দীর্ঘ আন্দোলন, পিকেটিং এবং টানা প্রায় চার বছরের দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পর অবশেষে প্রথম ইউনিয়ন চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন নিউ ইয়র্কের ‘ফেয়ারফিল্ড বাই ম্যারিয়ট ম্যানহাটন টাইমস স্কয়ার’ এবং ‘ফোর পয়েন্ট বাই শেরাটন মিডটাউন-টাইমস স্কয়ার’ হোটেলের কর্মীরা।
গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট, ২০২৬) চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। এটিকে হোটেল শ্রমিক আন্দোলনের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক জয় হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। চুক্তিটি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে হোটেল দুটিতে কর্মরত শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটল।
চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ—যেমন মজুরি বৃদ্ধি, পেনশন এবং স্বাস্থ্যসেবা সুবিধার সুনির্দিষ্ট শর্তাবলি এখনও প্রকাশ করা হয়নি। তবে ইউনিয়ন নেতৃত্ব ও হোটেল কর্মীদের মতে, এই চুক্তি তাঁদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার পথে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
উল্লেখ করা যেতে পারে, ২০২২ সালের অক্টোবরে হোটেল দুটির কর্মচারীরা এইচটিসি (Hotel and Gaming Trades Council, AFL-CIO) ইউনিয়নে যোগ দেওয়ার পক্ষে ভোট দেন। এর পর থেকেই একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তিতে পৌঁছাতে প্রায় চার বছর ধরে দরকষাকষি চলে। এই সময়কালে ইউনিয়নের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় এবং কর্মীরা একাধিকবার পিকেটিং ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। শ্রমিকদের মূল দাবি ছিল—ন্যায্য মজুরি, সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং কর্মক্ষেত্রে সম্মানজনক আচরণ।
এ অর্জনকে শ্রমিকদের একতা ও অদম্য সাহসের ফল হিসেবে উল্লেখ করে এইচটিসি (HTC)-র প্রেসিডেন্ট রিচ মারোকো বলেন, “এটি হোটেল শ্রমিকদের জন্য একটি অসাধারণ ও ঐতিহাসিক বিজয়। কর্মীদের সততা, একতা এবং দীর্ঘ লড়াইয়ের মানসিকতাই আজ এই সফলতা এনে দিয়েছে। তাঁদের এই রাজপথের আন্দোলন এবং ঐক্যবদ্ধ অবস্থানই আলোচনার টেবিলে ইউনিয়নকে শক্তিশালী করেছে।”
চুক্তি স্বাক্ষর শেষে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এইচটিসি সদস্য মো. নাসির ইউনিয়ন নেতৃত্ব ও সহকর্মীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “এই বিজয় প্রমাণ করে যে, শ্রমিকরা যখন নিজেদের অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ থাকে এবং লড়াই অব্যাহত রাখে, তখন ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। আমি এইচটিসি প্রেসিডেন্ট রিচ মারোকো, ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ এবং সেইসব সহকর্মীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই, যাঁরা এই দীর্ঘ পথচলায় একটুও হাল ছাড়েননি।”
তিনি আরও বলেন, “এই চুক্তি কেবল দুটি হোটেলের কর্মচারীদের বিজয় নয়, বরং সমগ্র নিউ ইয়র্কের হোটেল শ্রমিকদের জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা। শ্রমিক শ্রেণির মূল শক্তিই হলো একতা, সংহতি এবং ধৈর্য।”

ডিজিটাল ডেস্ক 


















