ময়মনসিংহ , সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ময়মনসিংহ সিটির ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে আগাছা ও জঙ্গল পরিষ্কার কার্যক্রম চলমান পূর্বধলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা; প্রস্তুত আশ্রয়কেন্দ্র ও মেডিকেল টিম বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি মেরামতে সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তা দেওয়া হবে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বন্যাকবলিত ১১ জেলার চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী অর্থ পাচার মামলায় গাইবান্ধার সেই ‘রাম মূর্তি’ নির্মাতা হরিদাস গ্রেপ্তার মারা গেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক শ্রম প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম চৌধুরী নির্বাচন ও সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে শরিকদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসবে তারেক রহমান ​প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গাছ লাগানোর নির্দেশ সরকারের: গড়তে হবে সবুজ শিক্ষাঙ্গন মঙ্গল-বুধবার কম, বৃহস্পতিবার থেকে নতুন করে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা নীলফামারীতে ট্রাকচাপায় মা ও দুই শিশুসন্তানসহ নিহত ৪
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

অর্থ পাচার মামলায় গাইবান্ধার সেই ‘রাম মূর্তি’ নির্মাতা হরিদাস গ্রেপ্তার

​সারাদেশব্যাপী আলোচিত গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় বহুল আলোচিত রাম মূর্তি নির্মাণের মূল উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র ওরফে তরুণী দাসকে (৩৬) অর্থ পাচার (মানি লন্ডারিং) মামলায় গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি পুলিশ।

​গত রোববার (১২ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ কালী মন্দির এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত হরিদাস চন্দ্র ওই গ্রামের গোপীনাথ চন্দ্র দাসের ছেলে। তিনি ওই এলাকায় বিতর্কিত রাম মূর্তি নির্মাণের মূল উদ্যোক্তা।

​সোমবার (১৩ জুলাই) পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ার আলম খান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঢাকার উত্তরা (পশ্চিম) থানার একটি মানি লন্ডারিং মামলায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তাকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারের পর পরই তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে মন্দির এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে।

​ভারতে গমন ও ‘তাওহীদ ইসলাম’ হয়ে প্রতারণা স্থানীয় বাসিন্দা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা যায়, বাবার অভাবের সংসারে পাঁচ ভাই ও এক বোনের মধ্যে হরিদাস ছিলেন চতুর্থ। স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা শেষে তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গে চলে যান। সেখানে এক আত্মীয়ের মাধ্যমে কৌশলে স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধানের কাছ থেকে একটি এতিম সনদ সংগ্রহ করেন। পরে সেখান থেকেই মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন।

​বিগত ২০১০ সালে তিনি দেশে ফিরে ঢাকার উত্তরা এলাকায় এসে পুরোনো এসি মেরামত ও কেনাবেচার ব্যবসা শুরু করেন। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে বিয়ের উদ্দেশ্যে ধর্মান্তরিত হয়ে ‘হরিদাস চন্দ্র তরুণী দাস’ থেকে ‘তাওহীদ ইসলাম’ নাম গ্রহণ করেন। এরপর শ্বশুরবাড়ি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া এলাকায় কিছু জমিও কেনেন তিনি।

একপর্যায়ে নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের প্রটোকল অফিসার পরিচয় দিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বদলি বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি ও প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করতে শুরু করেন হরিদাস। এই অভিযোগে এর আগে ২০২২ সালের ৭ নভেম্বর রাজধানীর বনানী থেকে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) ও র‍্যাবের যৌথ অভিযানে তিনি একবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।

​এলাকায় ফেরা ও ‘রাম মূর্তি’ বিতর্ক
​দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পর ২০২৪ সালে হরিদাস আবারও নিজ এলাকায় ফিরে আসেন। এরপর গ্রামের কালী মন্দিরের পুরোনো অবকাঠামো পরিবর্তন করে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেন। এ নিয়ে গ্রামে একটি বৈঠক করে নিজে সভাপতি ও বিপিন চন্দ্র দাসকে সাধারণ সম্পাদক করে একটি মন্দির কমিটি গঠন করেন।
​২০২৫ সালের মে মাসে তিনি কাজ শুরু করেন এবং মন্দিরের নাম পরিবর্তন করে রাখেন ‘শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ কালী মন্দির’। সম্প্রতি ওই মন্দির চত্বরে হঠাৎ করেই একটি ৮১ ফুট উচ্চতার রাম মূর্তি নির্মাণের কাজ শুরু করেন তিনি। এই বিপুল পরিমাণ অর্থের উৎস এবং তার রহস্যময় কার্যক্রম নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ময়মনসিংহ সিটির ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে আগাছা ও জঙ্গল পরিষ্কার কার্যক্রম চলমান

