ময়মনসিংহ , বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পূর্বধলায় পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু জয়পুরহাটে ৭৩ কেজি ওজনের কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার, আটক ৪ টাঙ্গাইলে মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্বপ্নপূরণে মেধাবৃত্তির চেক বিতরণ চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন ও চা শিল্পকে লাভজনক করতে সরকার কাজ করছে: বাণিজ্যমন্ত্রী ডেমরা হাজী জয়েন উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত পাশেরপুরে সার কালোবাজারি মামলায় ১৫ ডিলার কারাগারে পাটওয়ারীকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিলেই বের হবে, বাসে ককটেল মারছে কারা বলেছেন রাশেদ খাঁন ১১ দলের লংমার্চে যমুনা সেতুতে কিছু গাড়ির টোল দেওয়া হয়নি বললেন রিজভী ময়মনসিংহে বিএনপির অবস্থান কর্মসূচি’তে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের অংশগ্রহণ ব্যয় সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর সংক্ষিপ্ত জানিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন ও চা শিল্পকে লাভজনক করতে সরকার কাজ করছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

  • স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ১১:৩১:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি বলেছেন, চা শ্রমিকদের মজুরি কত টাকা হবে শুধু সেটিই মূল বিষয় নয়; একজন চা শ্রমিক যাতে স্বাভাবিক ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারেন, সে অনুযায়ী মজুরি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে চা বাগানগুলোকে লাভজনক ও টেকসই করতে সরকার কাজ করছে।

গত ​মঙ্গলবার সিলেটের লাক্কাতুরা চা বাগান মাঠে সরকারের সিএসআর তহবিলের সহযোগিতায় চা শ্রমিকদের মধ্যে রেইনকোট বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।

​চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা করার দাবির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, চা শিল্পের প্রকৃতি অন্যান্য শিল্পের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন। দেশের অনেক চা বাগান দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটে রয়েছে এবং কোনো কোনো বাগানে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিয়মিত পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় চা বাগানগুলোকে টেকসই ও লাভজনক করে তোলার পাশাপাশি শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

​তিনি আরও বলেন, যেসব চা বাগানে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও সরবরাহ অবকাঠামোর সুযোগ রয়েছে, সেখানে চা গাছের ক্ষতি না করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে বাগানের আয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি মসলাজাতীয় গাছ ও টিম্বারসহ অন্যান্য উপযোগী সম্পদ ব্যবহারের বিষয়েও কাজ করা হচ্ছে।

​চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী চা বাগানগুলোতে প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবস্থা করা হবে। বাগানের রাস্তাঘাট উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে শ্রমিকদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে। শ্রমিক পরিবারের নতুন প্রজন্ম যাতে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক পেশায় যুক্ত হতে পারে, সে সুযোগও তৈরি করা হবে। চা শিল্পকে আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে বাগানের আয় বৃদ্ধি, উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং শ্রমিকদের জীবনমানের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দেশে সরকার নির্ধারিত মূল্যে জ্বালানি বিক্রি হওয়ায় মূল্য সমন্বয়ের বিষয়টি সরাসরি মানুষের নজরে আসছে। তবে এর প্রভাব যাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে অস্বাভাবিকভাবে না পড়ে, সে জন্য সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক ও নির্বিঘ্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

​বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও অসাধু ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত মুনাফা রোধে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি বলেন, সরবরাহ শৃঙ্খল স্বাভাবিক রাখতে কঠোর নজরদারি রয়েছে। জ্বালানি তেল পাচারের বিষয়ে সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও জেলা প্রশাসন সচেতন রয়েছে বলে জানান তিনি। পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে মূল্যের বড় ধরনের পার্থক্য না থাকায় তেল পাচারের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

​বিরোধী দলের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকারি দলের পাশাপাশি বিরোধী দলেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রয়েছে। মানুষের প্রত্যাশা পূরণে রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্য ও বিশ্লেষণ যেন গঠনমূলক এবং জনস্বার্থে কার্যকর হয়, সে প্রত্যাশা করেন তিনি।

​সরকারি-বেসরকারি খাতের শ্রমিকদের বেতন-ভাতা প্রসঙ্গে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন সমন্বয় না হওয়ায় পর্যায়ক্রমে তা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মূল্যস্ফীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ এড়াতে এটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বেসরকারি খাতের শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বাজার ও শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী মালিকপক্ষ নির্ধারণ করে থাকে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন কিছু প্রতিষ্ঠানও ভবিষ্যতে বেসরকারি খাতের উদ্যোগের আওতায় আসবে বলে জানান তিনি।

​সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসেইন, সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়াতসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং চা বাগানের শ্রমিকরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পূর্বধলায় পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন ও চা শিল্পকে লাভজনক করতে সরকার কাজ করছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

আপডেট সময় ১১:৩১:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি বলেছেন, চা শ্রমিকদের মজুরি কত টাকা হবে শুধু সেটিই মূল বিষয় নয়; একজন চা শ্রমিক যাতে স্বাভাবিক ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারেন, সে অনুযায়ী মজুরি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে চা বাগানগুলোকে লাভজনক ও টেকসই করতে সরকার কাজ করছে।

গত ​মঙ্গলবার সিলেটের লাক্কাতুরা চা বাগান মাঠে সরকারের সিএসআর তহবিলের সহযোগিতায় চা শ্রমিকদের মধ্যে রেইনকোট বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।

​চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা করার দাবির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, চা শিল্পের প্রকৃতি অন্যান্য শিল্পের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন। দেশের অনেক চা বাগান দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটে রয়েছে এবং কোনো কোনো বাগানে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিয়মিত পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় চা বাগানগুলোকে টেকসই ও লাভজনক করে তোলার পাশাপাশি শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

​তিনি আরও বলেন, যেসব চা বাগানে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও সরবরাহ অবকাঠামোর সুযোগ রয়েছে, সেখানে চা গাছের ক্ষতি না করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে বাগানের আয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি মসলাজাতীয় গাছ ও টিম্বারসহ অন্যান্য উপযোগী সম্পদ ব্যবহারের বিষয়েও কাজ করা হচ্ছে।

​চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী চা বাগানগুলোতে প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবস্থা করা হবে। বাগানের রাস্তাঘাট উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে শ্রমিকদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে। শ্রমিক পরিবারের নতুন প্রজন্ম যাতে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক পেশায় যুক্ত হতে পারে, সে সুযোগও তৈরি করা হবে। চা শিল্পকে আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে বাগানের আয় বৃদ্ধি, উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং শ্রমিকদের জীবনমানের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দেশে সরকার নির্ধারিত মূল্যে জ্বালানি বিক্রি হওয়ায় মূল্য সমন্বয়ের বিষয়টি সরাসরি মানুষের নজরে আসছে। তবে এর প্রভাব যাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে অস্বাভাবিকভাবে না পড়ে, সে জন্য সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক ও নির্বিঘ্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

​বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও অসাধু ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত মুনাফা রোধে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি বলেন, সরবরাহ শৃঙ্খল স্বাভাবিক রাখতে কঠোর নজরদারি রয়েছে। জ্বালানি তেল পাচারের বিষয়ে সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও জেলা প্রশাসন সচেতন রয়েছে বলে জানান তিনি। পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে মূল্যের বড় ধরনের পার্থক্য না থাকায় তেল পাচারের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

​বিরোধী দলের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকারি দলের পাশাপাশি বিরোধী দলেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রয়েছে। মানুষের প্রত্যাশা পূরণে রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্য ও বিশ্লেষণ যেন গঠনমূলক এবং জনস্বার্থে কার্যকর হয়, সে প্রত্যাশা করেন তিনি।

​সরকারি-বেসরকারি খাতের শ্রমিকদের বেতন-ভাতা প্রসঙ্গে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন সমন্বয় না হওয়ায় পর্যায়ক্রমে তা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মূল্যস্ফীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ এড়াতে এটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বেসরকারি খাতের শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বাজার ও শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী মালিকপক্ষ নির্ধারণ করে থাকে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন কিছু প্রতিষ্ঠানও ভবিষ্যতে বেসরকারি খাতের উদ্যোগের আওতায় আসবে বলে জানান তিনি।

​সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসেইন, সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়াতসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং চা বাগানের শ্রমিকরা উপস্থিত ছিলেন।