ময়মনসিংহ , বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পুলিশের পাশাপাশি অন্য বাহিনীগুলোকেও জবাবদিহিতার মধ্যে আনা হবে বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রংপুরের ৪ খুনে অল্প সময়ে অপরাধী গ্রেপ্তার না হলে সুনাম ক্ষুণ্ন হতো বলে মন্তব্য করেছেন রিজভী সরকার ভুল করলে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিন জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী নওগাঁর পোরশায় প্রায় ২০ কেজি ওজনের কষ্টিপাথর সদৃশ মূর্তি উদ্ধার পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলায় গ্যাসের অনুসন্ধান কার্যক্রমের শুভ সূচনা দুর্গাপুরে ১৯ লাখ টাকার ফেন্সিডিলসহ আটক ১ পাবনায় যথাযথ মর্যাদায় ঈদে মিলাদুন্নবী (সা:) পালিত ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হাজারো মানুষের ঢল রংপুরের হত্যাকাণ্ডের আসামিরা দ্রুত সময়ে গ্রেপ্তার হয়েছে বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নরসিংদীতে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, মাদক-অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ২৩৭
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

ইউক্রেনে ৫০৩ হামলা রাশিয়ার এক রাতে, নিহত ১১

  • ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:৫৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫
  • ১৩০ বার পড়া হয়েছে

রাশিয়ার ব্যাপক বিমান হামলায় ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চল আবারও অন্ধকারে ডুবে গেছে। শুক্রবার গভীর রাতে চালানো এ হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। যুদ্ধের চতুর্থ বছর ঘনিয়ে আসলেও শান্তি প্রচেষ্টায় অগ্রগতি না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, রাশিয়া রাতভর আকাশ, স্থল ও সমুদ্রপথে ৫০৩টি হামলা চালায়। এর মধ্যে ছিল ৪৫টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৪৫৮টি ড্রোন। দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী ৪০৬টি ড্রোন ধ্বংস করতে সক্ষম হলেও মাত্র ৯টি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা যায়। বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে, ফলে একাধিক অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

হামলার মূল লক্ষ্য ছিল গ্যাস ও বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো। রাজধানী কিয়েভসহ একাধিক এলাকায় ব্ল্যাকআউট দেখা দেয়।

দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝিয়া প্রদেশে গভর্নর ইভান ফেদোরভ জানিয়েছেন, রাশিয়ার হামলায় তিনজন নিহত ও ছয়জন আহত হয়েছেন। একাধিক আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দোনেৎস্কের দুই জেলায় আরও দুজন নিহত হয়েছেন। খেরসনের গভর্নর ওলেক্সান্দর প্রোকুদিন জানান, সেখানে বহু তলা ভবন, বাড়িঘর ও গাড়িতে হামলায় দুজন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন।

পলতাভা অঞ্চলের গভর্নর ভলোদিমির কোহুত জানিয়েছেন, সেখানে ‘বৃহৎ মাত্রার হামলা’ হয়েছে। একজন আহত হয়েছেন এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় রোলিং ব্ল্যাকআউট চালু করা হয়েছে।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন—শীত আসার আগেই রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও দেশটির সম্পদ জব্দ করার। তিনি বলেন, ‘রাশিয়ার হামলাগুলো দেখিয়ে দিচ্ছে, চাপ আরও বাড়াতে হবে। রুশ পারমাণবিক খাত এখনো নিষেধাজ্ঞার বাইরে, তাদের সামরিক শিল্প পশ্চিমা ইলেকট্রনিক্স পাচ্ছে, তেল ও গ্যাস বাণিজ্যেও আরও কড়াকড়ি দরকার।’

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা আকাশ, স্থল ও সমুদ্রপথ থেকে ‘উচ্চনির্ভুল দূরপাল্লার অস্ত্র’ ব্যবহার করে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও ছিল।

