ময়মনসিংহ , রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আটঘরিয়া উপজেলার নামকরণের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস নেত্রকোণার মদনে বিদ্যালয় ভবন রক্ষা প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের নির্দেশ ডিসির পূর্বধলার ঘাগড়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় হাফেজ শফিউল আলম শামীম চাঁপাইনবাবগঞ্জে তিন উন্নয়ন প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকদের মধ্যে অধিগ্রহণের চেক বিতরণ করা হয়েছে কাঁঠালিয়ায় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ৪৭ পূজামণ্ডপে চাল বিতরণ বিরামপুরে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসে র্যালি ও আলোচনা সভা হারানো বিজ্ঞপ্তি ট্যুরিস্ট ক্লাব অব সিলেটের পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন ইউজিসি সদস্যের বাউবির রংপুর আঞ্চলিক কেন্দ্র পরিদর্শন, কর্মকর্তা—কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় পঞ্চগড়ে গোপন ভিডিও দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ২
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

আটঘরিয়া উপজেলার নামকরণের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

পাবনা জেলার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত আটঘরিয়া উপজেলা ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিতে সমৃদ্ধ একটি অঞ্চল। নিচে এর নামকরণের বিস্তৃত পটভূমি,

প্রশাসনিক ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের ঘটনা এবং প্রধান দর্শনীয় স্থানগুলোর বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হলো:

নামকরণ ও প্রাচীন পটভূমি

* আট ঘর বসতির জনশ্রুতি:
আটঘরিয়া নামকরণের সবচেয়ে প্রচলিত এবং শক্তিশালী ইতিহাস হলো প্রাচীন আমলে এই জনপদে সর্ব প্রথম আটজন ব্যক্তি বা আটটি পরিবার এসে তাদের বসতবাড়ি বা ঘর নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেছিলেন। এই ‘আটটি ঘর’ বা আট ঘর বসতিকে কেন্দ্র করেই এলাকাটি লোকমুখে ‘আটঘরিয়া’ নামে পরিচিতি লাভ করে।

* প্রশাসনিক উৎপত্তি:
অতীতে এই অঞ্চলে চোর-ডাকাতের চরম উপদ্রব ছিল। বিশেষ করে চলনবিল এলাকার ডাকাতদল রত্নাই ও চন্দ্রাবতী নদী ব্যবহার করে এ অঞ্চলে এসে জান-মালের ক্ষতি করত। এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্রিটিশ আমলে প্রথমে এখানে একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা হয়।

পরবর্তীতে মৃত: লালন সিংহের স্ত্রী মাতঙ্গিনী সিংহ ফাঁড়ির জন্য ১১ বিঘা জমি দান করলে ১৯২৮ সালের ১৬ অক্টোবর আটঘরিয়া পূর্ণাঙ্গ থানা হিসেবে যাত্রা শুরু করে। পরবর্তীতে ১৯৮৩ সালে এটি উপজেলায় রূপান্তরিত হয়।

মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাস

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আটঘরিয়া এক ঐতিহাসিক ও রক্তক্ষয়ী অধ্যায়ের সাক্ষী। ৭ই মার্চের ভাষণের পর থেকেই এখানকার ছাত্র, যুবক ও সাধারণ জনতা মুক্তিযুদ্ধের জন্য ঐক্যবদ্ধ হতে শুরু করে।

* বংশীপাড়া সম্মুখ যুদ্ধ (৬ নভেম্বর ১৯৭১): আটঘরিয়ার মাজপাড়া ইউনিয়নের বংশীপাড়া গ্রামে চন্দ্রাবতী নদীর তীরে পাবনা জেলার সবচেয়ে বড় ও ভয়াবহ সম্মুখ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। ভারত থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল এই অঞ্চলে অবস্থান করছিল। ৬ই নভেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের তুমুল যুদ্ধ বাধে।

* ক্ষয়ক্ষতি ও সাহসিকতা: এই সম্মুখ যুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন কর্নেল তাহেরসহ প্রায় ১৩ জন সেনা নিহত হয়। তবে দেশের জন্য প্রাণ উৎসর্গ করেন ১৩ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ৭ জন নিরীহ গ্রামবাসী শাহাদাত বরণ করেন। এই ঐতিহাসিক যুদ্ধকে স্মরণীয় করে রাখতে সেখানে বংশীপাড়া স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়েছে।

ঐতিহাসিক পুরাকীর্তি ও দর্শনীয় স্থান

আটঘরিয়া মূলত কৃষি প্রধান অঞ্চল হলেও এখানে বেশ কিছু প্রাচীন ঐতিহ্য ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন রয়েছে:

