(১ অক্টোবর ২০২৬) আজ আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য— ‘দীর্ঘায়ুর জন্য নতুন ভাবনা’। জাতিসংঘের নির্ধারিত ইংরেজি প্রতিপাদ্য ‘The Age of Longevity: Rethinking Systems for Longer Lives’।
১৯৯০ সালের ১৪ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪৫/১০৬ নম্বর প্রস্তাবের মাধ্যমে ১ অক্টোবরকে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পরের বছর ১৯৯১ সাল থেকে দিবসটি বিশ্বব্যাপী পালিত হয়ে আসছে।
সাধারণভাবে ৬০ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী মানুষকে প্রবীণ জনগোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশে প্রবীণ মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। সরকারি সামাজিক সুরক্ষা-সংক্রান্ত নথিতে ২০২০ সালে দেশে ৬০ বছর ও তদূর্ধ্ব মানুষের সংখ্যা ১ কোটি ৩১ লাখের বেশি ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জনসংখ্যার বার্ধক্যজনিত পরিবর্তন দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে।
জনসংখ্যার এই পরিবর্তনের সঙ্গে প্রবীণদের আর্থিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা, সামাজিক মর্যাদা ও পারিবারিক সহায়তার বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বয়সের ভারে শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়া, বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়া এবং আয়-রোজগারের সক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণে অনেক প্রবীণ মানুষ পরিবার ও সমাজে নানা ধরনের সংকটের মুখোমুখি হন। ফলে তাঁদের জন্য শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করাও জরুরি।
বাংলাদেশে প্রবীণদের জন্য বয়স্ক ভাতা কর্মসূচি রয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ কর্মসূচির লক্ষ্য প্রবীণ জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা ও পারিবারিক-সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বয়স্ক ভাতা কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়িয়ে ৬২ লাখ করা হয়েছে; তাঁদের মধ্যে অধিকাংশকে মাসে ৭০০ টাকা এবং ৯০ বছরের বেশি বয়সীদের একটি অংশকে মাসে ১ হাজার টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
তবে ক্রমবর্ধমান প্রবীণ জনগোষ্ঠীর প্রয়োজনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে স্বাস্থ্যসেবা, দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা, বিনোদন, নিরাপদ আবাসন, সামাজিক অংশগ্রহণ এবং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের উপযোগী পরিবেশ আরও সম্প্রসারণের প্রয়োজন রয়েছে। প্রবীণদের দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যার জন্য মানুষকেন্দ্রিক ও সাশ্রয়ী ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়টিও সাম্প্রতিক নীতিগত আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।
প্রবীণরা সমাজের বোঝা নন; তাঁরা পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও অবদানের ধারক। তাই তাঁদের প্রতি সম্মান, যত্ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়, একটি সুস্থ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনেরও গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসে বিশ্বের সব প্রবীণ মানুষের প্রতি রইল বিনম্র শ্রদ্ধা, সম্মান ও শুভকামনা।

হারাধন সূত্রধর: পূর্বধলা (নেত্রকোনা) বিশেষ প্রতিনিধি 








