ময়মনসিংহ , মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বিএনপির নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করলে কঠোর ব্যবস্থা বললেন রিজভী ৬ মাসে বিএনপি সরকার নিদারুণভাবে ব্যর্থ বললেন নাহিদ ইসলাম দেশের অধিকাংশ গাড়ি ফিটনেসবিহীন, হেলপার থেকে ড্রাইভার হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সড়কমন্ত্রী খুলনার চাঞ্চল্যকর জোড়া খুন: টুঙ্গিপাড়া থেকে এজাহারভুক্ত ২ আসামি গ্রেফতার নিষিদ্ধ সংগঠন ছাড়া সভা-সমাবেশ ও সমালোচনার অধিকার সবার বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী বর্তমান সরকার আওয়ামী লীগের পথেই হাঁটছে বলেছেন জামায়াত আমির বাড়ি বাড়ি স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ইউনিয়নে হবে ‘হেলথ হাব’ জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী নালিতাবাড়ীতে নিখোঁজ দুই কিশোরের মরদেহ পুকুরে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার সৌদিতে অবৈধ প্রবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান: এক সপ্তাহে ফেরত পাঠানো হলো ১৩,৭২৪ জন নেত্রকোণায় জেলা প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট: ৪ মাদকসেবীকে কারাদণ্ড, জব্দ সাড়ে সাত বস্তা পলিথিন
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

​৯ মাসের অনাথ শিশু থেকে ‘বিএ পাস’ সমাজসেবক ​মায়ের মুখের হাসির জন্য মেম্বার পদে লড়ছেন অদম্য হারাধন

মাত্র নয় মাস বয়সে মাথার ওপর থেকে সরে গিয়েছিল বাবার ছায়া। ছিল না মাথা গোঁজার নিজস্ব কোনো ঠাঁই। মা গ্রামে গ্রামে ঘুরে মুড়ি আর কলা বিক্রি করে যে সামান্য টাকা পেতেন, তা দিয়েই কোনোমতে চলত মা-ছেলের সংসার। অভাবের তাড়নায় নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার বুধী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার সময়ই হাতে তুলে নিতে হয়েছিল কাঠমিস্ত্রীর হাতুড়ি-বাটাল। সেই থেকে দীর্ঘ ৩০টি বছর দিনমজুর হিসেবেই কেটেছে জীবন। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে এক সড়ক দুর্ঘটনায় হাত-পা ভেঙে যায় তার। এর পর থেকেই জীবনে নেমে আসে চরম কষ্ট। এখনো ডান হাতে প্লেট বসানো রয়েছে, তবুও হাল ছাড়েননি তিনি।

গল্পটা এখানেই শেষ হতে পারত। কিন্তু পূর্বধলা উপজেলার উত্তর পূর্বধলা গ্রামের হারাধন সূত্রধরের (আরাধন) অভিধানে ‘হার মেনে নেওয়া’ শব্দটা ছিল না। তীব্র শারীরিক প্রতিবন্ধকতা আর চরম দারিদ্র্যকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তিনি সম্পন্ন করেছেন বিএ (স্নাতক) ডিগ্রি। আজ তিনি শুধু নিজের ভাগ্যই বদলাননি, বিগত এক দশক ধরে এলাকার শত শত অসহায়, গরিব ও প্রতিবন্ধী মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে হয়ে উঠেছেন এক মানবতার ফেরিওয়ালা।

​নিঃস্বার্থ সমাজসেবা ও এলাকার মানুষের কল্যাণে দিনরাত কাজ করতে গিয়ে জীবনের ৪১টি বসন্ত পেরিয়ে গেলেও এখনও তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হননি। নিজের কোনো সংসার গড়ে না তুললেও এলাকার প্রতিটি অসহায় মানুষকে তিনি নিজের পরিবার মনে করেন। এবার ৬ নং পূর্বধলা সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সর্বস্তরের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সেবার উদ্দেশ্যে আসন্ন নির্বাচনে মেম্বার (ইউপি সদস্য) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন অদম্য এই সমাজসেবক।