১. বংশীপাড়া স্মৃতিসৌধ:
চন্দ্রাবতী নদীর পাড়ে অবস্থিত মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত প্রধান ঐতিহাসিক স্থান।

২. গোড়রী আদি দুর্গা মন্দির: দেবোত্তর ইউনিয়নের গোড়রী গ্রামে অবস্থিত অত্যন্ত প্রাচীন ও ঐতিহাসিক একটি মন্দির।

৩. মৃধার মসজিদ (শাহী মসজিদ) ও খানবাড়ি মসজিদ: মাজপাড়া গ্রামে অবস্থিত মুসলিম স্থাপত্যের প্রাচীন নিদর্শন।

৪. জমিদার বাড়ি ও কাচারিবাড়ি: চাঁদভা ইউনিয়নের চন্দ্রনাথ সেনের জমিদার বাড়ি, দেবোত্তর জমিদার বাড়ি এবং খিদিরপুরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী রানি ভবানীর কাচারিবাড়ি এখানকার সোনালি অতীতের সাক্ষী বহন করে।

১৯৭১ সালের ৬ই নভেম্বর পাবনা জেলার আটঘরিয়া উপজেলার মাজপাড়া ইউনিয়নের বংশীপাড়া গ্রামে চন্দ্রাবতী নদীর তীরে পাকিস্তানি হানাদারদের সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের যে রক্তক্ষয়ী সম্মুখ যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল, তাঁর বীর শহীদদের তালিকা এবং এই ঐতিহাসিক স্থানসহ অন্যান্য দর্শনীয় স্থানে যাওয়ার বিস্তারিত যাতায়াত ব্যবস্থা নিচে দেওয়া হলো:

বংশীপাড়া সম্মুখ যুদ্ধের বীর শহীদদের তালিকা

বংশীপাড়া সম্মুখ যুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর ক্যাপ্টেন কর্নেল তাহেরসহ প্রায় ৩০ জন সেনা নিহত হয় । তবে এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে সম্মুখ সমরে বীরত্বের সাথে লড়াই করে ঘটনাস্থলেই ১০ জন বীর মুক্তিসেনা শাহাদাত বরণ করেন। তাঁদের নাম নিম্নরূপ:
১. শহীদ আবুল কাশেম।
২. শহীদ আব্দুল খালেক।
৩. শহীদ ইউনুছ আলী।
৪. শহীদ নায়েব আলী।
৫. শহীদ আব্দুর রশিদ।
৬. শহীদ আব্দুল মালেক।
৭. শহীদ শহিদুল ইসলাম।
৮. শহীদ আব্দুস সাত্তার।
৯. শহীদ মনছুর আলী।
১০. শহীদ আব্দুর রাজ্জাক।
(এছাড়াও যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে ও ওই অঞ্চলের আশপাশে আরও বেশ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা ও নিরীহ গ্রামবাসী শহীদ হন)।

দর্শনীয় স্থানসমূহের যাতায়াত ব্যবস্থা

ঢাকা কিংবা দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে আটঘরিয়া উপজেলার দর্শনীয় স্থানগুলো দেখতে হলে প্রথমে আপনাকে পাবনা জেলা শহরে আসতে হবে।

১. বংশীপাড়া স্মৃতিসৌধ

* অবস্থান: মাজপাড়া ইউনিয়নের বংশীপাড়া গ্রাম।
* কীভাবে যাবেন: পাবনা শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল অথবা আব্দুল হামিদ রোড থেকে প্রথমে বাস, সিএনজি বা অটোরিকশা যোগে দেবোত্তর বাজারে আসতে হবে (দূরত্ব প্রায় ১৩ কিলোমিটার)। এরপর দেবোত্তর বাজার থেকে স্থানীয় ইঞ্জিন চালিত ভ্যান অথবা ইজিবাইক নিয়ে ১০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিলেই বংশীপাড়া স্মৃতিসৌধে পৌঁছানো যায়।

২. চন্দ্রনাথ সেনের জমিদার বাড়ি

* অবস্থান: চাঁদভা ইউনিয়ন।
* কীভাবে যাবেন: পাবনা জেলা শহর থেকে সিএনজি বা লোকাল বাসে চড়ে প্রথমে আসতে হবে আটঘরিয়া বাজারে। আটঘরিয়া বাজার থেকে সরাসরি ইজিবাইক বা ভ্যান যোগে সোজা চাঁদভা বাজারে নামতে হবে। চাঁদভা বাজারের সাথেই এই প্রাচীন জমিদার বাড়িটি অবস্থিত।

৩. মৃধার মসজিদ (শাহী মসজিদ)

