ময়মনসিংহ , মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পূর্বধলা বাজারের উন্নয়নে ড্রেনেজ সংস্কার ও যানজট নিরসনের দাবি ব্যবসায়ীদের দেওয়ানগঞ্জে জেলা প্রশাসকের বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন, সেবার মানোন্নয়নে গুরুত্বারোপ জামালপুর জেলা পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত ঢাকা জেলা পুলিশের পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের র‍্যাংক ব্যাচ পরিধান ধামইরহাটে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত নালিতাবাড়ীতে শিশু ধর্ষণের অভিযোগ মামলা ​পূর্বধলা বাজার বণিক সমিতির নতুন কমিটি’র সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত সব বিভাগে ৮টি ক্যান্সার হাসপাতালের কাজ চলছে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শিগগিরই ৫টা রোবটিক সার্জারি মেশিন আমদানি করা হবে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরকার অনুমোদন দিলে প্রয়োজনে ক্রসফায়ারও করবো বলে মন্তব্য করেছেন আইজিপি
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

জাতিসংঘের অর্থসংকটে ১৩১৩ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী দেশে ফিরছেন

  • ডিজিটাল রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৫৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫
  • ১৮৬ বার পড়া হয়েছে

জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা মিশনের তহবিলসংকটের কারণে আগামী ৯ মাসের মধ্যে অন্তত ১ হাজার ৩১৩ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীকে ফেরত পাঠানো হবে। 

আর্থিক সংকটের ফলে ১৫ শতাংশ বাজেট ছাড়ের আওতায় আপত্কালীন পরিকল্পনা হিসেবে পাঁচটি মিশন থেকে বাংলাদেশের এসব শান্তিরক্ষীকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত ১৪ অক্টোবর এই বিষয়ে জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা কার্যক্রম বিভাগের মিলিটারি অ্যাফেয়ার্স দপ্তর (ওএমএ) নিউইয়র্কে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে একটি চিঠি পাঠিয়েছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস শান্তি রক্ষা কার্যক্রমে চলমান আর্থিক সংকটের কারণে ১৫ শতাংশ বাজেট হ্রাস পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন, যা পোশাকধারী সদস্যদের জন্য বরাদ্দের ১৫ শতাংশ কমানোর সঙ্গে সম্পর্কিত। যদিও এটি সরাসরি জনবল কমানোর নির্দেশ নয়, তবে বাজেট কমায় বাস্তবে মাঠপর্যায়ে শান্তিরক্ষীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

জাতিসংঘের চিঠি অনুযায়ী, পাঁচটি মিশন থেকে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের সদস্যসংখ্যা কমবে। এর মধ্যে দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ মিশন ইউএনমিস থেকে ৬১৭ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হবে, মধ্য আফ্রিকার জাতিসংঘ মিশন মিনুসকা থেকে ৩৪১, সুদানের আবেই অঞ্চলের জাতিসংঘ মিশন ইউনিসফা থেকে ২৬৮, কঙ্গোর জাতিসংঘ মিশন মনুসকো থেকে ৭৯ ও পশ্চিম সাহারার জাতিসংঘ মিশন মিনুরসো থেকে আট বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী প্রত্যাহার করা হবে।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫-২৬ সালে জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা মিশনের মোট বাজেট ছিল ৫৪০ কোটি ডলার, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র অনুদান হিসেবে ১৩০ কোটি ডলারের বদলে প্রায় ৬৮ কোটি ২০ লাখ ডলার দেবে।

বর্তমানে বাংলাদেশ তৃতীয় শীর্ষ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ। ‘নীল হেলমেট’ পরে বিশ্বশান্তির মঞ্চে বাংলাদেশের পথচলা শুরু হয় ১৯৮৮ সালে। বর্তমানে ১০টি দেশ বা স্থানে ৪৪৪ নারীসহ ৫ হাজার ৬৯৬ শান্তিরক্ষী নিয়োজিত আছেন (গত ৩১ আগস্টের হিসাব)। বিশ্বশান্তি রক্ষার এ যাত্রায় গত ৩৫ বছরে ১৬৮ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী জীবন দিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ২৫৭ জন।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) তথ্যানুযায়ী, তিন দশকের বেশি সময়ে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা ৪৩টি দেশ ও স্থানে ৬৩টি জাতিসংঘ মিশন সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন করেছেন। এই দীর্ঘযাত্রায় সশস্ত্র বাহিনীর অন্তত ১ লাখ ৭৮ হাজার ৭৪৩ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া ১৯৮৯ সালে নামিবিয়া মিশনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত হয় বাংলাদেশ পুলিশ এবং এ পর্যন্ত বিশ্বের ২৪টি দেশের ২৬টি মিশনে পুলিশের ২১ হাজার ৮১৫ জন অংশগ্রহণ করেছেন। সংঘাতপূর্ণ ও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালনকালে এ পর্যন্ত ২৪ জন পুলিশ সদস্য শান্তি রক্ষা মিশনে জীবন উৎসর্গ করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পূর্বধলা বাজারের উন্নয়নে ড্রেনেজ সংস্কার ও যানজট নিরসনের দাবি ব্যবসায়ীদের

