ময়মনসিংহ , সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
মাগুরায় শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা: প্রধান আসামি হিটুর মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখলেন হাইকোর্ট পূর্বধলায় শিক্ষার্থীদের মোবাইল আসক্তি রোধে পুলিশের সচেতনতামূলক সমাবেশ ঢাবির শেখ মুজিবুর রহমান হলে ‘আইটি অ্যান্ড ক্যারিয়ার সেন্টার’ উদ্বোধন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে জালিয়াতি: অর্থের বিনিময়ে মিলছে নির্যাতনের ভুয়া মেডিকেল সনদ পূর্বধলায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা কমিটি অনুমোদিত খুলনায় ডেঙ্গু মোকাবিলায় ৭ কলেজে ছাত্রদলের রক্তদান কর্মসূচি আসন্ন পূর্বধলা উপজেলা নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন মৎস্যজীবী দলের নেতা মোহাম্মদ আলী ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২৫ প্যাকেট গাঁজাসহ প্রাইভেটকার জব্দ, আটক ২ হাতির সাথে মশার যুদ্ধ
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

ঝিনাইগাতীতে জমি বিক্রির পর সেই জমির গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের বনগাঁও নয়াপাড়া এলাকায় জমি বিক্রির পর ওই জমিতে থাকা ইউক্যালিপটাস গাছ কেটে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মালয়েশিয়াপ্রবাসী ইদ্রিস আলীর পক্ষে তার স্ত্রী নুরনাহার এ অভিযোগ করেছেন। তার দাবি, মর্জিনা বেগমের কাছ থেকে সাফ-কবলা দলিলের মাধ্যমে ইদ্রিস আলী জমি কেনার পর ওই জমিতে থাকা ছোট ছোট ইউক্যালিপটাস গাছ মর্জিনা কেটে বিক্রি করে দেন।

স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ওই জমির গাছগুলো কাটা হয়।

নুরনাহার বলেন, তার স্বামী ইদ্রিস আলী প্রায় ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে মালয়েশিয়ায় থাকেন। তার শ্বশুর মৃত মুন্নাফ আলীর দুটি সংসার ছিল। প্রথম স্ত্রীর ঘরে একমাত্র ছেলে ইদ্রিস আলী। দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে ছেলে মো. মোতালেব হোসেন (মুকাদুল) ও মেয়ে মর্জিনা বেগম। মুকাদুল ও মর্জিনা সহোদর ভাই-বোন এবং ইদ্রিস আলী তাদের সৎভাই।

নুরনাহারের ভাষ্য, তার শ্বশুর (মুন্নাফ আলী) মারা যাওয়ার প্রায় এক সপ্তাহ আগে তার নামে থাকা ছয় কাঠা জমি ইদ্রিসকে না জানিয়ে মুকাদুল ও মর্জিনার নামে লিখে নেওয়া হয়। তার দাবি, ওই জমির ১৭ শতাংশ মুকাদুল এবং বাকি অংশ মর্জিনা নেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে আলোচনা হয়। একপর্যায়ে মর্জিনার কাছ থেকে সাড়ে সাত শতাংশ জমি ইদ্রিস আলী সাফ-কবলা দলিলের মাধ্যমে কিনে নেন।

নুরনাহার আরও বলেন, তার শাশুড়ি মোকেজা বেগমের নামে থাকা সাড়ে ছয় কাঠা জমির মধ্যে দুই কাঠা রেখে বাকি সাড়ে চার কাঠা জমিও মর্জিনার নামে নেওয়া হয়।

নুরনাহারের অভিযোগ, তার স্বামী ইদ্রিস আলীর ক্রয়কৃত ওই জমিতে থাকা ছোট ইউক্যালিপটাস গাছগুলো মর্জিনা কেটে বিক্রি করে দেন। ইদ্রিস বিদেশে থাকায় গাছ কাটার খবর পেয়ে তার সৎভাই মুকাদুল ঘটনাস্থলে গিয়ে মর্জিনাকে গাছ কাটতে বাধা দেন।

