সরকার পাচারকারীদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে পাচার ও দুর্নীতিবিরোধী গণসমাবেশ বানচাল করে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বিচার ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচির হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
গত ২২ আগস্ট (শনিবার) সকাল ১১টায় পুরানা পল্টনস্থ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে যৌথ আয়োজক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে এসব কথা বলা হয়।
ডিএমপি কর্তৃক অহিংস গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলন ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের যৌথ গণসমাবেশ বাতিলের প্রতিবাদে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে হাসনাত কাইয়ূম বলেন, “বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক সংকটে দেশের অবস্থা দুর্বিষহ। সংকট মোকাবেলা ও দেশ বাঁচাতে অর্থনৈতিক সংস্কারের দাবি এবং পাচারকৃত ও অবৈধ অর্থ উদ্ধার করে প্রান্তিক মানুষকে সহজ শর্তে পুঁজি দেওয়ার বিশেষ আইন প্রণয়নের দাবিতে আজ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আমাদের পূর্বঘোষিত গণসমাবেশ ছিল।
সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি গ্রহণ করা হয় এবং ১০ দিন আগেই ডিএমপিকে লিখিতভাবে অবহিত করে নিরাপত্তা বিধানের অনুরোধ জানানো হয়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে ডিএমপি কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ দর্শানো ছাড়াই শেষ মুহূর্তে এই সমাবেশ বাতিল করে দেয়।”
তিনি আরো বলেন, “অভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে প্রশাসনিক ক্ষমতাবলে গণসমাবেশ বন্ধ করে দেওয়া সরকারের মধ্যে অন্তর্নিহিত পাচারকারী ও দুর্নীতিবাজদের পক্ষে স্বৈরাচারী মানসিকতা, রাষ্ট্র ও অর্থনৈতিক সংস্কারবিরোধী এবং বাক-স্বাধীনতাবিরোধী Positions-এরই স্পষ্ট প্রমাণ।”
সংবাদ সম্মেলন থেকে হাসনাত কাইয়ূম ৩ দফা দাবি ও পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করেন:
দায়ীদের বিচার ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের আল্টিমেটাম: সমাবেশ বাতিলের সিদ্ধান্ত পুলিশের একক হলে যুক্ত কর্মকর্তাদের দ্রুত বিচার করতে হবে। আর এটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত হলে আগামী ৭ দিনের মধ্যে সরকারকে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে; অন্যথায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সংসদের স্পিকারের কাছে আইনের খসড়া পেশ: আগামী ৩০ আগস্ট ২০২৬ জাতীয় সংসদের স্পিকারের নিকট প্রস্তাবিত “অর্থনৈতিক সংস্কার ও পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারপূর্বক প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের পুঁজি প্রদান সংক্রান্ত বিশেষ আইন”-এর খসড়া আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়া হবে।
ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান: অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে প্রশাসন ও সরকারের এই অগণতান্ত্রিক অবস্থানের বিরুদ্ধে দেশের সকল রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, নাগরিক সমাজ ও সর্বস্তরের জনগণকে সোচ্চার ও ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন অহিংস গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ্ব ইঞ্জিনিয়ার মোঃ নজরুল হক, বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক শেখ নাসিরউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক রাশিদা বেগম; বাসদ (মার্কসবাদী)-র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য জয়দীপ ভট্টাচার্য্য, জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টির (জেডিপি) আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নির্বাহী কমিটির সদস্য ফরিদুল ইসলাম ফরিদ।
সংবাদ সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভূঁইয়া।

স্টাফ রিপোর্টার 


















