ময়মনসিংহ , সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাবেক রাষ্ট্রপতি লন্ডনে শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলেছেন, এমন তথ্য নেই বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোনো এক সময় বাংলাদেশ বিশ্বকাপ ফুটবল খেলবে জানিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জগন্নাথপুরে জাকজমকপূর্ণ নৌকা বাইচে জনস্রোত, সেমিফাইনাল শেষে স্থগিত ফাইনাল ঝালকাঠির বাসন্ডা বেইলি সেতু: ১০ বছর ধরে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’, জোড়াতালিতে চলছে দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ বাই সাইকেলে ঘুরে ক্রাচে ভর করে পত্রিকা বিলি করে পূর্বধলার কাশেম এইচএসসির স্থগিত পরীক্ষা: অংশ নিতে যা করতে হবে শিক্ষার্থীদের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির প্রথম কার্যদিবস আজ: শুরু হলো নতুন দায়িত্ব পালন অপেক্ষার অবসান? জেনে নিন কবে প্রকাশ হতে পারে এসএসসি ও সমমানের ফল বাংলাদেশিরা ভিসা ছাড়াই এশিয়ার যে ৬ দেশে ভ্রমণ করতে পারবেন পূর্বধলায় কালী মন্দিরের দুই কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত; সম্প্রীতি ও উন্নয়নের বার্তা
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

২ হাজারের বেশি মানুষের নাগরিকত্ব বাতিল কুয়েতে

কুয়েত সরকার আরও ২ হাজার ১৯৩ জন ব্যক্তির কুয়েতি নাগরিকত্ব বাতিলের আদেশ প্রকাশ করেছে। সরকারি গেজেট কুয়েত আল-ইয়াওম-এ প্রকাশিত সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়া নির্ভরশীলদের নাগরিকত্বও বাতিল করা হয়েছে।

আজ রোববার (১৪ জুন) দেশটির সংবাদ মাধ্যম দৈনিক আরব টাইমস এ খবর প্রকাশ করেছে। মূলত ২০২৪ সালের মার্চ মাস থেকে নাগরিকত্ব ফাইল পুনঃতদন্ত ও পর্যালোচনার এই ব্যাপক কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর থেকে কুয়েতের সুপ্রিম কমিটি ফর টি ইনভেস্টিগেশন অব কুয়েতী ন্যাশনালিটি ধারাবাহিকভাবে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত পুরোনো ফাইল পুনরায় যাচাই করে আসছে।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ৯ হাজার ৪৬৪ জনের নাগরিকত্ব বাতিল বা প্রত্যাহার করা হয়েছিল। এরপর ২০২৫ ও ২০২৬ সালে বিভিন্ন ধাপে আরও হাজার হাজার মানুষের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে যে, ২০২৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৭০ হাজারেরও বেশি ব্যক্তি সরাসরি বা পরোক্ষভাবে এই সিদ্ধান্তের আওতায় পড়েছেন, কারণ একজনের নাগরিকত্ব বাতিল হলে তার সন্তান ও নির্ভরশীলদের নাগরিকত্বও বাতিল হয়ে যায়। তবে সরকারিভাবে সব নির্ভরশীলের সমন্বিত সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।
 
কুয়েতের ১৯৫৯ সালের ১৫ নং জাতীয়তা আইন অনুযায়ী বিভিন্ন অধ্যাদেশে কয়েকটি প্রধান কারণে নাগরিকত্ব বাতিল বা প্রত্যাহার করা হয়।

দ্বৈত নাগরিকত্ব
কুয়েত সাধারণভাবে দ্বৈত নাগরিকত্ব অনুমোদন করে না। অন্য দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করলে কুয়েতি নাগরিকত্ব হারানোর বিধান রয়েছে।
 
জালিয়াতি ও ভুয়া তথ্য
জাল কাগজপত্র, মিথ্যা তথ্য প্রদান অথবা প্রতারণার মাধ্যমে নাগরিকত্ব অর্জনের অভিযোগে বহু নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছে।
 
জাতীয় নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যের প্রশ্ন
রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড, সন্ত্রাসী অর্থায়ন, জাতীয় নিরাপত্তা লঙ্ঘন এবং রাষ্ট্রের প্রতি অনুগত না থাকার অভিযোগেও নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছে।
 
 
বিশেষ আইনি ধারা অনুযায়ী পুনর্মূল্যায়ন
বিশেষ করে বিবাহ, নির্ভরশীলতা বা ব্যতিক্রমী প্রাকৃতিকীকরণ প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তিদের ফাইল নতুন করে যাচাই করা হচ্ছে।
 