​মায়ের দোয়া ও অশ্রুসিক্ত অতীত

হারাধনের এই নির্বাচনি যাত্রার পেছনে রয়েছে এক আবেগঘন অধ্যায়। ২০২৪ সালের পূর্বধলা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে লড়ার জন্য মায়ের কাছ থেকে অনুমতি ও দোয়া আশীর্বাদ নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সোনালী ব্যাংকে অন্যের সিসি লোনের জামিনদার হওয়ায় ঋণখেলাপির আইনি জটিলতায় সেবার তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যায়। মায়ের অনুমতি পেয়েও নির্বাচনে অংশ নিতে না পারার সেই বেদনায় কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন হারাধন। মায়ের চোখেও সেদিন ঝরেছিল বুকফাটা জল। সেই কান্নার ঋণ শোধ করতে এবং মায়ের মুখখানা একটু হাসিতে ভরিয়ে দিতেই এবার তিনি মেম্বার পদে লড়াইয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

​কষ্টের পাথর কেটে সাফল্যের আলো
​স্থানীয়রা জানান, স্বর্গীয় উপেন্দ্র চন্দ্র সূত্রধর ও ঊষা রানী সূত্রধরের সন্তান হারাধনের শৈশব কেটেছে অন্যের বাড়িতে আশ্রিত হিসেবে। বুধী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই শুরু হয় তার কঠোর শ্রমের জীবন। তবে শত কষ্টের মাঝেও পড়াশোনার প্রতি তার যে তীব্র আকাঙ্ক্ষা ছিল, বিএ পাস করার মাধ্যমে তারই প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। বর্তমানে তিনি বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ও সামাজিক কার্যক্রমের সাথেও যুক্ত রয়েছেন।

মানবতার সেবায় এক দশক
​ব্যক্তিগত দুঃখ-কষ্টকে একপাশে সরিয়ে রেখে ২০১৭ সাল থেকে নিজের গড়া একটি সমিতির মাধ্যমে এলাকার অসহায়, গরিব, দুস্থ ও প্রতিবন্ধী মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন হারাধন। গত কয়েক বছর ধরে নিয়মিতভাবে সাধারণ মানুষের মাঝে বিভিন্ন ধরনের আর্থিক  সহযোগিতা এবং ত্রাণ সামগ্রী ও কম্বল বিতরণ করে আসছেন তিনি। সামাজিক কাজের পাশাপাশি এলাকার বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নেও রয়েছে তার নিরবচ্ছিন্ন অবদান।

হারাধন সূত্রধর (আরাধন) যখন ভোটারদের মাঝে উপস্থিত হন, তখন সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আনন্দ ও উচ্ছ্বাস দেখা যায়। এলাকার সাধারণ মানুষ তার এই সাহসী ও সেবামূলক সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে অত্যন্ত খুশি মনে তাকে পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দিচ্ছেন।

​সেবার লক্ষ্য এক ও অবিচল
​নিজের লক্ষ্যের কথা জানাতে গিয়ে এক বুক প্রত্যয় নিয়ে হারাধন সূত্রধর (আরাধন) বলেন,
​”শৈশব থেকে দারিদ্র্য ও কষ্ট কী জিনিস তা আমি হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছি। আমি নিজের জন্য বাঁচি না, আমি জনগণের। গত ২০২৪ সালের উপজেলা নির্বাচনে মায়ের দোয়া নিয়ে ভাইস চেয়ারম্যান পদে দাঁড়াতে চেয়েছিলাম। কিন্তু অন্যের ঋণের জামিনদার হওয়ায় আইনি জটিলতায় তা পারিনি। সেদিন মায়ের সামনে নিজের কান্না ধরে রাখতে পারিনি, মা-ও কেঁদেছিলেন। এবার মায়ের মুখের হাসি ফোটাতে এবং জনগণের ভালোবাসার টানে আমি আমার নিজের ইউনিয়ন, অর্থাৎ ৬ নং পূর্বধলা সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার পদে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

