ময়মনসিংহ , মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
রাঙ্গামাটিতে আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা: অপরাধ দমনে ডিআইজির কঠোর হুঁশিয়ারি গ্যাস সংকট কাটাতে আরও দুই বছর লাগতে পারে জানিয়েছেন ডা. জাহেদ “একজন বাবার ভূমিকা” বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) এর জন্ম ও ওফাত দিবস ব্যাটারিচালিত রিকশার জন্য দ্রুতই নীতিমালা প্রণয়ন করবে সরকার বললেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে ২৬ আগস্ট হিলি বন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ মাগুরার চাঞ্চল্যকর আছিয়া হত্যা ও ধর্ষণ মামলার রায় সোমবার নটরডেম কলেজের সাবেক শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার কলাবাগানে নিজ বাসা থেকে স্বর্ণের ভরি আড়াই লাখ ছুঁইছুঁই বিচারকদের জন্য কঠোর নির্দেশনা: কোনো ধরনের বাণিজ্যিক কোচিংয়ে যুক্ত হওয়া যাবে না
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

ঝালকাঠির বাসন্ডা বেইলি সেতু: ১০ বছর ধরে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’, জোড়াতালিতে চলছে দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ

বরিশাল-খুলনা আঞ্চলিক মহাসড়কে ঝালকাঠি সদর উপজেলার বাসন্ডা নদীর ওপর নির্মিত ৩৭ বছরের পুরোনো বেইলি সেতুটি এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন শত শত বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও পণ্যবাহী ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে জরাজীর্ণ সেতুটি নড়বড়ে অবস্থায় পৌঁছেছে। যানবাহন উঠলেই পুরো সেতু কেঁপে ওঠে এবং স্টিলের পাটাতন আলগা হয়ে বিকট শব্দের সৃষ্টি হয়। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ কিছুদিন পরপর ঝালাই দিয়ে সাময়িক মেরামতের চেষ্টা করলেও কয়েকদিন যেতে না যেতেই আবার একই অবস্থার সৃষ্টি হয়।

​প্রায় ১০ বছর আগে সওজ বিভাগ সেতুটিকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে ঘোষণা করে। বর্তমানে অন্তত ১১৩টি জোড়াতালি ও ঢিলে হয়ে যাওয়া নাট-বল্টু নিয়ে অবস্থান করা এই সেতু দিয়ে প্রতিনিয়ত জীবন ও মালের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন চালক, যাত্রী ও সাধারণ মানুষ।

​সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্যমতে, ১৯৮৮-৮৯ অর্থবছরে বাসন্ডা নদীর ওপর ৩৯৪ ফুট দীর্ঘ ও ২৫ ফুট চওড়া এই বেইলি সেতুটি নির্মাণ করা হয়। বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বাগেরহাট, খুলনা ও যশোরসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম এটি। যানবাহনের অতিরিক্ত চাপের কারণে স্টিলের পাটাতন ফেটে এবং নাট-বল্টু আলগা হয়ে সেতুর বিভিন্ন স্থান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো মুহূর্তে সেতুটি ভেঙে পড়লে দক্ষিণাঞ্চলের এই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। অবশ্য সওজ-এর প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, তারা নিয়মিত মেরামতের মাধ্যমে সেতুটি সচল রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ একাধিক পরিবহন চালক জানান, “সেতুতে গাড়ি উঠলেই বিকট শব্দ হয় এবং পুরো সেতু কাঁপতে থাকে। চলাচলের সময় আমরা নিজেরাই আতঙ্কে থাকি। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”

​সেতুর সার্বিক বিষয়ে ঝালকাঠি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহরিয়ার শরীফ খান জানান, বাসন্ডা বেইলি সেতুর পরিবর্তে একটি নতুন স্থায়ী সেতু নির্মাণের লক্ষ্যে ফিজিবিলিটি স্টাডি (সম্ভাব্যতা যাচাই) ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই নতুন সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