* অবস্থান: মাজপাড়া গ্রাম।
* কীভাবে যাবেন: পাবনা শহর থেকে আটঘরিয়াগামী সিএনজি বা বাসে করে টেবুনিয়া হয়ে মাজপাড়া ইউনিয়নে পৌঁছানো যায়। সেখান থেকে লোকাল ভ্যান বা রিকশায় সহজেই এই ঐতিহাসিক প্রাচীন মসজিদে যাওয়া যায়।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আটঘরিয়া উপজেলার নামকরণের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

আটঘরিয়া উপজেলার নামকরণের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

আপডেট সময় ০১:২২:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

পাবনা জেলার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত আটঘরিয়া উপজেলা ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিতে সমৃদ্ধ একটি অঞ্চল। নিচে এর নামকরণের বিস্তৃত পটভূমি,

প্রশাসনিক ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের ঘটনা এবং প্রধান দর্শনীয় স্থানগুলোর বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হলো:

নামকরণ ও প্রাচীন পটভূমি

* আট ঘর বসতির জনশ্রুতি:
আটঘরিয়া নামকরণের সবচেয়ে প্রচলিত এবং শক্তিশালী ইতিহাস হলো প্রাচীন আমলে এই জনপদে সর্ব প্রথম আটজন ব্যক্তি বা আটটি পরিবার এসে তাদের বসতবাড়ি বা ঘর নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেছিলেন। এই ‘আটটি ঘর’ বা আট ঘর বসতিকে কেন্দ্র করেই এলাকাটি লোকমুখে ‘আটঘরিয়া’ নামে পরিচিতি লাভ করে।

* প্রশাসনিক উৎপত্তি:
অতীতে এই অঞ্চলে চোর-ডাকাতের চরম উপদ্রব ছিল। বিশেষ করে চলনবিল এলাকার ডাকাতদল রত্নাই ও চন্দ্রাবতী নদী ব্যবহার করে এ অঞ্চলে এসে জান-মালের ক্ষতি করত। এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্রিটিশ আমলে প্রথমে এখানে একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা হয়।

পরবর্তীতে মৃত: লালন সিংহের স্ত্রী মাতঙ্গিনী সিংহ ফাঁড়ির জন্য ১১ বিঘা জমি দান করলে ১৯২৮ সালের ১৬ অক্টোবর আটঘরিয়া পূর্ণাঙ্গ থানা হিসেবে যাত্রা শুরু করে। পরবর্তীতে ১৯৮৩ সালে এটি উপজেলায় রূপান্তরিত হয়।

মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাস

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আটঘরিয়া এক ঐতিহাসিক ও রক্তক্ষয়ী অধ্যায়ের সাক্ষী। ৭ই মার্চের ভাষণের পর থেকেই এখানকার ছাত্র, যুবক ও সাধারণ জনতা মুক্তিযুদ্ধের জন্য ঐক্যবদ্ধ হতে শুরু করে।

* বংশীপাড়া সম্মুখ যুদ্ধ (৬ নভেম্বর ১৯৭১): আটঘরিয়ার মাজপাড়া ইউনিয়নের বংশীপাড়া গ্রামে চন্দ্রাবতী নদীর তীরে পাবনা জেলার সবচেয়ে বড় ও ভয়াবহ সম্মুখ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। ভারত থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল এই অঞ্চলে অবস্থান করছিল। ৬ই নভেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের তুমুল যুদ্ধ বাধে।

* ক্ষয়ক্ষতি ও সাহসিকতা: এই সম্মুখ যুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন কর্নেল তাহেরসহ প্রায় ১৩ জন সেনা নিহত হয়। তবে দেশের জন্য প্রাণ উৎসর্গ করেন ১৩ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ৭ জন নিরীহ গ্রামবাসী শাহাদাত বরণ করেন। এই ঐতিহাসিক যুদ্ধকে স্মরণীয় করে রাখতে সেখানে বংশীপাড়া স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়েছে।

ঐতিহাসিক পুরাকীর্তি ও দর্শনীয় স্থান

আটঘরিয়া মূলত কৃষি প্রধান অঞ্চল হলেও এখানে বেশ কিছু প্রাচীন ঐতিহ্য ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন রয়েছে:

১. বংশীপাড়া স্মৃতিসৌধ:
চন্দ্রাবতী নদীর পাড়ে অবস্থিত মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত প্রধান ঐতিহাসিক স্থান।

২. গোড়রী আদি দুর্গা মন্দির: দেবোত্তর ইউনিয়নের গোড়রী গ্রামে অবস্থিত অত্যন্ত প্রাচীন ও ঐতিহাসিক একটি মন্দির।

