ময়মনসিংহ , বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ফ্যাসিবাদের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশে মারা যান আরাফাত রহমান কোকো বললেন রিজভী হামের টিকায় ডিএনসিসি সফল বলে মন্তব্য করেছেন প্রশাসক নেত্রকোণায় জেলা প্রশাসকের সাপ্তাহিক গণশুনানি অনুষ্ঠিত: তাৎক্ষণিক সেবা পেলেন ভুক্তভোগীরা আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তোলার খবরটি গুজব জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ​আন্তর্জাতিক যুব দিবস ২০২৬ উপলক্ষে পূর্বধলায় ‘স্বর্ণ সুধা যুব উন্নয়ন সমিতি’র বৃক্ষরোপণ ​অসুস্থ শিশু আব্দুল্লাহ’র উন্নত চিকিৎসার জন্য আকুল আবেদন সূর্যগ্রহণের সময় করণীয়: মহানবী (সা.)-এর সুন্নাহ ও বিশেষ আমলসমূহ নিষিদ্ধ হলেও ভারতীয়রা ভিপিএন ব্যবহার করে এখনো আমার গান শোনেন বললেন আতিফ আসলাম নেত্রকোণায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনস্বার্থে জেলা প্রশাসনের বিশেষ মোবাইল কোর্ট অভিযান ট্রাফিক বিভাগের ৩১ পুলিশ সদস্যকে কেএমপি কমিশনারের পুরস্কার
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

মানুষের আসল ঠিকানা ইট-কাঠের বাড়ি নয়, মানবিক হৃদয়: এক চিরকুটেই জীবনের শ্রেষ্ঠ উপহার পেলেন অবসরপ্রাপ্ত ডাকপিয়ন

চার দশকের দীর্ঘ কর্মজীবন। হাজার হাজার চিঠি মানুষের দুয়ারে পৌঁছে দিয়েছেন তিনি। কখনও সুখবর, কখনও চাকরির নিয়োগপত্র, আবার কখনও প্রিয়জনের মৃত্যুর মতো কঠিন বার্তা বহন করেছেন। দীর্ঘ ৪০ বছরের চাকরি জীবনের শেষ সপ্তাহে এসে তেমনই এক ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলেন প্রবীণ ডাকপিয়ন রতনবাবু। একটি নাম-ঠিকানাহীন রহস্যময় চিঠি তাঁকে শিখিয়ে দিল জীবনের পরম সত্য— মানুষের প্রকৃত পরিচয় তার ইট-কাঠের বাড়ি কিংবা পদবিতে নয়, তার আচরণ, মমতা ও মানবিকতায়।

ডাকঘর সূত্রের খবর, অবসরগ্রহণের কয়েক দিন আগে অফিসের এক কোণে ধুলো জমে থাকা একটি পুরোনো খাম নজর কাড়ে রতনবাবুর। খামের গায়ে কোনো বাড়ি নম্বর বা গ্রামের নাম লেখা ছিল না; কেবল লেখা ছিল— “যার হৃদয়ে এখনো দয়া-মায়া বেঁচে আছে, তার হাতে পৌঁছে দেবেন।” সহকর্মীরা বিষয়টি নিয়ে ঠাট্টা-তামাশা করলেও, রতনবাবু খামটি ফেলে দিতে পারেননি। এক অজানা টানে চিঠিটি নিজের কাছে রেখে দেন।

​সেদিন কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তায় এক ক্ষুধার্ত বৃদ্ধার দেখা পান রতনবাবু। কোনো কিছু না ভেবেই নিজের টিফিনের খাবারটি তিনি তুলে দেন সেই বৃদ্ধার হাতে। একটু পরেই দেখতে পান, ব্যাগ ছিঁড়ে বইপত্র ছড়িয়ে পড়ে কান্নাকাটি করছে এক স্কুলপড়ুয়া শিশু। রতনবাবু পরম স্নেহে ব্যাগটি সেলাই করিয়ে বইগুলো গুছিয়ে দেন।
​সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে কৌতূহলবশত খামটি খোলেন তিনি। ভেতরে থাকা একটি ছোট্ট কাগজে লেখা ছিল:

​”অভিনন্দন! এতদিন ধরে এই চিঠির সঠিক ঠিকানা খুঁজছিলাম, আজ পেলাম। মানুষের আসল ঠিকানা তার বাড়ি নয়, তার হৃদয়। চিঠিটি আপনার হাতে পৌঁছানো মানেই— আপনার হৃদয়ই এর আসল ঠিকানা।”

