ময়মনসিংহ , মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
শেরপুরে মাইগভ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত সাতক্ষীরার এমপির সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোর মূল হোতা শ্যালক ওবায়দুর বললেন মরিয়মের বাবা অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে তেলের দাম অনেক কম বলে মন্তব্য করেছেন রিজভী ​অপ্রতিম হত্যা মামলা: বাবার ব্যবসার ডেলিভারিম্যান ছিলেন প্রধান আসামি ফাহাদ এইচএসসি পাসেই আড়ংয়ে ৫০০ জনের চাকরির সুযোগ নাসের রিকাবদারসহ পুলিশের শীর্ষ ৪ কর্মকর্তা পদে রদবদল জাতিসংঘ অধিবেশনে যাচ্ছেন যারা: সফরসঙ্গীদের তালিকা প্রকাশ ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রভাবকে ‘ভূমিকম্প’ : কাতারের প্রধানমন্ত্রী আজ ২১শে সেপ্টেম্বর, আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস জ্বালানি তেলের নতুন দাম কার্যকর, লিটারে বাড়ল ২০ টাকা
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

আমি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর বাংলাদেশে জামাতিদের ‘চিড়বিড়ানি’ বেড়ে গেছে বললেন শুভেন্দু অধিকারী

  • ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:২৬:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
  • ৭৫ বার পড়া হয়েছে

ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত সুরক্ষা এবং অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে একাধিকবার কঠোর বার্তা দিয়েছেন নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার (১৮ মে) সন্ধ্যায় কলকাতার ভবানীপুর ও ক্যামাক স্ট্রিটে আয়োজিত ধন্যবাদ জ্ঞাপন অনুষ্ঠানে তিনি অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানো এবং রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেনৎ

সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জিকে তার নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত করে জয়লাভের পর ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

নিজেকে সাধারণ মানুষের ‘ভাই’ হিসেবে উল্লেখ করে শুভেন্দু সাফ জানিয়ে দেন, তিনি ভয় পাওয়ার বা মাথা নোয়ানোর লোক নন এবং বিজেপি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, এই মুখ্যমন্ত্রী তা পূরণ করবে। তার সরকারের কাছে সবার আগে রাষ্ট্র ও দেশ রক্ষা। ইতোমধ্যে ভোটার তালিকা থেকে অনুপ্রবেশকারীদের নাম বাতিল করা হয়েছে এবং এখন তাদের প্রত্যর্পণের সময় চলে এসেছে। এর আগে প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের পরই তিনি ঘোষণা করেছিলেন, ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ-কে সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জমি দেওয়া হবে।

একই দিনে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় বৈঠকে একটি বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্যে ধর্মীয় শ্রেণীবিন্যাসের ভিত্তিতে পরিচালিত সমস্ত প্রকল্প বন্ধ করার ঘোষণা দিয়ে ইমাম, মোয়াজ্জেম ও পুরোহিত ভাতা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, সরকারের কাজ কি ইমাম-মোয়াজ্জেমদের ভাতা দেওয়া, নাকি শিক্ষার উন্নতি ও চাকরির ব্যবস্থা করা? তিনি জানান, ভাতার পেছনে যে অর্থ ব্যয় হতো, তা এখন থেকে ‘বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ’ প্রকল্পে দেওয়া হবে, যাতে হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টান সব ধর্মের শিক্ষার্থীরা উপকৃত হতে পারে। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, পশ্চিমবঙ্গে আর কোনো তোষণের রাজনীতি চলবে না।

