ময়মনসিংহ , মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটি নির্বাচন: আবারও সহ-সভাপতি পদে সেলিম-আলী পরিষদের মহিউদ্দিন দেওয়ানের পক্ষে সহযোগিতার আহ্বান লিংক রোডে ১৪ হাজার ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার খানমরিচ ইউনিয়নের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও পথচলা নেত্রকোনার পাহাড়ে শুষ্ক মৌসুমে পানি নেই, বর্ষায় নিরাপদ পানির সংকট সারা বছর পানির কষ্টে সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকার মানুষ ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক নির্মাণ: ক্ষতিপূরণের টাকা উত্তোলনে হয়রানি ও বৈষম্যের প্রতিবাদে চার মৌজাবাসীর মানববন্ধন ও ১৫ দিনের আল্টিমেটাম ১০ কোটি টাকার সেতুর ফুটপাত স্ল্যাবে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহারের অভিযোগ বিপিএম-সেবা’ পদক পেলেন গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ বাউবিতে ইউজিসির হিট প্রকল্পের আওতায় শিক্ষকদের তিন মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু নেত্রকোনায় ‘নিউট্রিশন স্মার্ট কমিউনিটি প্রজেক্ট’ বিষয়ক সূচনা কর্মশালা অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহ রেঞ্জের আগস্ট মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

খানমরিচ ইউনিয়নের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও পথচলা

পাবনা জেলার ভাঙ্গুড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী খানমরিচ ইউনিয়ন। চলনবিলের জল-মাটি, কৃষি, নদী-খাল, হাট-বাজার এবং মানুষের জীবন-জীবিকার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই জনপদের রয়েছে সুদীর্ঘ সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও প্রশাসনিক ঐতিহ্য। ইতিহাস ও ভৌগোলিক পরিচয় খানমরিচ ইউনিয়ন ভাঙ্গুড়া উপজেলার চলনবিলবিধৌত এলাকায় অবস্থিত।

গুমানী ও বড়াল নদীঘেরা এই অঞ্চল মূলত প্লাবন সমভূমির অংশ। বর্ষায় বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে, আর শুষ্ক মৌসুমে সেই জমিতেই কৃষকের সোনালি ফসলের সমারোহ দেখা যায়। খানমরিচের ইতিহাস শুধু আধুনিক সময়ের নয়। এ এলাকার বিভিন্ন স্থানে পুকুর খননের সময় প্রাচীন পৌরাণিক দেব-দেবীর মূর্তি পাওয়া যাওয়ার তথ্য সরকারি নথিতে রয়েছে। এসব নিদর্শনের কিছু জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। সরকারি উপজেলা তথ্য অনুযায়ী, এর ফলে এ অঞ্চলের সঙ্গে প্রাচীন সভ্যতার যোগাযোগ থাকার সম্ভাবনার কথা মনে করা হয় এবং উত্তরাঞ্চলের পুণ্ড্রনগর সভ্যতার সঙ্গে যোগাযোগের সম্ভাবনাও উল্লেখ করা হয়েছে।

