সামান্য বৃষ্টিতেই যেন অচল হয়ে পড়ে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা সমবায় অফিসারের কার্যালয়। অফিস ভবনের ভেতর ও বাইরের পুরো এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সেবাগ্রহীতারা। পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবার বর্ষায় একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি ঘটছে। এতে সরকারি সেবাদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিপত্র ও মূল্যবান আসবাবপত্রও ক্ষতির মুখে পড়ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বৃষ্টির পানি অফিস প্রাঙ্গণে ও অফিসের ভেতরে জমে ছোট জলাশয়ের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অফিসে প্রবেশের প্রধান পথ ও ভেতরে পানিতে ডুবে থাকায় সেবাগ্রহীতাদের বাধ্য হয়ে পানি ভেঙে কার্যালয়ে প্রবেশ করতে হচ্ছে। নারী, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী সেবাপ্রার্থীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অনেকেই দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর হাটুজলে পা ডুবিয়ে প্রয়োজনীয় সেবা নিচ্ছেন।
অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, পানি অফিস কক্ষের ভেতরে প্রবেশ করায় প্রতিদিনের দাপ্তরিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। জরুরি ফাইল, রেজিস্টার, সরকারি নথিপত্র ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিরাপদে রাখতে প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হচ্ছে। পানির কারণে অনেক আসবাবপত্র, আলমারি, টেবিল-চেয়ার, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন সরকারি সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা সরকারের আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দায়িত্বরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ভেজা ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেকেই জ্বর, সর্দি, চর্মরোগসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন। তবুও সরকারি দায়িত্ব পালনের স্বার্থে প্রতিকূল পরিবেশেই কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
সেবাগ্রহীতারা বলেন, একটি সরকারি অফিসে সেবা নিতে এসে যদি পানি ভেঙে প্রবেশ করতে হয়, তাহলে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। বর্ষা এলেই একই দুর্ভোগের শিকার হতে হয়।দ্রুসমস্যার স্থায়ী সমাধান চান তারা।স্থানীয়দের অভিযোগ, অফিস রাস্তা ও ভূমি থেকে নিচু হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে পানি নিষ্কাশনের জন্য কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় এ সংকট আরও প্রকট হয়েছে। বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাদের।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা, ড্রেনেজ সংস্কার এবং অফিস প্রাঙ্গণের উন্নয়ন করা হবে।
জনস্বার্থে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না হলে ভবিষ্যতে সরকারি নথিপত্রের অপূরণীয় ক্ষতি, সরকারি সম্পদের আর্থিক লোকসান এবং জনসেবায় আরও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি 


