মুকাদুল বলেন, মর্জিনা যখন গাছ কাটছিলেন, তখন তিনি তাকে বাধা দেন। তার ভাষ্য, জমিটি ইদ্রিস আলী সাফ-কবলা দলিলের মাধ্যমে কিনে নিয়েছেন। তাই ওই জমির গাছ কাটার আগে ইদ্রিসের সঙ্গে কথা বলা উচিত ছিল। গাছগুলো বিক্রি করার প্রয়োজন হলে ইদ্রিসের কাছেই বিক্রি করা যেত বলেও তিনি মর্জিনাকে জানান।

মুকাদুল আরও বলেন, গাছগুলো ৭ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। তার দাবি, ছোট গাছগুলো কাঠ হওয়ার আগেই লাকড়ি হিসেবে বিক্রি করায় ইদ্রিস আলী আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। একই সঙ্গে গাছ কেটে ফেলার কারণে রাষ্ট্রেরও ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। গাছগুলো আরও কিছুদিন রেখে বড় করা হলে কাঠ হিসেবে ভালো দামে বিক্রি করা সম্ভব হতো বলেও তিনি জানান।

গাছগুলোর ক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গাছগুলো খুব ছোট ছিল, অনেকটা চারাগাছের মতো। মোট কতটি গাছ ছিল, তা তিনি বলতে পারেননি। তার ভাষ্য, তিনি ৭ হাজার টাকায় গাছগুলো কিনে নেন। ভাই-বোনের মধ্যে গাছ নিয়ে বিরোধ রয়েছে, এ কথা তিনি জানতেন। এ কারণে প্রথমে গাছগুলো কিনতে চাননি। পরে কিনে নেন।

তবে মর্জিনা বেগম বলেন, গাছগুলো তিনিই লাগিয়েছিলেন। জমিটি ভাই ইদ্রিস আলীকে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য জায়গা পরিষ্কার করতেই তিনি গাছগুলো কেটেছেন।

মর্জিনা আরও বলেন, গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে ভাই মুকাদুলের বিরোধ হয়। মুকাদুল বলেন, মর্জিনা তার ছোট বোন। গাছ কাটতে নিষেধ করার পরও তিনি কথা না শোনায় তাকে ধমক দিয়েছেন এবং মেরেছেন। এ ঘটনায় মর্জিনা তার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছেন বলে জানান তিনি।

গাছ কাটার ক্ষেত্রে কোনো অনুমতির প্রয়োজন ছিল কি না, তা বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত হওয়ার বিষয়।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাগুরায় শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা: প্রধান আসামি হিটুর মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখলেন হাইকোর্ট

ঝিনাইগাতীতে জমি বিক্রির পর সেই জমির গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ

আপডেট সময় ১২:১৯:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের বনগাঁও নয়াপাড়া এলাকায় জমি বিক্রির পর ওই জমিতে থাকা ইউক্যালিপটাস গাছ কেটে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মালয়েশিয়াপ্রবাসী ইদ্রিস আলীর পক্ষে তার স্ত্রী নুরনাহার এ অভিযোগ করেছেন। তার দাবি, মর্জিনা বেগমের কাছ থেকে সাফ-কবলা দলিলের মাধ্যমে ইদ্রিস আলী জমি কেনার পর ওই জমিতে থাকা ছোট ছোট ইউক্যালিপটাস গাছ মর্জিনা কেটে বিক্রি করে দেন।

স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ওই জমির গাছগুলো কাটা হয়।

নুরনাহার বলেন, তার স্বামী ইদ্রিস আলী প্রায় ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে মালয়েশিয়ায় থাকেন। তার শ্বশুর মৃত মুন্নাফ আলীর দুটি সংসার ছিল। প্রথম স্ত্রীর ঘরে একমাত্র ছেলে ইদ্রিস আলী। দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে ছেলে মো. মোতালেব হোসেন (মুকাদুল) ও মেয়ে মর্জিনা বেগম। মুকাদুল ও মর্জিনা সহোদর ভাই-বোন এবং ইদ্রিস আলী তাদের সৎভাই।