খানমরিচ ইউনিয়ন পরিষদের ইতিহাস খানমরিচ ইউনিয়নের প্রশাসনিক ইতিহাস ভাঙ্গুড়া উপজেলার ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। ভাঙ্গুড়া উপজেলা প্রতিষ্ঠার আগে খানমরিচ ইউনিয়ন চাটমোহর উপজেলার অধীন ছিল। এই সময়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন মরহুম হাজী মধু সরদার, পিতা—মৃত ঘেচু সরদার, গ্রাম—পরমানন্দপুর। তিনি তখন খানমরিচ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন। ইউনিয়নের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, তাঁর নেতৃত্বে খানমরিচ ইউনিয়ন চাটমোহর থেকে পৃথক হয়ে ভাঙ্গুড়া উপজেলা গঠনের প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ কারণে তাঁকে ভাঙ্গুড়া এলাকার রূপকার ও খানমরিচের অন্যতম প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইউনিয়নের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে মোঃ ইউনুছ আলী খন্দকার-এর অবদানও সরকারি ইউনিয়ন পোর্টালে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁকে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখা এবং ইউনিয়নের প্রথম সফল চেয়ারম্যান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধ ও জনপ্রশাসনে অবদান খানমরিচ ইউনিয়নের ইতিহাসে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জনপ্রতিনিধিদের অবদানও স্মরণীয়। মোঃ আছাদুর রহমান (বীর মুক্তিযোদ্ধা) ছিলেন খানমরিচ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সফলতার জন্য তিনি ১৯৮৯ সালে পাবনা জেলার শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং বাংলাদেশ সরকারের শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যানের স্বর্ণপদক লাভ করেন—এ তথ্য ইউনিয়নের সরকারি পোর্টালে উল্লেখ রয়েছে। শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে খানমরিচ খানমরিচের গৌরব শুধু রাজনীতি ও প্রশাসনে সীমাবদ্ধ নয়; শিক্ষা, সাহিত্য, সাংবাদিকতা ও সংস্কৃতিতেও এ ইউনিয়নের মানুষের অবদান রয়েছে। মোঃ নুরুজ্জামান সবুজ, পরমানন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, শিক্ষকতার পাশাপাশি সাংবাদিক, সংগঠক, সম্পাদক ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের গীতিকার হিসেবে পরিচিত। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০০৪ সালে পাবনা জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হয়ে সরকারি পদক লাভ করেন। এছাড়া ২০০৫ সালে শ্রেষ্ঠ সংগঠক হিসেবে পুরস্কারসহ বিভিন্ন সময়ে সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে সম্মাননা পেয়েছেন। তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ও সম্পাদিত গ্রন্থও রয়েছে।

সামরিক অঙ্গনে গৌরব খানমরিচ ইউনিয়নের আরেক কৃতী সন্তান মেজর (অবঃ) আখতারুজ্জামান খান, পিতা—মৃতঃ মোসলেম উদ্দিন খান, গ্রাম—মাদারবাড়ীয়া। ইউনিয়নের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, তিনি খানমরিচ ইউনিয়ন থেকে সর্বপ্রথম বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং সফলতার সঙ্গে সামরিক চাকরি সম্পন্ন করেন।
হাট-বাজার ও জনজীবন খানমরিচের গ্রামীণ অর্থনীতি ও মানুষের জীবনযাত্রায় হাট-বাজারের ভূমিকা ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি জেলা তথ্য অনুযায়ী, ময়দানদীঘি হাট শনিবার ও মঙ্গলবার বসে এবং পুকুরপাড় হাট প্রতিদিন বাজার হিসেবে পরিচালিত হয়। এসব হাট স্থানীয় কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের কেনাবেচার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।

প্রকৃতি ও পর্যটন চলনবিলের অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য খানমরিচের অন্যতম সম্পদ। বর্ষাকালে বিলের পানি, নৌকা, সবুজ প্রকৃতি ও গ্রামীণ জীবন এ অঞ্চলকে বিশেষ সৌন্দর্য দেয়। সরকারি ইউনিয়ন পোর্টালে পরমানন্দপুর ট্যুরিজম লাইন-কে খানমরিচ ইউনিয়নের একটি পর্যটনস্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে ভাঙ্গুড়া সদর থেকে নৌকায় যাতায়াত করা যায়। বর্তমান খানমরিচ সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে খানমরিচ ইউনিয়নও এগিয়ে চলেছে। শিক্ষা, কৃষি, যোগাযোগ, স্থানীয় সরকার, সামাজিক নিরাপত্তা ও ডিজিটাল সেবার বিস্তারের মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এসেছে। ইউনিয়ন পরিষদ আজ জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, গ্রাম আদালত, সামাজিক নিরাপত্তা, নাগরিক সেবা ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনগণের পাশে রয়েছে। খানমরিচের ইতিহাস তাই কেবল একটি ইউনিয়নের ইতিহাস নয়—এটি আমাদের পূর্বপুরুষদের সংগ্রাম, কৃষকের ঘাম, মুক্তিযোদ্ধার সাহস, শিক্ষকের জ্ঞান, সাহিত্যিকের সৃজনশীলতা এবং সাধারণ মানুষের ভালোবাসায় গড়ে ওঠা একটি জনপদের ইতিহাস। যাঁদের অবদানে খানমরিচ আজকের অবস্থানে এসেছে, তাঁদের প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটি নির্বাচন: আবারও সহ-সভাপতি পদে সেলিম-আলী পরিষদের মহিউদ্দিন দেওয়ানের পক্ষে সহযোগিতার আহ্বান