অনুষ্ঠানে মমতা ব্যানার্জিকে তীব্র কটাক্ষ করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, মিত্র ইনস্টিটিউশনের যে চারটি বুথ রয়েছে, তার প্রত্যেকটিতেই মমতা হেরেছেন এবং বিজেপি লিড পেয়েছে। যে নেত্রী নিজের বুথেই জিততে পারেন না, রাজ্যের মানুষ তাকে দরজা দেখিয়ে দিয়েছেন এবং তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে। একই সাথে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জিসহ চারজন সুনির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, তাদের একাধিক সম্পত্তির সন্ধান মিলেছে। এই সমস্ত দুর্নীতিবাজরা এতদিন ধরে যা লুটপাট করেছে, আগামী দিনে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তদন্ত করে তাদের কারাগারে পাঠানোর কাজ করা হবে। অবসান ঘটবে গত ১৫ বছরের বিধায়কদের নিষ্ক্রিয়তার এবং সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানের জন্য দ্রুতই একটি হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শেরপুরে মাইগভ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

আমি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর বাংলাদেশে জামাতিদের ‘চিড়বিড়ানি’ বেড়ে গেছে বললেন শুভেন্দু অধিকারী

আপডেট সময় ১০:২৬:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত সুরক্ষা এবং অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে একাধিকবার কঠোর বার্তা দিয়েছেন নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার (১৮ মে) সন্ধ্যায় কলকাতার ভবানীপুর ও ক্যামাক স্ট্রিটে আয়োজিত ধন্যবাদ জ্ঞাপন অনুষ্ঠানে তিনি অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানো এবং রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেনৎ

সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জিকে তার নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত করে জয়লাভের পর ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

নিজেকে সাধারণ মানুষের ‘ভাই’ হিসেবে উল্লেখ করে শুভেন্দু সাফ জানিয়ে দেন, তিনি ভয় পাওয়ার বা মাথা নোয়ানোর লোক নন এবং বিজেপি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, এই মুখ্যমন্ত্রী তা পূরণ করবে। তার সরকারের কাছে সবার আগে রাষ্ট্র ও দেশ রক্ষা। ইতোমধ্যে ভোটার তালিকা থেকে অনুপ্রবেশকারীদের নাম বাতিল করা হয়েছে এবং এখন তাদের প্রত্যর্পণের সময় চলে এসেছে। এর আগে প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের পরই তিনি ঘোষণা করেছিলেন, ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ-কে সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জমি দেওয়া হবে।

একই দিনে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় বৈঠকে একটি বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্যে ধর্মীয় শ্রেণীবিন্যাসের ভিত্তিতে পরিচালিত সমস্ত প্রকল্প বন্ধ করার ঘোষণা দিয়ে ইমাম, মোয়াজ্জেম ও পুরোহিত ভাতা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, সরকারের কাজ কি ইমাম-মোয়াজ্জেমদের ভাতা দেওয়া, নাকি শিক্ষার উন্নতি ও চাকরির ব্যবস্থা করা? তিনি জানান, ভাতার পেছনে যে অর্থ ব্যয় হতো, তা এখন থেকে ‘বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ’ প্রকল্পে দেওয়া হবে, যাতে হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টান সব ধর্মের শিক্ষার্থীরা উপকৃত হতে পারে। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, পশ্চিমবঙ্গে আর কোনো তোষণের রাজনীতি চলবে না।

অনুষ্ঠানে মমতা ব্যানার্জিকে তীব্র কটাক্ষ করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, মিত্র ইনস্টিটিউশনের যে চারটি বুথ রয়েছে, তার প্রত্যেকটিতেই মমতা হেরেছেন এবং বিজেপি লিড পেয়েছে। যে নেত্রী নিজের বুথেই জিততে পারেন না, রাজ্যের মানুষ তাকে দরজা দেখিয়ে দিয়েছেন এবং তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে। একই সাথে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জিসহ চারজন সুনির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, তাদের একাধিক সম্পত্তির সন্ধান মিলেছে। এই সমস্ত দুর্নীতিবাজরা এতদিন ধরে যা লুটপাট করেছে, আগামী দিনে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তদন্ত করে তাদের কারাগারে পাঠানোর কাজ করা হবে। অবসান ঘটবে গত ১৫ বছরের বিধায়কদের নিষ্ক্রিয়তার এবং সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানের জন্য দ্রুতই একটি হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।