৩. মৃধার মসজিদ (শাহী মসজিদ) ও খানবাড়ি মসজিদ: মাজপাড়া গ্রামে অবস্থিত মুসলিম স্থাপত্যের প্রাচীন নিদর্শন।

৪. জমিদার বাড়ি ও কাচারিবাড়ি: চাঁদভা ইউনিয়নের চন্দ্রনাথ সেনের জমিদার বাড়ি, দেবোত্তর জমিদার বাড়ি এবং খিদিরপুরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী রানি ভবানীর কাচারিবাড়ি এখানকার সোনালি অতীতের সাক্ষী বহন করে।

১৯৭১ সালের ৬ই নভেম্বর পাবনা জেলার আটঘরিয়া উপজেলার মাজপাড়া ইউনিয়নের বংশীপাড়া গ্রামে চন্দ্রাবতী নদীর তীরে পাকিস্তানি হানাদারদের সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের যে রক্তক্ষয়ী সম্মুখ যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল, তাঁর বীর শহীদদের তালিকা এবং এই ঐতিহাসিক স্থানসহ অন্যান্য দর্শনীয় স্থানে যাওয়ার বিস্তারিত যাতায়াত ব্যবস্থা নিচে দেওয়া হলো:

বংশীপাড়া সম্মুখ যুদ্ধের বীর শহীদদের তালিকা

বংশীপাড়া সম্মুখ যুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর ক্যাপ্টেন কর্নেল তাহেরসহ প্রায় ৩০ জন সেনা নিহত হয় । তবে এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে সম্মুখ সমরে বীরত্বের সাথে লড়াই করে ঘটনাস্থলেই ১০ জন বীর মুক্তিসেনা শাহাদাত বরণ করেন। তাঁদের নাম নিম্নরূপ:
১. শহীদ আবুল কাশেম।
২. শহীদ আব্দুল খালেক।
৩. শহীদ ইউনুছ আলী।
৪. শহীদ নায়েব আলী।
৫. শহীদ আব্দুর রশিদ।
৬. শহীদ আব্দুল মালেক।
৭. শহীদ শহিদুল ইসলাম।
৮. শহীদ আব্দুস সাত্তার।
৯. শহীদ মনছুর আলী।
১০. শহীদ আব্দুর রাজ্জাক।
(এছাড়াও যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে ও ওই অঞ্চলের আশপাশে আরও বেশ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা ও নিরীহ গ্রামবাসী শহীদ হন)।

দর্শনীয় স্থানসমূহের যাতায়াত ব্যবস্থা

ঢাকা কিংবা দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে আটঘরিয়া উপজেলার দর্শনীয় স্থানগুলো দেখতে হলে প্রথমে আপনাকে পাবনা জেলা শহরে আসতে হবে।

১. বংশীপাড়া স্মৃতিসৌধ

* অবস্থান: মাজপাড়া ইউনিয়নের বংশীপাড়া গ্রাম।
* কীভাবে যাবেন: পাবনা শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল অথবা আব্দুল হামিদ রোড থেকে প্রথমে বাস, সিএনজি বা অটোরিকশা যোগে দেবোত্তর বাজারে আসতে হবে (দূরত্ব প্রায় ১৩ কিলোমিটার)। এরপর দেবোত্তর বাজার থেকে স্থানীয় ইঞ্জিন চালিত ভ্যান অথবা ইজিবাইক নিয়ে ১০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিলেই বংশীপাড়া স্মৃতিসৌধে পৌঁছানো যায়।

২. চন্দ্রনাথ সেনের জমিদার বাড়ি

* অবস্থান: চাঁদভা ইউনিয়ন।
* কীভাবে যাবেন: পাবনা জেলা শহর থেকে সিএনজি বা লোকাল বাসে চড়ে প্রথমে আসতে হবে আটঘরিয়া বাজারে। আটঘরিয়া বাজার থেকে সরাসরি ইজিবাইক বা ভ্যান যোগে সোজা চাঁদভা বাজারে নামতে হবে। চাঁদভা বাজারের সাথেই এই প্রাচীন জমিদার বাড়িটি অবস্থিত।

৩. মৃধার মসজিদ (শাহী মসজিদ)

* অবস্থান: মাজপাড়া গ্রাম।
* কীভাবে যাবেন: পাবনা শহর থেকে আটঘরিয়াগামী সিএনজি বা বাসে করে টেবুনিয়া হয়ে মাজপাড়া ইউনিয়নে পৌঁছানো যায়। সেখান থেকে লোকাল ভ্যান বা রিকশায় সহজেই এই ঐতিহাসিক প্রাচীন মসজিদে যাওয়া যায়।