​তিনি আরও যোগ করেন, “উপরে মহান সৃষ্টিকর্তা আর পাশে আমার এলাকার সাধারণ মানুষ থাকলে আমার কোনো ভয় নেই। জয়-পরাজয় বড় কথা নয়, আমৃত্যু মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও ১ নং ওয়ার্ডের  উন্নয়নে নিজেকে বিলিয়ে দিতে চাই।”
​এলাকার সুশীল সমাজ ও সাধারণ ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, একজন সৎ, উচ্চশিক্ষিত, কর্মঠ এবং দুঃখী মানুষের আপনজন হিসেবে হারাধন সূত্রধর ইতিমধ্যে এলাকায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। একজন সাবেক দিনমজুর ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় করা মানুষ যখন সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামেন, তখন তা পুরো জনপদের মানুষকে অনুপ্রাণিত করে। বর্তমানে তিনি এলাকার সকলের সার্বিক সহযোগিতা দোয়া,আশীর্বাদ ও রায় প্রত্যাশী।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপির নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করলে কঠোর ব্যবস্থা বললেন রিজভী

​৯ মাসের অনাথ শিশু থেকে ‘বিএ পাস’ সমাজসেবক ​মায়ের মুখের হাসির জন্য মেম্বার পদে লড়ছেন অদম্য হারাধন

আপডেট সময় ০২:৩১:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

মাত্র নয় মাস বয়সে মাথার ওপর থেকে সরে গিয়েছিল বাবার ছায়া। ছিল না মাথা গোঁজার নিজস্ব কোনো ঠাঁই। মা গ্রামে গ্রামে ঘুরে মুড়ি আর কলা বিক্রি করে যে সামান্য টাকা পেতেন, তা দিয়েই কোনোমতে চলত মা-ছেলের সংসার। অভাবের তাড়নায় নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার বুধী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার সময়ই হাতে তুলে নিতে হয়েছিল কাঠমিস্ত্রীর হাতুড়ি-বাটাল। সেই থেকে দীর্ঘ ৩০টি বছর দিনমজুর হিসেবেই কেটেছে জীবন। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে এক সড়ক দুর্ঘটনায় হাত-পা ভেঙে যায় তার। এর পর থেকেই জীবনে নেমে আসে চরম কষ্ট। এখনো ডান হাতে প্লেট বসানো রয়েছে, তবুও হাল ছাড়েননি তিনি।

গল্পটা এখানেই শেষ হতে পারত। কিন্তু পূর্বধলা উপজেলার উত্তর পূর্বধলা গ্রামের হারাধন সূত্রধরের (আরাধন) অভিধানে ‘হার মেনে নেওয়া’ শব্দটা ছিল না। তীব্র শারীরিক প্রতিবন্ধকতা আর চরম দারিদ্র্যকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তিনি সম্পন্ন করেছেন বিএ (স্নাতক) ডিগ্রি। আজ তিনি শুধু নিজের ভাগ্যই বদলাননি, বিগত এক দশক ধরে এলাকার শত শত অসহায়, গরিব ও প্রতিবন্ধী মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে হয়ে উঠেছেন এক মানবতার ফেরিওয়ালা।

​নিঃস্বার্থ সমাজসেবা ও এলাকার মানুষের কল্যাণে দিনরাত কাজ করতে গিয়ে জীবনের ৪১টি বসন্ত পেরিয়ে গেলেও এখনও তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হননি। নিজের কোনো সংসার গড়ে না তুললেও এলাকার প্রতিটি অসহায় মানুষকে তিনি নিজের পরিবার মনে করেন। এবার ৬ নং পূর্বধলা সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সর্বস্তরের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সেবার উদ্দেশ্যে আসন্ন নির্বাচনে মেম্বার (ইউপি সদস্য) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন অদম্য এই সমাজসেবক।

​মায়ের দোয়া ও অশ্রুসিক্ত অতীত

হারাধনের এই নির্বাচনি যাত্রার পেছনে রয়েছে এক আবেগঘন অধ্যায়। ২০২৪ সালের পূর্বধলা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে লড়ার জন্য মায়ের কাছ থেকে অনুমতি ও দোয়া আশীর্বাদ নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সোনালী ব্যাংকে অন্যের সিসি লোনের জামিনদার হওয়ায় ঋণখেলাপির আইনি জটিলতায় সেবার তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যায়। মায়ের অনুমতি পেয়েও নির্বাচনে অংশ নিতে না পারার সেই বেদনায় কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন হারাধন। মায়ের চোখেও সেদিন ঝরেছিল বুকফাটা জল। সেই কান্নার ঋণ শোধ করতে এবং মায়ের মুখখানা একটু হাসিতে ভরিয়ে দিতেই এবার তিনি মেম্বার পদে লড়াইয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