জাতিসংঘের অর্থসংকটে ১৩১৩ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী দেশে ফিরছেন

আপডেট সময় ১০:৫৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫

জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা মিশনের তহবিলসংকটের কারণে আগামী ৯ মাসের মধ্যে অন্তত ১ হাজার ৩১৩ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীকে ফেরত পাঠানো হবে। 

আর্থিক সংকটের ফলে ১৫ শতাংশ বাজেট ছাড়ের আওতায় আপত্কালীন পরিকল্পনা হিসেবে পাঁচটি মিশন থেকে বাংলাদেশের এসব শান্তিরক্ষীকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত ১৪ অক্টোবর এই বিষয়ে জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা কার্যক্রম বিভাগের মিলিটারি অ্যাফেয়ার্স দপ্তর (ওএমএ) নিউইয়র্কে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে একটি চিঠি পাঠিয়েছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস শান্তি রক্ষা কার্যক্রমে চলমান আর্থিক সংকটের কারণে ১৫ শতাংশ বাজেট হ্রাস পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন, যা পোশাকধারী সদস্যদের জন্য বরাদ্দের ১৫ শতাংশ কমানোর সঙ্গে সম্পর্কিত। যদিও এটি সরাসরি জনবল কমানোর নির্দেশ নয়, তবে বাজেট কমায় বাস্তবে মাঠপর্যায়ে শান্তিরক্ষীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

জাতিসংঘের চিঠি অনুযায়ী, পাঁচটি মিশন থেকে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের সদস্যসংখ্যা কমবে। এর মধ্যে দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ মিশন ইউএনমিস থেকে ৬১৭ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হবে, মধ্য আফ্রিকার জাতিসংঘ মিশন মিনুসকা থেকে ৩৪১, সুদানের আবেই অঞ্চলের জাতিসংঘ মিশন ইউনিসফা থেকে ২৬৮, কঙ্গোর জাতিসংঘ মিশন মনুসকো থেকে ৭৯ ও পশ্চিম সাহারার জাতিসংঘ মিশন মিনুরসো থেকে আট বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী প্রত্যাহার করা হবে।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫-২৬ সালে জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা মিশনের মোট বাজেট ছিল ৫৪০ কোটি ডলার, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র অনুদান হিসেবে ১৩০ কোটি ডলারের বদলে প্রায় ৬৮ কোটি ২০ লাখ ডলার দেবে।

বর্তমানে বাংলাদেশ তৃতীয় শীর্ষ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ। ‘নীল হেলমেট’ পরে বিশ্বশান্তির মঞ্চে বাংলাদেশের পথচলা শুরু হয় ১৯৮৮ সালে। বর্তমানে ১০টি দেশ বা স্থানে ৪৪৪ নারীসহ ৫ হাজার ৬৯৬ শান্তিরক্ষী নিয়োজিত আছেন (গত ৩১ আগস্টের হিসাব)। বিশ্বশান্তি রক্ষার এ যাত্রায় গত ৩৫ বছরে ১৬৮ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী জীবন দিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ২৫৭ জন।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) তথ্যানুযায়ী, তিন দশকের বেশি সময়ে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা ৪৩টি দেশ ও স্থানে ৬৩টি জাতিসংঘ মিশন সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন করেছেন। এই দীর্ঘযাত্রায় সশস্ত্র বাহিনীর অন্তত ১ লাখ ৭৮ হাজার ৭৪৩ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া ১৯৮৯ সালে নামিবিয়া মিশনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত হয় বাংলাদেশ পুলিশ এবং এ পর্যন্ত বিশ্বের ২৪টি দেশের ২৬টি মিশনে পুলিশের ২১ হাজার ৮১৫ জন অংশগ্রহণ করেছেন। সংঘাতপূর্ণ ও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালনকালে এ পর্যন্ত ২৪ জন পুলিশ সদস্য শান্তি রক্ষা মিশনে জীবন উৎসর্গ করেছেন।