ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় কৃত্রিম সার সংকট তৈরি ও নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে চড়া দামে সার বিক্রির পেছনে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকার তীব্র অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী অনুমোদিত ডিলারদের নির্ধারিত এলাকাতেই সার বিক্রি ও সংরক্ষণ করার কথা থাকলেও পীরগঞ্জে মানা হচ্ছে না কোনো নিয়মকানুন। ডিলার পয়েন্ট এক জায়গায় রেখে অন্য স্থানে গুদাম বানিয়ে অবাধে পরিচালনা করা হচ্ছে অসাধু এই ব্যবসা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার নসিবগঞ্জ এলাকায় ডিলার পয়েন্ট থাকা সত্ত্বেও ‘নালু’ নামের এক ডিলারের একাধিক সারের গুদাম পরিচালিত হচ্ছে পীরগঞ্জ স্টেশন সংলগ্ন এলাকায়। অন্যদিকে ৮ নম্বর ওয়ার্ড/ইউনিয়ন এলাকায় ডিলার পয়েন্ট থাকার কথা থাকলেও ডিলার ‘শাহিন’ তার সারের ব্যবসা পরিচালনা করছেন মাইক্রোস্ট্যান্ড এলাকায়। একইভাবে ১১ নম্বর বৈরচুনা ইউনিয়নে ডিলার পয়েন্ট থাকলেও ‘জীবন’ নামের অপর ডিলারের সারের গুদাম গড়ে তোলা হয়েছে ঢাকাইয়া পট্টিতে। এসব অনিয়ম ও মনগড়া কার্যক্রম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামপর্যায়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে প্রান্তিক কৃষকদের জিম্মি করা হচ্ছে। বাধ্য হয়ে কৃষকরা চড়া দামে সার কিনছেন। এছাড়া আরও অভিযোগ রয়েছে, অনেক লাইসেন্সধারী ডিলার নিজেরা সার উত্তোলন না করে মোটা অংকের কমিশনের বিনিময়ে তা অন্য ব্যক্তিদের কাছে তুলে দিচ্ছেন। ফলে অসাধু ব্যবসায়ীরা নিজেদের ইচ্ছামতো সারের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে।
এ নিয়ে জনমনে একাধিক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—
নানুর ডিলার পয়েন্ট নসিবগঞ্জে হওয়া সত্ত্বেও পীরগঞ্জ স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় এতগুলো গুদাম কেন?
শাহিনের ডিলার পয়েন্ট ৮ নম্বরে না থাকা সত্ত্বেও তিনি কেন মাইক্রোস্ট্যান্ড এলাকায় ব্যবসা করছেন?
জীবনের ডিলার পয়েন্ট ১১ নম্বর বৈরচুনা ইউনিয়নে হলেও তার সারের গুদাম ঢাকাইয়া পট্টিতে কেন?
ডিলার হয়েও যারা নিজেরা সার উত্তোলন না করে কমিশন সিস্টেমে অন্যদের দিয়ে ব্যবসা করাচ্ছেন, তাদের বিষয়ে প্রশাসনিক পদক্ষেপ কোথায়?
ভুক্তভোগী কৃষকদের দাবি, সরকারি নিয়ম মেনে ডিলার পয়েন্ট টু পয়েন্ট সারের হিসাব বুঝে নেওয়া হোক। সিন্ডিকেট চক্রের বহুদিনের এই অনিয়ম ও অন্যায্য কারসাজি বন্ধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ এবং বাজার ব্যবস্থার জরুরি সংস্কার প্রয়োজন।

স্টাফ রিপোর্টার 




