​এক দশক ধরে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ঘোষণা এবং কোটি টাকা ব্যয়ে বারবার জোড়াতালির সংস্কার সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। স্থানীদের মতে, এই সেতুটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়, এটি দক্ষিণাঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের নিরাপত্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগেই এখানে নতুন সেতু নির্মাণ করা এখন সময়ের দাবি।

​এদিকে ঝালকাঠি-২ আসনের সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য জিবা আমিনা আল গাজী জানান, তারা বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সংসদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করেছেন। খুব দ্রুতই এ সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাঙ্গামাটিতে আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা: অপরাধ দমনে ডিআইজির কঠোর হুঁশিয়ারি

ঝালকাঠির বাসন্ডা বেইলি সেতু: ১০ বছর ধরে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’, জোড়াতালিতে চলছে দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ

আপডেট সময় ০৩:২৮:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

বরিশাল-খুলনা আঞ্চলিক মহাসড়কে ঝালকাঠি সদর উপজেলার বাসন্ডা নদীর ওপর নির্মিত ৩৭ বছরের পুরোনো বেইলি সেতুটি এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন শত শত বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও পণ্যবাহী ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে জরাজীর্ণ সেতুটি নড়বড়ে অবস্থায় পৌঁছেছে। যানবাহন উঠলেই পুরো সেতু কেঁপে ওঠে এবং স্টিলের পাটাতন আলগা হয়ে বিকট শব্দের সৃষ্টি হয়। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ কিছুদিন পরপর ঝালাই দিয়ে সাময়িক মেরামতের চেষ্টা করলেও কয়েকদিন যেতে না যেতেই আবার একই অবস্থার সৃষ্টি হয়।

​প্রায় ১০ বছর আগে সওজ বিভাগ সেতুটিকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে ঘোষণা করে। বর্তমানে অন্তত ১১৩টি জোড়াতালি ও ঢিলে হয়ে যাওয়া নাট-বল্টু নিয়ে অবস্থান করা এই সেতু দিয়ে প্রতিনিয়ত জীবন ও মালের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন চালক, যাত্রী ও সাধারণ মানুষ।

​সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্যমতে, ১৯৮৮-৮৯ অর্থবছরে বাসন্ডা নদীর ওপর ৩৯৪ ফুট দীর্ঘ ও ২৫ ফুট চওড়া এই বেইলি সেতুটি নির্মাণ করা হয়। বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বাগেরহাট, খুলনা ও যশোরসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম এটি। যানবাহনের অতিরিক্ত চাপের কারণে স্টিলের পাটাতন ফেটে এবং নাট-বল্টু আলগা হয়ে সেতুর বিভিন্ন স্থান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো মুহূর্তে সেতুটি ভেঙে পড়লে দক্ষিণাঞ্চলের এই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। অবশ্য সওজ-এর প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, তারা নিয়মিত মেরামতের মাধ্যমে সেতুটি সচল রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ একাধিক পরিবহন চালক জানান, “সেতুতে গাড়ি উঠলেই বিকট শব্দ হয় এবং পুরো সেতু কাঁপতে থাকে। চলাচলের সময় আমরা নিজেরাই আতঙ্কে থাকি। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”

​সেতুর সার্বিক বিষয়ে ঝালকাঠি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহরিয়ার শরীফ খান জানান, বাসন্ডা বেইলি সেতুর পরিবর্তে একটি নতুন স্থায়ী সেতু নির্মাণের লক্ষ্যে ফিজিবিলিটি স্টাডি (সম্ভাব্যতা যাচাই) ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই নতুন সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

​এক দশক ধরে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ঘোষণা এবং কোটি টাকা ব্যয়ে বারবার জোড়াতালির সংস্কার সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। স্থানীদের মতে, এই সেতুটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়, এটি দক্ষিণাঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের নিরাপত্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগেই এখানে নতুন সেতু নির্মাণ করা এখন সময়ের দাবি।

​এদিকে ঝালকাঠি-২ আসনের সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য জিবা আমিনা আল গাজী জানান, তারা বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সংসদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করেছেন। খুব দ্রুতই এ সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।