খানমরিচ ইউনিয়নের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও পথচলা

আপডেট সময় ০১:৩১:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাবনা জেলার ভাঙ্গুড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী খানমরিচ ইউনিয়ন। চলনবিলের জল-মাটি, কৃষি, নদী-খাল, হাট-বাজার এবং মানুষের জীবন-জীবিকার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই জনপদের রয়েছে সুদীর্ঘ সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও প্রশাসনিক ঐতিহ্য। ইতিহাস ও ভৌগোলিক পরিচয় খানমরিচ ইউনিয়ন ভাঙ্গুড়া উপজেলার চলনবিলবিধৌত এলাকায় অবস্থিত।

গুমানী ও বড়াল নদীঘেরা এই অঞ্চল মূলত প্লাবন সমভূমির অংশ। বর্ষায় বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে, আর শুষ্ক মৌসুমে সেই জমিতেই কৃষকের সোনালি ফসলের সমারোহ দেখা যায়। খানমরিচের ইতিহাস শুধু আধুনিক সময়ের নয়। এ এলাকার বিভিন্ন স্থানে পুকুর খননের সময় প্রাচীন পৌরাণিক দেব-দেবীর মূর্তি পাওয়া যাওয়ার তথ্য সরকারি নথিতে রয়েছে। এসব নিদর্শনের কিছু জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। সরকারি উপজেলা তথ্য অনুযায়ী, এর ফলে এ অঞ্চলের সঙ্গে প্রাচীন সভ্যতার যোগাযোগ থাকার সম্ভাবনার কথা মনে করা হয় এবং উত্তরাঞ্চলের পুণ্ড্রনগর সভ্যতার সঙ্গে যোগাযোগের সম্ভাবনাও উল্লেখ করা হয়েছে।

খানমরিচ ইউনিয়ন পরিষদের ইতিহাস খানমরিচ ইউনিয়নের প্রশাসনিক ইতিহাস ভাঙ্গুড়া উপজেলার ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। ভাঙ্গুড়া উপজেলা প্রতিষ্ঠার আগে খানমরিচ ইউনিয়ন চাটমোহর উপজেলার অধীন ছিল। এই সময়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন মরহুম হাজী মধু সরদার, পিতা—মৃত ঘেচু সরদার, গ্রাম—পরমানন্দপুর। তিনি তখন খানমরিচ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন। ইউনিয়নের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, তাঁর নেতৃত্বে খানমরিচ ইউনিয়ন চাটমোহর থেকে পৃথক হয়ে ভাঙ্গুড়া উপজেলা গঠনের প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ কারণে তাঁকে ভাঙ্গুড়া এলাকার রূপকার ও খানমরিচের অন্যতম প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইউনিয়নের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে মোঃ ইউনুছ আলী খন্দকার-এর অবদানও সরকারি ইউনিয়ন পোর্টালে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁকে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখা এবং ইউনিয়নের প্রথম সফল চেয়ারম্যান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধ ও জনপ্রশাসনে অবদান খানমরিচ ইউনিয়নের ইতিহাসে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জনপ্রতিনিধিদের অবদানও স্মরণীয়। মোঃ আছাদুর রহমান (বীর মুক্তিযোদ্ধা) ছিলেন খানমরিচ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সফলতার জন্য তিনি ১৯৮৯ সালে পাবনা জেলার শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং বাংলাদেশ সরকারের শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যানের স্বর্ণপদক লাভ করেন—এ তথ্য ইউনিয়নের সরকারি পোর্টালে উল্লেখ রয়েছে। শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে খানমরিচ খানমরিচের গৌরব শুধু রাজনীতি ও প্রশাসনে সীমাবদ্ধ নয়; শিক্ষা, সাহিত্য, সাংবাদিকতা ও সংস্কৃতিতেও এ ইউনিয়নের মানুষের অবদান রয়েছে। মোঃ নুরুজ্জামান সবুজ, পরমানন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, শিক্ষকতার পাশাপাশি সাংবাদিক, সংগঠক, সম্পাদক ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের গীতিকার হিসেবে পরিচিত। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০০৪ সালে পাবনা জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হয়ে সরকারি পদক লাভ করেন। এছাড়া ২০০৫ সালে শ্রেষ্ঠ সংগঠক হিসেবে পুরস্কারসহ বিভিন্ন সময়ে সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে সম্মাননা পেয়েছেন। তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ও সম্পাদিত গ্রন্থও রয়েছে।