​কষ্টের পাথর কেটে সাফল্যের আলো
​স্থানীয়রা জানান, স্বর্গীয় উপেন্দ্র চন্দ্র সূত্রধর ও ঊষা রানী সূত্রধরের সন্তান হারাধনের শৈশব কেটেছে অন্যের বাড়িতে আশ্রিত হিসেবে। বুধী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই শুরু হয় তার কঠোর শ্রমের জীবন। তবে শত কষ্টের মাঝেও পড়াশোনার প্রতি তার যে তীব্র আকাঙ্ক্ষা ছিল, বিএ পাস করার মাধ্যমে তারই প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। বর্তমানে তিনি বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ও সামাজিক কার্যক্রমের সাথেও যুক্ত রয়েছেন।

মানবতার সেবায় এক দশক
​ব্যক্তিগত দুঃখ-কষ্টকে একপাশে সরিয়ে রেখে ২০১৭ সাল থেকে নিজের গড়া একটি সমিতির মাধ্যমে এলাকার অসহায়, গরিব, দুস্থ ও প্রতিবন্ধী মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন হারাধন। গত কয়েক বছর ধরে নিয়মিতভাবে সাধারণ মানুষের মাঝে বিভিন্ন ধরনের আর্থিক  সহযোগিতা এবং ত্রাণ সামগ্রী ও কম্বল বিতরণ করে আসছেন তিনি। সামাজিক কাজের পাশাপাশি এলাকার বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নেও রয়েছে তার নিরবচ্ছিন্ন অবদান।

হারাধন সূত্রধর (আরাধন) যখন ভোটারদের মাঝে উপস্থিত হন, তখন সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আনন্দ ও উচ্ছ্বাস দেখা যায়। এলাকার সাধারণ মানুষ তার এই সাহসী ও সেবামূলক সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে অত্যন্ত খুশি মনে তাকে পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দিচ্ছেন।

​সেবার লক্ষ্য এক ও অবিচল
​নিজের লক্ষ্যের কথা জানাতে গিয়ে এক বুক প্রত্যয় নিয়ে হারাধন সূত্রধর (আরাধন) বলেন,
​”শৈশব থেকে দারিদ্র্য ও কষ্ট কী জিনিস তা আমি হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছি। আমি নিজের জন্য বাঁচি না, আমি জনগণের। গত ২০২৪ সালের উপজেলা নির্বাচনে মায়ের দোয়া নিয়ে ভাইস চেয়ারম্যান পদে দাঁড়াতে চেয়েছিলাম। কিন্তু অন্যের ঋণের জামিনদার হওয়ায় আইনি জটিলতায় তা পারিনি। সেদিন মায়ের সামনে নিজের কান্না ধরে রাখতে পারিনি, মা-ও কেঁদেছিলেন। এবার মায়ের মুখের হাসি ফোটাতে এবং জনগণের ভালোবাসার টানে আমি আমার নিজের ইউনিয়ন, অর্থাৎ ৬ নং পূর্বধলা সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার পদে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

​তিনি আরও যোগ করেন, “উপরে মহান সৃষ্টিকর্তা আর পাশে আমার এলাকার সাধারণ মানুষ থাকলে আমার কোনো ভয় নেই। জয়-পরাজয় বড় কথা নয়, আমৃত্যু মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও ১ নং ওয়ার্ডের  উন্নয়নে নিজেকে বিলিয়ে দিতে চাই।”
​এলাকার সুশীল সমাজ ও সাধারণ ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, একজন সৎ, উচ্চশিক্ষিত, কর্মঠ এবং দুঃখী মানুষের আপনজন হিসেবে হারাধন সূত্রধর ইতিমধ্যে এলাকায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। একজন সাবেক দিনমজুর ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় করা মানুষ যখন সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামেন, তখন তা পুরো জনপদের মানুষকে অনুপ্রাণিত করে। বর্তমানে তিনি এলাকার সকলের সার্বিক সহযোগিতা দোয়া,আশীর্বাদ ও রায় প্রত্যাশী।