কুয়েত সরকার বলছে, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো নাগরিকত্ব ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ করা, জালিয়াতি রোধ করা এবং জাতীয় পরিচয়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। সম্প্রতি জাতীয়তা আইনেও সংশোধন এনে নাগরিকত্ব প্রদান ও বাতিলের বিধান আরও কঠোর করা হয়েছে।
 
অন্যদিকে মানবাধিকার কর্মী ও বিভিন্ন পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে বহু পরিবার নাগরিকত্ব, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, চাকরি এবং সামাজিক সুবিধা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে। বিশেষ করে যাদের পরিবার কয়েক প্রজন্ম ধরে কুয়েতে বসবাস করছে, তাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। 

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাবেক রাষ্ট্রপতি লন্ডনে শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলেছেন, এমন তথ্য নেই বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

২ হাজারের বেশি মানুষের নাগরিকত্ব বাতিল কুয়েতে

আপডেট সময় ১২:০১:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

কুয়েত সরকার আরও ২ হাজার ১৯৩ জন ব্যক্তির কুয়েতি নাগরিকত্ব বাতিলের আদেশ প্রকাশ করেছে। সরকারি গেজেট কুয়েত আল-ইয়াওম-এ প্রকাশিত সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়া নির্ভরশীলদের নাগরিকত্বও বাতিল করা হয়েছে।

আজ রোববার (১৪ জুন) দেশটির সংবাদ মাধ্যম দৈনিক আরব টাইমস এ খবর প্রকাশ করেছে। মূলত ২০২৪ সালের মার্চ মাস থেকে নাগরিকত্ব ফাইল পুনঃতদন্ত ও পর্যালোচনার এই ব্যাপক কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর থেকে কুয়েতের সুপ্রিম কমিটি ফর টি ইনভেস্টিগেশন অব কুয়েতী ন্যাশনালিটি ধারাবাহিকভাবে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত পুরোনো ফাইল পুনরায় যাচাই করে আসছে।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ৯ হাজার ৪৬৪ জনের নাগরিকত্ব বাতিল বা প্রত্যাহার করা হয়েছিল। এরপর ২০২৫ ও ২০২৬ সালে বিভিন্ন ধাপে আরও হাজার হাজার মানুষের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে যে, ২০২৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৭০ হাজারেরও বেশি ব্যক্তি সরাসরি বা পরোক্ষভাবে এই সিদ্ধান্তের আওতায় পড়েছেন, কারণ একজনের নাগরিকত্ব বাতিল হলে তার সন্তান ও নির্ভরশীলদের নাগরিকত্বও বাতিল হয়ে যায়। তবে সরকারিভাবে সব নির্ভরশীলের সমন্বিত সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।
 
কুয়েতের ১৯৫৯ সালের ১৫ নং জাতীয়তা আইন অনুযায়ী বিভিন্ন অধ্যাদেশে কয়েকটি প্রধান কারণে নাগরিকত্ব বাতিল বা প্রত্যাহার করা হয়।

দ্বৈত নাগরিকত্ব
কুয়েত সাধারণভাবে দ্বৈত নাগরিকত্ব অনুমোদন করে না। অন্য দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করলে কুয়েতি নাগরিকত্ব হারানোর বিধান রয়েছে।
 
জালিয়াতি ও ভুয়া তথ্য
জাল কাগজপত্র, মিথ্যা তথ্য প্রদান অথবা প্রতারণার মাধ্যমে নাগরিকত্ব অর্জনের অভিযোগে বহু নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছে।
 
জাতীয় নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যের প্রশ্ন
রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড, সন্ত্রাসী অর্থায়ন, জাতীয় নিরাপত্তা লঙ্ঘন এবং রাষ্ট্রের প্রতি অনুগত না থাকার অভিযোগেও নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছে।
 
 
বিশেষ আইনি ধারা অনুযায়ী পুনর্মূল্যায়ন
বিশেষ করে বিবাহ, নির্ভরশীলতা বা ব্যতিক্রমী প্রাকৃতিকীকরণ প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তিদের ফাইল নতুন করে যাচাই করা হচ্ছে।
 
কুয়েত সরকার বলছে, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো নাগরিকত্ব ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ করা, জালিয়াতি রোধ করা এবং জাতীয় পরিচয়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। সম্প্রতি জাতীয়তা আইনেও সংশোধন এনে নাগরিকত্ব প্রদান ও বাতিলের বিধান আরও কঠোর করা হয়েছে।
 
অন্যদিকে মানবাধিকার কর্মী ও বিভিন্ন পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে বহু পরিবার নাগরিকত্ব, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, চাকরি এবং সামাজিক সুবিধা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে। বিশেষ করে যাদের পরিবার কয়েক প্রজন্ম ধরে কুয়েতে বসবাস করছে, তাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।