ময়মনসিংহ , মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এই দেশে আর নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা স্টার্টআপে ৫ লাখ থেকে ৫ কোটি টাকা সহায়তা দেবে সরকার জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ কাতারের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন ‘তুমি কে, আমি কে, ফার্মের মুরগি’—স্লোগানে উত্তাল সায়েন্সল্যাব এলাকা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ নতুন দায়িত্বে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১০১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নীত হচ্ছে শ্রমিক ইউনিয়নের দ্বন্দ্বে স্থবির রাজশাহী, বন্ধ অভ্যন্তরীণ সব রুটের বাস সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রমের আওতায় মৌলিক দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান প্রশ্নে ত্রুটি থাকলে পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে জানিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

আজ বছরের দীর্ঘতম দিন

এক পাশে যখন সূর্যের আলোয় ভাসছে দিগন্ত, অন্য পাশে তখন ভর করেছে বছরের দীর্ঘতম অন্ধকার। আজ ২১ জুন। মহাজাগতিক এক অদ্ভুত বৈপরীত্যের সাক্ষী হচ্ছে পুরো পৃথিবী। বাংলাদেশসহ উত্তর গোলার্ধের কোটি কোটি মানুষ যখন আজ উপভোগ করছেন বছরের দীর্ঘতম দিন, ঠিক তখনই বিষুবরেখার ওপারে দক্ষিণ গোলার্ধে নেমে এসেছে বছরের দীর্ঘতম ও অন্ধকারতম রাত।

 

জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় এই বিশেষ দিনটিকে বলা হয় গ্রীষ্মকালীন অয়নান্ত বা ‘সামার সলস্টিস’। প্রতিবছর ২১ জুন এই ভৌগোলিক ঘটনাটি ঘটে। আজ ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় দিনের আলো প্রায় ১৩ ঘণ্টা স্থায়ী হবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। অর্থাৎ, আজ সূর্য আকাশে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে আলো ছড়াবে, যার ফলে রাত হবে বছরের সবচেয়ে ছোট।

কিন্তু কেন প্রকৃতির এই অদ্ভুত আচরণ? স্মিথসোনিয়ান সায়েন্স এডুকেশন সেন্টারের তথ্য অনুসারে, পৃথিবী তার অক্ষের ওপর ২৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি কোণে হেলে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। এই ঘূর্ণনের কারণে বছরের এই সময়ে পৃথিবীর উত্তর মেরু সূর্যের দিকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকে থাকে। ফলে উত্তর গোলার্ধে সূর্যরশ্মি দীর্ঘ সময় ধরে পড়ে এবং দিন বড় হয়। অন্যদিকে দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলো সূর্য থেকে দূরে হেলে থাকায় সেখানে আজ ক্ষুদ্রতম দিন ও দীর্ঘতম রাত, যা তাদের জন্য শীতকালীন সোলস্টাইস বা মকরক্রান্তির সূচনা।

বছরের এই বিশেষ দিনটিকে কেন্দ্র করে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে প্রাচীনকাল থেকেই নানা উৎসব ও ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালিত হয়ে আসছে। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যের স্টোনহেঞ্জ অন্যতম। বিশেষ করে প্রাচীন প্যাগান ও ড্রুইড ধর্মের অনুসারীদের কাছে এই দিনটির গুরুত্ব অপরিসীম।

যুক্তরাজ্যের উইল্টশায়ারে খ্রিষ্টপূর্ব ৩১০০ থেকে ১৬০০ অব্দের মধ্যে নির্মিত প্রাগৈতিহাসিক পাথরের স্মৃতিস্তম্ভ স্টোনহেঞ্জে প্রতিবছর এই দিনে হাজার হাজার মানুষ সমবেত হন। এই প্রাচীন পাথরের বৃত্তটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল, যা সূর্যের উদয় ও অস্ত যাওয়ার গতিপথের সঙ্গে সরাসরি মিলে যায়। আজ ভোরেও হাজার হাজার মানুষ সেখানে জড়ো হয়েছিলেন পাথরের স্তম্ভগুলোর ফাঁক গলে সূর্যের প্রথম আলো ছড়িয়ে পড়ার সেই অপার্থিব মুহূর্তটির সাক্ষী হতে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এই দেশে আর নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

