নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের বিশাউটি মৌজায় ফসল রক্ষা বাঁধ কেটে উন্মুক্ত জলাশয়ের মাছ লুটের অভিযোগ উঠেছে। এতে বিশাউটি গ্রামের প্রায় শতাধিক কৃষক ও জেলে পরিবার চরম ভোগান্তি ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন। এ ঘটনায় প্রতিকার ও স্থায়ী সমাধানের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত গণ-অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের বিশাউটি মৌজার ওই উন্মুক্ত জলাশয়টি পার্শ্ববর্তী সুনামগঞ্জ জেলার মধ্যনগর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত। স্থানীয় গরিব কৃষকদের ফসল রক্ষা ও জেলেদের সুবিধার্থে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জলাশয়টি উন্মুক্ত ঘোষণা করেন।
তবে অভিযোগ উঠেছে, সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার গড়াকাটা গ্রামের উজ্জ্বল মিয়া, শাহিন ও বাবুল মিয়ার নেতৃত্বে একদল প্রভাবশালী ব্যক্তি গায়ের জোরে জলাশয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। তারা নিয়মিত অবৈধভাবে ওই জলাশয় থেকে মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে বাধা দিলে উল্টো ক্ষুব্ধ হয়ে এলাকাবাসী নিজেদের ফসল রক্ষায় যে মাটির বাঁধ নির্মাণ করেছিলেন, রাতের আঁধারে তা কেটে দেওয়া হয়। ফলে বিষাউটি গ্রামের সাধারণ কৃষকদের ফসল মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে।
ভুক্তভোগী বিশাউটি গ্রামের বাসিন্দারা জানান, “উন্মুক্ত জলাশয়টি আমাদের কলমাকান্দা উপজেলার সীমানায় অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও আমরা এখানে মাছ ধরতে পারছি না। মাছ ধরতে গেলে মধ্যনগর উপজেলার গড়াকাটা গ্রামের ওই চক্রের লোকজন আমাদের নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে।”
তারা আরও বলেন, “সীমানা ও জলাশয় নিয়ে জটিলতা তৈরি হলে ইতিপূর্বে কলমাকান্দা ও মধ্যনগর—দুই উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাদের মধ্যস্থতায় একটি সমঝোতা এবং সীমানা প্রাচীর বা চিহ্ন নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু প্রভাবশালী চক্রটি পরবর্তীতে সেই সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলে দেয়। কোনো উপায় না দেখে আমরা বাধ্য হয়ে ফের ইউএনও’র কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।”
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক এবং দুই উপজেলার সীমান্ত এলাকায় স্থায়ী সমাধান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।

নুরুল ইসলাম: (নেএকোণা) জেলা প্রতিনিধি 


















