, কিন্তু কষ্টের ভাষা কখনো শিখেননি তিনি। মায়ের আলমারিতে আছে রঙিন শাড়ি, বাচ্চাদের জামার আলমারি সাজানো, আর বাবার আলমারিতে সেই পুরোনো কিছু জামা যা কিনতে গিয়ে তিনি নিজের নতুন কিছু চাওয়া ভুলে গেছেন।

মায়ের গয়নার বাক্সে সোনা রুপা, আর বাবার আঙুলে বিয়ের সময়ের সেই একমাত্র আংটি যা কখনো খোলেন না, কারণ তাতেই জড়িয়ে আছে সব দায়িত্ব, প্রতিশ্রুতি। বাবা সকালে বের হন, রোদ, বৃষ্টি, ক্লান্তি উপেক্ষা করে ফিরে আসেন রাতে, শুধু সন্তানদের মুখ দেখেই প্রাণ ফিরে পান। শ্রান্ত মুখে থাকে তৃপ্তির হাসি, কারণ পরিবারের সুখটাই তাঁর সবচেয়ে বড় অর্জন।

কখনো কোনো স্বীকৃতি চান না, চোখে জল আসলেও লুকিয়ে ফেলেন, কারণ তিনি জানেন বাবা কখনো কাঁদে না, বাবা ভেঙে পড়ে না, বাবাতো পাহাড়, মেরুদণ্ড, আশ্রয়। বয়সের ভারে একদিন তিনিও ক্লান্ত হয়ে পড়েন, তখন সন্তান ভাবে, মা ঘরের কাজে সাহায্য করেন, কিন্তু বাবা আর কিছুই করতে পারেন না। কেউ ভাবে না, তিনিই তো একদিন সবকিছু করেছিলেন। বাবা যেন সেই বাতিঘর, যিনি নিজের আলোতে নয়, অন্যদের পথ দেখাতে নিজেকে পোড়ান।

তাই বলি, বাবা পিছিয়ে থাকেন না, তিনি সামনে আসেন না, কারণ তিনি জানেন, ভালোবাসা প্রমাণে নয়, দায়িত্বে প্রকাশ পায়। আর তিনিই সেই মানুষ, যিনি নীরব থেকেও পুরো সংসারটা আগলে রাখেন। “শ্রদ্ধা হোক বাবার প্রতি যে নীরব থেকে সবকিছু দেন, কিন্তু কিছুই কখনো চান না।”

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মক্কা প্যাক্টে যোগদান বাংলাদেশের নিজস্ব বিষয় বলেছেন জামায়াত আমির

বাবা ও মাকে নিয়ে কিছু কথা

আপডেট সময় ০৯:১২:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

মা আমাদের শরীর গঠন করেন, আর বাবা গঠন করেন আমাদের ভবিষ্যৎ। মায়ের গর্ভে ৯ মাসের আশ্রয়, আর বাবার কাঁধে চেপে ছিলাম বছরের পর বছর শুধু তাঁর শ্রম, ঘাম, দায়িত্বের উপর ভর করেই হাঁটতে শিখেছি জীবনের পথে।

মা প্রতিদিন বিনা বেতনে রান্না ঘরে কাজ করেন, আর বাবা মাসের শেষ কয়েনটাও আমাদের হাসির জন্য খরচ করে দেন। তবুও ভালোবাসার প্রকাশে মা যেনো রঙিন আকাশ,
আর বাবা হন সেই নীরব বাতাস, যার অস্তিত্ব টের পাই তখনই, যখন তিনি একটু কম থাকেন। মা আমাদের প্রিয় খাবার নিজের হাতে রান্না করেন, আর বাবা দোকান ঘুরে ঘুরে সেটা খুঁজে এনে দেন। কিন্তু কৃতিত্বটুকু দেন মায়েরই হাতে। মায়ের ভালোবাসা চোখে পড়ে, বাবার ভালোবাসা থাকে মাটির নিচে শিকড় হয়ে যা না দেখলেও বোঝা যায়, তাঁর কারণেই আমরা শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছি।

ফোনে কথা বলার সময় প্রথমে মায়ের খোঁজ নিই, মায়ের কাঁধে কাঁদতে পারি, কিন্তু বাবা কেবল দরজার কাছে দাঁড়িয়ে থাকেন চোখে হয়তো হাজার কথা, মুখে কোনো শব্দ নেই। সন্তান কষ্ট পেলে তিনিও কষ্ট পান, কিন্তু কষ্টের ভাষা কখনো শিখেননি তিনি। মায়ের আলমারিতে আছে রঙিন শাড়ি, বাচ্চাদের জামার আলমারি সাজানো, আর বাবার আলমারিতে সেই পুরোনো কিছু জামা যা কিনতে গিয়ে তিনি নিজের নতুন কিছু চাওয়া ভুলে গেছেন।

মায়ের গয়নার বাক্সে সোনা রুপা, আর বাবার আঙুলে বিয়ের সময়ের সেই একমাত্র আংটি যা কখনো খোলেন না, কারণ তাতেই জড়িয়ে আছে সব দায়িত্ব, প্রতিশ্রুতি। বাবা সকালে বের হন, রোদ, বৃষ্টি, ক্লান্তি উপেক্ষা করে ফিরে আসেন রাতে, শুধু সন্তানদের মুখ দেখেই প্রাণ ফিরে পান। শ্রান্ত মুখে থাকে তৃপ্তির হাসি, কারণ পরিবারের সুখটাই তাঁর সবচেয়ে বড় অর্জন।

কখনো কোনো স্বীকৃতি চান না, চোখে জল আসলেও লুকিয়ে ফেলেন, কারণ তিনি জানেন বাবা কখনো কাঁদে না, বাবা ভেঙে পড়ে না, বাবাতো পাহাড়, মেরুদণ্ড, আশ্রয়। বয়সের ভারে একদিন তিনিও ক্লান্ত হয়ে পড়েন, তখন সন্তান ভাবে, মা ঘরের কাজে সাহায্য করেন, কিন্তু বাবা আর কিছুই করতে পারেন না। কেউ ভাবে না, তিনিই তো একদিন সবকিছু করেছিলেন। বাবা যেন সেই বাতিঘর, যিনি নিজের আলোতে নয়, অন্যদের পথ দেখাতে নিজেকে পোড়ান।

তাই বলি, বাবা পিছিয়ে থাকেন না, তিনি সামনে আসেন না, কারণ তিনি জানেন, ভালোবাসা প্রমাণে নয়, দায়িত্বে প্রকাশ পায়। আর তিনিই সেই মানুষ, যিনি নীরব থেকেও পুরো সংসারটা আগলে রাখেন। “শ্রদ্ধা হোক বাবার প্রতি যে নীরব থেকে সবকিছু দেন, কিন্তু কিছুই কখনো চান না।”