​পরদিন ডাকঘরের আনুষ্ঠানিক বিদায়সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রতনবাবুর কাছে জানতে চাওয়া হয় তাঁর দীর্ঘ চাকরি জীবনের সবচেয়ে বড় অভিজ্ঞতার কথা। আবেগে চোখ ভিজিয়ে তিনি বলেন, “বাড়ির নম্বর ভুল হতে পারে, গ্রামের নাম বদলে যেতে পারে, কিন্তু ভালোবাসা, সহানুভূতি আর মানবতার হৃদয়ই পৃথিবীর একমাত্র সঠিক ও চিরন্তন ঠিকানা।”

​উপস্থিত সকলের করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল। পদবি বা সম্পত্তি নয়, মানুষের পরিচয় যে তার মমত্ববোধে— রতনবাবুর এই অভিজ্ঞতা যেন সে সত্যকেই নতুন করে মনে করিয়ে দিল।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশে মারা যান আরাফাত রহমান কোকো বললেন রিজভী

মানুষের আসল ঠিকানা ইট-কাঠের বাড়ি নয়, মানবিক হৃদয়: এক চিরকুটেই জীবনের শ্রেষ্ঠ উপহার পেলেন অবসরপ্রাপ্ত ডাকপিয়ন

আপডেট সময় ০৩:০০:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

চার দশকের দীর্ঘ কর্মজীবন। হাজার হাজার চিঠি মানুষের দুয়ারে পৌঁছে দিয়েছেন তিনি। কখনও সুখবর, কখনও চাকরির নিয়োগপত্র, আবার কখনও প্রিয়জনের মৃত্যুর মতো কঠিন বার্তা বহন করেছেন। দীর্ঘ ৪০ বছরের চাকরি জীবনের শেষ সপ্তাহে এসে তেমনই এক ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলেন প্রবীণ ডাকপিয়ন রতনবাবু। একটি নাম-ঠিকানাহীন রহস্যময় চিঠি তাঁকে শিখিয়ে দিল জীবনের পরম সত্য— মানুষের প্রকৃত পরিচয় তার ইট-কাঠের বাড়ি কিংবা পদবিতে নয়, তার আচরণ, মমতা ও মানবিকতায়।

ডাকঘর সূত্রের খবর, অবসরগ্রহণের কয়েক দিন আগে অফিসের এক কোণে ধুলো জমে থাকা একটি পুরোনো খাম নজর কাড়ে রতনবাবুর। খামের গায়ে কোনো বাড়ি নম্বর বা গ্রামের নাম লেখা ছিল না; কেবল লেখা ছিল— “যার হৃদয়ে এখনো দয়া-মায়া বেঁচে আছে, তার হাতে পৌঁছে দেবেন।” সহকর্মীরা বিষয়টি নিয়ে ঠাট্টা-তামাশা করলেও, রতনবাবু খামটি ফেলে দিতে পারেননি। এক অজানা টানে চিঠিটি নিজের কাছে রেখে দেন।

​সেদিন কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তায় এক ক্ষুধার্ত বৃদ্ধার দেখা পান রতনবাবু। কোনো কিছু না ভেবেই নিজের টিফিনের খাবারটি তিনি তুলে দেন সেই বৃদ্ধার হাতে। একটু পরেই দেখতে পান, ব্যাগ ছিঁড়ে বইপত্র ছড়িয়ে পড়ে কান্নাকাটি করছে এক স্কুলপড়ুয়া শিশু। রতনবাবু পরম স্নেহে ব্যাগটি সেলাই করিয়ে বইগুলো গুছিয়ে দেন।
​সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে কৌতূহলবশত খামটি খোলেন তিনি। ভেতরে থাকা একটি ছোট্ট কাগজে লেখা ছিল:

​”অভিনন্দন! এতদিন ধরে এই চিঠির সঠিক ঠিকানা খুঁজছিলাম, আজ পেলাম। মানুষের আসল ঠিকানা তার বাড়ি নয়, তার হৃদয়। চিঠিটি আপনার হাতে পৌঁছানো মানেই— আপনার হৃদয়ই এর আসল ঠিকানা।”

​পরদিন ডাকঘরের আনুষ্ঠানিক বিদায়সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রতনবাবুর কাছে জানতে চাওয়া হয় তাঁর দীর্ঘ চাকরি জীবনের সবচেয়ে বড় অভিজ্ঞতার কথা। আবেগে চোখ ভিজিয়ে তিনি বলেন, “বাড়ির নম্বর ভুল হতে পারে, গ্রামের নাম বদলে যেতে পারে, কিন্তু ভালোবাসা, সহানুভূতি আর মানবতার হৃদয়ই পৃথিবীর একমাত্র সঠিক ও চিরন্তন ঠিকানা।”

​উপস্থিত সকলের করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল। পদবি বা সম্পত্তি নয়, মানুষের পরিচয় যে তার মমত্ববোধে— রতনবাবুর এই অভিজ্ঞতা যেন সে সত্যকেই নতুন করে মনে করিয়ে দিল।