ময়মনসিংহ , বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আব্দুল মান্নান আলালের ‘ভাটি বাংলার বাউল’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত খুলনায় গুলিবিদ্ধ যুবকের মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যুর কারণ নিয়ে রহস্য পূর্বধলায় ৬৬টি পূজামণ্ডপের মধ্যে ৬৫টিতে প্রতিমা বিসর্জন, বাকি ১টি স্বাক্ষর করা তিনটি ফাঁকা স্ট্যাম্পের অপব্যবহারের আশঙ্কা, আইনি সুরক্ষা চান হারাধন সূত্রধর কলমাকান্দায় ফসল রক্ষা বাঁধ কেটে জলাশয়ের মাছ লুট, ইউএনও বরাবর গণ-অভিযোগ প্রতারণার শিকার হয়ে মালয়েশিয়ার অন্ধকার জেলে হাজারো বাংলাদেশি: স্বজনদের আহাজারি, দূতাবাসের কার্যকর ভূমিকার আকুল আবেদন প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য খুলনা সফর উপলক্ষে প্রস্তুতি: জেলা স্টেডিয়াম পরিদর্শনে কেসিসি প্রশাসক পূর্বধলায় আরতি প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ ​চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডিএনসির অভিযানে হেরোইন ও চোলাইমদসহ নারী গ্রেপ্তার বিরোধীদল নয় দিল্লির সঙ্গে সরকার নিজেই আঁতাত করছে বলে মন্তব্য করেছেন গোলাম পরওয়ার
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

প্রতারণার শিকার হয়ে মালয়েশিয়ার অন্ধকার জেলে হাজারো বাংলাদেশি: স্বজনদের আহাজারি, দূতাবাসের কার্যকর ভূমিকার আকুল আবেদন

  • স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ১০:১০:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
  • ২১ বার পড়া হয়েছে

​মালয়েশিয়া: জীবনের তাগিদে এবং পরিবারের মুখে একমুঠো ভাত তুলে দেওয়ার আশায় সব হারিয়ে হাজার হাজার বাংলাদেশি পাড়ি জমিয়েছিলেন স্বপ্নের দেশ মালয়েশিয়ায়। কিন্তু দালালচক্রের প্রতারণা আর ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে তাদের সেই স্বপ্ন আজ পরিণত হয়েছে এক বিভীষিকাময় বাস্তবতায়। নথিপত্রহীন কিংবা অবৈধ আখ্যা দিয়ে দেশটির বিভিন্ন বন্দিশালা ও কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে অসংখ্য প্রবাসীকে। স্যাঁতসেঁতে অন্ধকার প্রকোষ্ঠে কাটছে তাদের দিন-রাত, অথচ এই ‘রেমিটেন্স যোদ্ধাদের’ সাহায্যে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
​

ভুগতে থাকা একাধিক প্রবাসী ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দালালচক্রের মিথ্যা প্রলোভনে পড়ে অনেকেই ভিজিট কিংবা স্টুডেন্ট ভিসায় মালয়েশিয়ায় আসেন। অনেকে আবার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিপজ্জনক নৌপথে পৌঁছান সেখানে। কাজ কিংবা বৈধ আকামা দেওয়ার নামে সর্বস্ব লুটে নেওয়ার পর দালালরা গা-ঢাকা দিলে এসব শ্রমিক সম্পূর্ণ অনিয়মিত ও অসহায় হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে তারা গ্রেপ্তার হয়ে ঠাঁই পান মালয়েশিয়ার কঠোর বন্দিশালাগুলোতে।

​বন্দিদশার ভয়াবহ বর্ণনা দিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রবাসী আকুতি জানিয়ে বলেন, “এখানে মানুষের মতো বাঁচার কোনো পরিবেশ নেই। দুই বেলার জায়গায় এক বেলা আধপেটা খেয়ে কোনোমতে প্রাণ টিকিয়ে রেখেছি। মাসের পর মাস কেটে যাচ্ছে, কিন্তু আমাদের খোঁজ কেউ নেয় না। দেশে স্বজনেরা না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে, আর আমরা এখানে জেলের অন্ধকারে পচছি।”

​সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমানে ঠিক কতজন বাংলাদেশি মালয়েশিয়ার বিভিন্ন কারাগারে আটক রয়েছেন, তার কোনো সঠিক বা সরকারি পরিসংখ্যান নেই। তবে আনুমানিক হিসাব অনুযায়ী এ সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে (অনেকে ধারণা করছেন এ সংখ্যা কেবল নির্দিষ্ট কিছু ডিটেনশন সেন্টারেই বহু শত)। সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয় হলো, বন্দীদের মুক্ত করা বা আইনি সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দূতাবাস ও স্থানীয় সংস্থাগুলোর উদাসীনতার অভিযোগ তুলছেন প্রবাসীরা।
​

ক্ষোভ প্রকাশ করে এক প্রবাসী বাংলাদেশ জানান, “নেপাল বা অন্য কোনো দেশের শ্রমিক আটক হলে তাদের দেশের মন্ত্রী বা কূটনৈতিকরা ছুটে আসেন, অতি দ্রুত মুক্তির ব্যবস্থা করেন। অথচ যাদের কষ্টার্জিত রেমিটেন্সে বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা ঘোরে, তাদের বিপদের দিনে কেন এই রাষ্ট্রীয় নীরবতা? এটা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।”

​উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মালয়েশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিরা আকুল আবেদন জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে। তারা বলেন, “এসব মানুষ কোনো অপরাধী নয়; তারা কেবল একটি উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখেছিল এবং দালালদের প্রতারণার শিকার হয়েছে। অবিলম্বে সরকারি হস্তক্ষেপে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা ত্বরান্বিত করে কারাবন্দী বাংলাদেশিদের দ্রুত মুক্তি ও দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হোক।”

​প্রবাসীদের এখন একটাই দাবি—আর যেন কোনো প্রবাসী ভাই জেলের অন্ধকার কোণে হারিয়ে না যান। দ্রুত যেন তাদের মুক্ত করে প্রিয় মাতৃভূমিতে ফেরত পাঠানো হয়।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আব্দুল মান্নান আলালের ‘ভাটি বাংলার বাউল’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত

প্রতারণার শিকার হয়ে মালয়েশিয়ার অন্ধকার জেলে হাজারো বাংলাদেশি: স্বজনদের আহাজারি, দূতাবাসের কার্যকর ভূমিকার আকুল আবেদন

আপডেট সময় ১০:১০:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

​মালয়েশিয়া: জীবনের তাগিদে এবং পরিবারের মুখে একমুঠো ভাত তুলে দেওয়ার আশায় সব হারিয়ে হাজার হাজার বাংলাদেশি পাড়ি জমিয়েছিলেন স্বপ্নের দেশ মালয়েশিয়ায়। কিন্তু দালালচক্রের প্রতারণা আর ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে তাদের সেই স্বপ্ন আজ পরিণত হয়েছে এক বিভীষিকাময় বাস্তবতায়। নথিপত্রহীন কিংবা অবৈধ আখ্যা দিয়ে দেশটির বিভিন্ন বন্দিশালা ও কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে অসংখ্য প্রবাসীকে। স্যাঁতসেঁতে অন্ধকার প্রকোষ্ঠে কাটছে তাদের দিন-রাত, অথচ এই ‘রেমিটেন্স যোদ্ধাদের’ সাহায্যে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
​

ভুগতে থাকা একাধিক প্রবাসী ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দালালচক্রের মিথ্যা প্রলোভনে পড়ে অনেকেই ভিজিট কিংবা স্টুডেন্ট ভিসায় মালয়েশিয়ায় আসেন। অনেকে আবার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিপজ্জনক নৌপথে পৌঁছান সেখানে। কাজ কিংবা বৈধ আকামা দেওয়ার নামে সর্বস্ব লুটে নেওয়ার পর দালালরা গা-ঢাকা দিলে এসব শ্রমিক সম্পূর্ণ অনিয়মিত ও অসহায় হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে তারা গ্রেপ্তার হয়ে ঠাঁই পান মালয়েশিয়ার কঠোর বন্দিশালাগুলোতে।

​বন্দিদশার ভয়াবহ বর্ণনা দিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রবাসী আকুতি জানিয়ে বলেন, “এখানে মানুষের মতো বাঁচার কোনো পরিবেশ নেই। দুই বেলার জায়গায় এক বেলা আধপেটা খেয়ে কোনোমতে প্রাণ টিকিয়ে রেখেছি। মাসের পর মাস কেটে যাচ্ছে, কিন্তু আমাদের খোঁজ কেউ নেয় না। দেশে স্বজনেরা না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে, আর আমরা এখানে জেলের অন্ধকারে পচছি।”

​সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমানে ঠিক কতজন বাংলাদেশি মালয়েশিয়ার বিভিন্ন কারাগারে আটক রয়েছেন, তার কোনো সঠিক বা সরকারি পরিসংখ্যান নেই। তবে আনুমানিক হিসাব অনুযায়ী এ সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে (অনেকে ধারণা করছেন এ সংখ্যা কেবল নির্দিষ্ট কিছু ডিটেনশন সেন্টারেই বহু শত)। সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয় হলো, বন্দীদের মুক্ত করা বা আইনি সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দূতাবাস ও স্থানীয় সংস্থাগুলোর উদাসীনতার অভিযোগ তুলছেন প্রবাসীরা।
​

ক্ষোভ প্রকাশ করে এক প্রবাসী বাংলাদেশ জানান, “নেপাল বা অন্য কোনো দেশের শ্রমিক আটক হলে তাদের দেশের মন্ত্রী বা কূটনৈতিকরা ছুটে আসেন, অতি দ্রুত মুক্তির ব্যবস্থা করেন। অথচ যাদের কষ্টার্জিত রেমিটেন্সে বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা ঘোরে, তাদের বিপদের দিনে কেন এই রাষ্ট্রীয় নীরবতা? এটা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।”

​উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মালয়েশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিরা আকুল আবেদন জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে। তারা বলেন, “এসব মানুষ কোনো অপরাধী নয়; তারা কেবল একটি উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখেছিল এবং দালালদের প্রতারণার শিকার হয়েছে। অবিলম্বে সরকারি হস্তক্ষেপে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা ত্বরান্বিত করে কারাবন্দী বাংলাদেশিদের দ্রুত মুক্তি ও দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হোক।”

​প্রবাসীদের এখন একটাই দাবি—আর যেন কোনো প্রবাসী ভাই জেলের অন্ধকার কোণে হারিয়ে না যান। দ্রুত যেন তাদের মুক্ত করে প্রিয় মাতৃভূমিতে ফেরত পাঠানো হয়।