দোনেৎস্কের ফ্রন্টলাইনের শহর পোকরোভস্কে এখনো তীব্র লড়াই চলছে। শহরটির দখল নিতে সেখানে বিপুলসংখ্যক রুশ সেনা সমবেত হয়েছে। ইউক্রেনীয় সেনারা শহরের পূর্বাংশে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির সেনাপ্রধান ওলেক্সান্দর সিরস্কি।

পূর্ব ইউরোপে শীত ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রাশিয়ার এমন ধারাবাহিক হামলায় ইউক্রেনজুড়ে উদ্বেগ ও মানবিক সংকট আরও বাড়ছে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পুলিশের পাশাপাশি অন্য বাহিনীগুলোকেও জবাবদিহিতার মধ্যে আনা হবে বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ইউক্রেনে ৫০৩ হামলা রাশিয়ার এক রাতে, নিহত ১১

আপডেট সময় ০৯:৫৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫

রাশিয়ার ব্যাপক বিমান হামলায় ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চল আবারও অন্ধকারে ডুবে গেছে। শুক্রবার গভীর রাতে চালানো এ হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। যুদ্ধের চতুর্থ বছর ঘনিয়ে আসলেও শান্তি প্রচেষ্টায় অগ্রগতি না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, রাশিয়া রাতভর আকাশ, স্থল ও সমুদ্রপথে ৫০৩টি হামলা চালায়। এর মধ্যে ছিল ৪৫টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৪৫৮টি ড্রোন। দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী ৪০৬টি ড্রোন ধ্বংস করতে সক্ষম হলেও মাত্র ৯টি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা যায়। বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে, ফলে একাধিক অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

হামলার মূল লক্ষ্য ছিল গ্যাস ও বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো। রাজধানী কিয়েভসহ একাধিক এলাকায় ব্ল্যাকআউট দেখা দেয়।

দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝিয়া প্রদেশে গভর্নর ইভান ফেদোরভ জানিয়েছেন, রাশিয়ার হামলায় তিনজন নিহত ও ছয়জন আহত হয়েছেন। একাধিক আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দোনেৎস্কের দুই জেলায় আরও দুজন নিহত হয়েছেন। খেরসনের গভর্নর ওলেক্সান্দর প্রোকুদিন জানান, সেখানে বহু তলা ভবন, বাড়িঘর ও গাড়িতে হামলায় দুজন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন।

পলতাভা অঞ্চলের গভর্নর ভলোদিমির কোহুত জানিয়েছেন, সেখানে ‘বৃহৎ মাত্রার হামলা’ হয়েছে। একজন আহত হয়েছেন এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় রোলিং ব্ল্যাকআউট চালু করা হয়েছে।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন—শীত আসার আগেই রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও দেশটির সম্পদ জব্দ করার। তিনি বলেন, ‘রাশিয়ার হামলাগুলো দেখিয়ে দিচ্ছে, চাপ আরও বাড়াতে হবে। রুশ পারমাণবিক খাত এখনো নিষেধাজ্ঞার বাইরে, তাদের সামরিক শিল্প পশ্চিমা ইলেকট্রনিক্স পাচ্ছে, তেল ও গ্যাস বাণিজ্যেও আরও কড়াকড়ি দরকার।’

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা আকাশ, স্থল ও সমুদ্রপথ থেকে ‘উচ্চনির্ভুল দূরপাল্লার অস্ত্র’ ব্যবহার করে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও ছিল।

দোনেৎস্কের ফ্রন্টলাইনের শহর পোকরোভস্কে এখনো তীব্র লড়াই চলছে। শহরটির দখল নিতে সেখানে বিপুলসংখ্যক রুশ সেনা সমবেত হয়েছে। ইউক্রেনীয় সেনারা শহরের পূর্বাংশে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির সেনাপ্রধান ওলেক্সান্দর সিরস্কি।

পূর্ব ইউরোপে শীত ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রাশিয়ার এমন ধারাবাহিক হামলায় ইউক্রেনজুড়ে উদ্বেগ ও মানবিক সংকট আরও বাড়ছে।