অর্থ পাচার মামলায় গাইবান্ধার সেই ‘রাম মূর্তি’ নির্মাতা হরিদাস গ্রেপ্তার

আপডেট সময় ০৩:০৭:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

​সারাদেশব্যাপী আলোচিত গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় বহুল আলোচিত রাম মূর্তি নির্মাণের মূল উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র ওরফে তরুণী দাসকে (৩৬) অর্থ পাচার (মানি লন্ডারিং) মামলায় গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি পুলিশ।

​গত রোববার (১২ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ কালী মন্দির এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত হরিদাস চন্দ্র ওই গ্রামের গোপীনাথ চন্দ্র দাসের ছেলে। তিনি ওই এলাকায় বিতর্কিত রাম মূর্তি নির্মাণের মূল উদ্যোক্তা।

​সোমবার (১৩ জুলাই) পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ার আলম খান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঢাকার উত্তরা (পশ্চিম) থানার একটি মানি লন্ডারিং মামলায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তাকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারের পর পরই তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে মন্দির এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে।

​ভারতে গমন ও ‘তাওহীদ ইসলাম’ হয়ে প্রতারণা স্থানীয় বাসিন্দা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা যায়, বাবার অভাবের সংসারে পাঁচ ভাই ও এক বোনের মধ্যে হরিদাস ছিলেন চতুর্থ। স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা শেষে তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গে চলে যান। সেখানে এক আত্মীয়ের মাধ্যমে কৌশলে স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধানের কাছ থেকে একটি এতিম সনদ সংগ্রহ করেন। পরে সেখান থেকেই মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন।

​বিগত ২০১০ সালে তিনি দেশে ফিরে ঢাকার উত্তরা এলাকায় এসে পুরোনো এসি মেরামত ও কেনাবেচার ব্যবসা শুরু করেন। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে বিয়ের উদ্দেশ্যে ধর্মান্তরিত হয়ে ‘হরিদাস চন্দ্র তরুণী দাস’ থেকে ‘তাওহীদ ইসলাম’ নাম গ্রহণ করেন। এরপর শ্বশুরবাড়ি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া এলাকায় কিছু জমিও কেনেন তিনি।

একপর্যায়ে নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের প্রটোকল অফিসার পরিচয় দিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বদলি বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি ও প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করতে শুরু করেন হরিদাস। এই অভিযোগে এর আগে ২০২২ সালের ৭ নভেম্বর রাজধানীর বনানী থেকে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) ও র‍্যাবের যৌথ অভিযানে তিনি একবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।

​এলাকায় ফেরা ও ‘রাম মূর্তি’ বিতর্ক
​দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পর ২০২৪ সালে হরিদাস আবারও নিজ এলাকায় ফিরে আসেন। এরপর গ্রামের কালী মন্দিরের পুরোনো অবকাঠামো পরিবর্তন করে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেন। এ নিয়ে গ্রামে একটি বৈঠক করে নিজে সভাপতি ও বিপিন চন্দ্র দাসকে সাধারণ সম্পাদক করে একটি মন্দির কমিটি গঠন করেন।
​২০২৫ সালের মে মাসে তিনি কাজ শুরু করেন এবং মন্দিরের নাম পরিবর্তন করে রাখেন ‘শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ কালী মন্দির’। সম্প্রতি ওই মন্দির চত্বরে হঠাৎ করেই একটি ৮১ ফুট উচ্চতার রাম মূর্তি নির্মাণের কাজ শুরু করেন তিনি। এই বিপুল পরিমাণ অর্থের উৎস এবং তার রহস্যময় কার্যক্রম নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।