সামরিক অঙ্গনে গৌরব খানমরিচ ইউনিয়নের আরেক কৃতী সন্তান মেজর (অবঃ) আখতারুজ্জামান খান, পিতা—মৃতঃ মোসলেম উদ্দিন খান, গ্রাম—মাদারবাড়ীয়া। ইউনিয়নের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, তিনি খানমরিচ ইউনিয়ন থেকে সর্বপ্রথম বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং সফলতার সঙ্গে সামরিক চাকরি সম্পন্ন করেন।
হাট-বাজার ও জনজীবন খানমরিচের গ্রামীণ অর্থনীতি ও মানুষের জীবনযাত্রায় হাট-বাজারের ভূমিকা ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি জেলা তথ্য অনুযায়ী, ময়দানদীঘি হাট শনিবার ও মঙ্গলবার বসে এবং পুকুরপাড় হাট প্রতিদিন বাজার হিসেবে পরিচালিত হয়। এসব হাট স্থানীয় কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের কেনাবেচার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।

প্রকৃতি ও পর্যটন চলনবিলের অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য খানমরিচের অন্যতম সম্পদ। বর্ষাকালে বিলের পানি, নৌকা, সবুজ প্রকৃতি ও গ্রামীণ জীবন এ অঞ্চলকে বিশেষ সৌন্দর্য দেয়। সরকারি ইউনিয়ন পোর্টালে পরমানন্দপুর ট্যুরিজম লাইন-কে খানমরিচ ইউনিয়নের একটি পর্যটনস্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে ভাঙ্গুড়া সদর থেকে নৌকায় যাতায়াত করা যায়। বর্তমান খানমরিচ সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে খানমরিচ ইউনিয়নও এগিয়ে চলেছে। শিক্ষা, কৃষি, যোগাযোগ, স্থানীয় সরকার, সামাজিক নিরাপত্তা ও ডিজিটাল সেবার বিস্তারের মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এসেছে। ইউনিয়ন পরিষদ আজ জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, গ্রাম আদালত, সামাজিক নিরাপত্তা, নাগরিক সেবা ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনগণের পাশে রয়েছে। খানমরিচের ইতিহাস তাই কেবল একটি ইউনিয়নের ইতিহাস নয়—এটি আমাদের পূর্বপুরুষদের সংগ্রাম, কৃষকের ঘাম, মুক্তিযোদ্ধার সাহস, শিক্ষকের জ্ঞান, সাহিত্যিকের সৃজনশীলতা এবং সাধারণ মানুষের ভালোবাসায় গড়ে ওঠা একটি জনপদের ইতিহাস। যাঁদের অবদানে খানমরিচ আজকের অবস্থানে এসেছে, তাঁদের প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা।