পঞ্চগড় সদর উপজেলায় এক নারীর পোশাক পরিবর্তনের গোপন ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ও শারীরিক সম্পর্কের কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আরও একজনকে আসামি করা হয়েছে।
গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ভোরে পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়ন থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের বামনপাড়া এলাকার মো. রাসেল হক (২৬) ও ছলিয়াপাড়া এলাকার মো. বাবু হোসেন (২৭)। মামলায় আবেশ (২৫) নামের অপর এক যুবককে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (৫ অক্টোবর) রাত সোয়া ১১টার দিকে রাসেল হক হোয়াটসঅ্যাপে কল ও বার্তা পাঠাইয়া ওই নারীকে জানান, তাঁর পোশাক পরিবর্তনের গোপন ভিডিও তাঁদের কাছে আছে। এ সময় ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে সম্মানহানির হুমকি দেওয়া হয়।
পরদিন মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে রাসেল ভুক্তভোগী নারীকে ফোন করে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হলে ভিডিও ও ছবি ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, আসামি বাবু হোসেনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন দিয়ে ওই নারীর গোপন ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ভিডিওটি আসামি আবেশের কম্পিউটারে সংরক্ষণ করা হয়। এই তিনজন যোগসাজশ করে ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ওই নারীকে মানসিকভাবে অত্যাচার করছিলেন।
ঘটনাটি পুলিশকে জানানো হলে অভিযান চালিয়ে রাসেল হক ও বাবু হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাঁদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। এরপর আসামিদের পঞ্চগড়ের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক এ এস এম সাজ্জাদ হোসেনের আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ বিচারক তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান জানান, এই ঘটনায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার দুই আসামির কাছ থেকে আলামত হিসেবে মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং মামলার অপর আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

স্টাফ রিপোর্টার 


