আজ বছরের দীর্ঘতম দিন

আপডেট সময় ১২:৫৪:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

এক পাশে যখন সূর্যের আলোয় ভাসছে দিগন্ত, অন্য পাশে তখন ভর করেছে বছরের দীর্ঘতম অন্ধকার। আজ ২১ জুন। মহাজাগতিক এক অদ্ভুত বৈপরীত্যের সাক্ষী হচ্ছে পুরো পৃথিবী। বাংলাদেশসহ উত্তর গোলার্ধের কোটি কোটি মানুষ যখন আজ উপভোগ করছেন বছরের দীর্ঘতম দিন, ঠিক তখনই বিষুবরেখার ওপারে দক্ষিণ গোলার্ধে নেমে এসেছে বছরের দীর্ঘতম ও অন্ধকারতম রাত।

 

জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় এই বিশেষ দিনটিকে বলা হয় গ্রীষ্মকালীন অয়নান্ত বা ‘সামার সলস্টিস’। প্রতিবছর ২১ জুন এই ভৌগোলিক ঘটনাটি ঘটে। আজ ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় দিনের আলো প্রায় ১৩ ঘণ্টা স্থায়ী হবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। অর্থাৎ, আজ সূর্য আকাশে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে আলো ছড়াবে, যার ফলে রাত হবে বছরের সবচেয়ে ছোট।

কিন্তু কেন প্রকৃতির এই অদ্ভুত আচরণ? স্মিথসোনিয়ান সায়েন্স এডুকেশন সেন্টারের তথ্য অনুসারে, পৃথিবী তার অক্ষের ওপর ২৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি কোণে হেলে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। এই ঘূর্ণনের কারণে বছরের এই সময়ে পৃথিবীর উত্তর মেরু সূর্যের দিকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকে থাকে। ফলে উত্তর গোলার্ধে সূর্যরশ্মি দীর্ঘ সময় ধরে পড়ে এবং দিন বড় হয়। অন্যদিকে দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলো সূর্য থেকে দূরে হেলে থাকায় সেখানে আজ ক্ষুদ্রতম দিন ও দীর্ঘতম রাত, যা তাদের জন্য শীতকালীন সোলস্টাইস বা মকরক্রান্তির সূচনা।

বছরের এই বিশেষ দিনটিকে কেন্দ্র করে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে প্রাচীনকাল থেকেই নানা উৎসব ও ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালিত হয়ে আসছে। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যের স্টোনহেঞ্জ অন্যতম। বিশেষ করে প্রাচীন প্যাগান ও ড্রুইড ধর্মের অনুসারীদের কাছে এই দিনটির গুরুত্ব অপরিসীম।

যুক্তরাজ্যের উইল্টশায়ারে খ্রিষ্টপূর্ব ৩১০০ থেকে ১৬০০ অব্দের মধ্যে নির্মিত প্রাগৈতিহাসিক পাথরের স্মৃতিস্তম্ভ স্টোনহেঞ্জে প্রতিবছর এই দিনে হাজার হাজার মানুষ সমবেত হন। এই প্রাচীন পাথরের বৃত্তটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল, যা সূর্যের উদয় ও অস্ত যাওয়ার গতিপথের সঙ্গে সরাসরি মিলে যায়। আজ ভোরেও হাজার হাজার মানুষ সেখানে জড়ো হয়েছিলেন পাথরের স্তম্ভগুলোর ফাঁক গলে সূর্যের প্রথম আলো ছড়িয়ে পড়ার সেই অপার্থিব মুহূর্তটির সাক্ষী হতে।