নুরনাহারের ভাষ্য, তার শ্বশুর (মুন্নাফ আলী) মারা যাওয়ার প্রায় এক সপ্তাহ আগে তার নামে থাকা ছয় কাঠা জমি ইদ্রিসকে না জানিয়ে মুকাদুল ও মর্জিনার নামে লিখে নেওয়া হয়। তার দাবি, ওই জমির ১৭ শতাংশ মুকাদুল এবং বাকি অংশ মর্জিনা নেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে আলোচনা হয়। একপর্যায়ে মর্জিনার কাছ থেকে সাড়ে সাত শতাংশ জমি ইদ্রিস আলী সাফ-কবলা দলিলের মাধ্যমে কিনে নেন।

নুরনাহার আরও বলেন, তার শাশুড়ি মোকেজা বেগমের নামে থাকা সাড়ে ছয় কাঠা জমির মধ্যে দুই কাঠা রেখে বাকি সাড়ে চার কাঠা জমিও মর্জিনার নামে নেওয়া হয়।

নুরনাহারের অভিযোগ, তার স্বামী ইদ্রিস আলীর ক্রয়কৃত ওই জমিতে থাকা ছোট ইউক্যালিপটাস গাছগুলো মর্জিনা কেটে বিক্রি করে দেন। ইদ্রিস বিদেশে থাকায় গাছ কাটার খবর পেয়ে তার সৎভাই মুকাদুল ঘটনাস্থলে গিয়ে মর্জিনাকে গাছ কাটতে বাধা দেন।

মুকাদুল বলেন, মর্জিনা যখন গাছ কাটছিলেন, তখন তিনি তাকে বাধা দেন। তার ভাষ্য, জমিটি ইদ্রিস আলী সাফ-কবলা দলিলের মাধ্যমে কিনে নিয়েছেন। তাই ওই জমির গাছ কাটার আগে ইদ্রিসের সঙ্গে কথা বলা উচিত ছিল। গাছগুলো বিক্রি করার প্রয়োজন হলে ইদ্রিসের কাছেই বিক্রি করা যেত বলেও তিনি মর্জিনাকে জানান।

মুকাদুল আরও বলেন, গাছগুলো ৭ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। তার দাবি, ছোট গাছগুলো কাঠ হওয়ার আগেই লাকড়ি হিসেবে বিক্রি করায় ইদ্রিস আলী আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। একই সঙ্গে গাছ কেটে ফেলার কারণে রাষ্ট্রেরও ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। গাছগুলো আরও কিছুদিন রেখে বড় করা হলে কাঠ হিসেবে ভালো দামে বিক্রি করা সম্ভব হতো বলেও তিনি জানান।

গাছগুলোর ক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গাছগুলো খুব ছোট ছিল, অনেকটা চারাগাছের মতো। মোট কতটি গাছ ছিল, তা তিনি বলতে পারেননি। তার ভাষ্য, তিনি ৭ হাজার টাকায় গাছগুলো কিনে নেন। ভাই-বোনের মধ্যে গাছ নিয়ে বিরোধ রয়েছে, এ কথা তিনি জানতেন। এ কারণে প্রথমে গাছগুলো কিনতে চাননি। পরে কিনে নেন।

তবে মর্জিনা বেগম বলেন, গাছগুলো তিনিই লাগিয়েছিলেন। জমিটি ভাই ইদ্রিস আলীকে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য জায়গা পরিষ্কার করতেই তিনি গাছগুলো কেটেছেন।

মর্জিনা আরও বলেন, গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে ভাই মুকাদুলের বিরোধ হয়। মুকাদুল বলেন, মর্জিনা তার ছোট বোন। গাছ কাটতে নিষেধ করার পরও তিনি কথা না শোনায় তাকে ধমক দিয়েছেন এবং মেরেছেন। এ ঘটনায় মর্জিনা তার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছেন বলে জানান তিনি।

গাছ কাটার ক্ষেত্রে কোনো অনুমতির প্রয়োজন ছিল কি না, তা বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত হওয়ার বিষয়।