ময়মনসিংহ , মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বিএনপির নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করলে কঠোর ব্যবস্থা বললেন রিজভী ৬ মাসে বিএনপি সরকার নিদারুণভাবে ব্যর্থ বললেন নাহিদ ইসলাম দেশের অধিকাংশ গাড়ি ফিটনেসবিহীন, হেলপার থেকে ড্রাইভার হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সড়কমন্ত্রী খুলনার চাঞ্চল্যকর জোড়া খুন: টুঙ্গিপাড়া থেকে এজাহারভুক্ত ২ আসামি গ্রেফতার নিষিদ্ধ সংগঠন ছাড়া সভা-সমাবেশ ও সমালোচনার অধিকার সবার বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী বর্তমান সরকার আওয়ামী লীগের পথেই হাঁটছে বলেছেন জামায়াত আমির বাড়ি বাড়ি স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ইউনিয়নে হবে ‘হেলথ হাব’ জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী নালিতাবাড়ীতে নিখোঁজ দুই কিশোরের মরদেহ পুকুরে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার সৌদিতে অবৈধ প্রবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান: এক সপ্তাহে ফেরত পাঠানো হলো ১৩,৭২৪ জন নেত্রকোণায় জেলা প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট: ৪ মাদকসেবীকে কারাদণ্ড, জব্দ সাড়ে সাত বস্তা পলিথিন
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

হবিগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ; আহত সারজিসসহ একাধিক নেতা

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। হামলার জন্য জেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দায়ী করেছে এনসিপি। তবে অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে ছাত্রদল।গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরের কোর্ট মসজিদসংলগ্ন সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, এনসিপির জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচি শেষে কেন্দ্রীয় নেতাদের বহর মৌলভীবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হলে একদল ব্যক্তি তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং নেতাকর্মীদের মারধর করা হয়। হামলায় সারজিস আলমসহ একাধিক নেতাকর্মী আহত হন।

ঘটনার পর রাত পৌনে ৮টার দিকে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় দাবি করেন, জেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হকিস্টিক, রামদা, চেইনসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, হামলার সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ ও র‍্যাবের সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও তারা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেননি। হামলাকারীরা তাদের মিডিয়া টিমের ক্যামেরাসহ বিভিন্ন মূল্যবান সরঞ্জাম ছিনিয়ে নেয় এবং চালক থেকে শুরু করে গণমাধ্যমকর্মীদেরও মারধর করে। হামলায় সারজিস আলমসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা গুরুতর আহত হয়েছেন। কারও হাত-পা ভেঙে গেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমাতে যারা সহিংসতার পথ বেছে নেয়, তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, তাদের মদদদাতা এবং দায়িত্ব পালনে ব্যর্থদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

এনসিপির হবিগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, সমাবেশ শেষে সার্কিট হাউসের দিকে যাওয়ার সময় থানার মোড় এলাকায় তাদের বহরের ওপর হামলা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে নিরাপত্তার স্বার্থে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলম কাছাকাছি একটি ব্যাংক ভবনে আশ্রয় নেন।

অন্যদিকে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন। তিনি বলেন, হবিগঞ্জ একটি শান্তিপ্রিয় এলাকা। বাইরে থেকে আসা কয়েকজন ব্যক্তি উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়ায় স্থানীয় জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিক্রিয়া জানায়। এরই একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

তিনি দাবি করেন, এ ঘটনায় ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মী জড়িত নন। উস্কানিমূলক বক্তব্যের কারণেই পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে এবং এনসিপির নেতাকর্মীরা নিজেদের প্রচারের জন্য ছাত্রদলের নাম জড়িয়ে অতিরঞ্জিত অভিযোগ করছেন।

এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল হকের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপির নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করলে কঠোর ব্যবস্থা বললেন রিজভী

হবিগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ; আহত সারজিসসহ একাধিক নেতা

আপডেট সময় ১১:২১:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। হামলার জন্য জেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দায়ী করেছে এনসিপি। তবে অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে ছাত্রদল।গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরের কোর্ট মসজিদসংলগ্ন সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, এনসিপির জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচি শেষে কেন্দ্রীয় নেতাদের বহর মৌলভীবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হলে একদল ব্যক্তি তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং নেতাকর্মীদের মারধর করা হয়। হামলায় সারজিস আলমসহ একাধিক নেতাকর্মী আহত হন।

ঘটনার পর রাত পৌনে ৮টার দিকে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় দাবি করেন, জেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হকিস্টিক, রামদা, চেইনসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, হামলার সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ ও র‍্যাবের সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও তারা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেননি। হামলাকারীরা তাদের মিডিয়া টিমের ক্যামেরাসহ বিভিন্ন মূল্যবান সরঞ্জাম ছিনিয়ে নেয় এবং চালক থেকে শুরু করে গণমাধ্যমকর্মীদেরও মারধর করে। হামলায় সারজিস আলমসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা গুরুতর আহত হয়েছেন। কারও হাত-পা ভেঙে গেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমাতে যারা সহিংসতার পথ বেছে নেয়, তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, তাদের মদদদাতা এবং দায়িত্ব পালনে ব্যর্থদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

এনসিপির হবিগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, সমাবেশ শেষে সার্কিট হাউসের দিকে যাওয়ার সময় থানার মোড় এলাকায় তাদের বহরের ওপর হামলা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে নিরাপত্তার স্বার্থে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলম কাছাকাছি একটি ব্যাংক ভবনে আশ্রয় নেন।

অন্যদিকে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন। তিনি বলেন, হবিগঞ্জ একটি শান্তিপ্রিয় এলাকা। বাইরে থেকে আসা কয়েকজন ব্যক্তি উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়ায় স্থানীয় জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিক্রিয়া জানায়। এরই একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

তিনি দাবি করেন, এ ঘটনায় ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মী জড়িত নন। উস্কানিমূলক বক্তব্যের কারণেই পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে এবং এনসিপির নেতাকর্মীরা নিজেদের প্রচারের জন্য ছাত্রদলের নাম জড়িয়ে অতিরঞ্জিত অভিযোগ করছেন।

এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল হকের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।