জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ইরান নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি না হলে তাঁর সামনে দেশটির বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিকল্প রয়েছে। এমনকি তিনি ‘ইসলামিক রিপাবলিককে ধ্বংস’ করার কথা উল্লেখ করেন।
ট্রাম্প বলেন, তিনি ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি চান। তবে চুক্তি না হলে সামরিক পদক্ষেপের পথও খোলা থাকবে। তিনি ইঙ্গিত দেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে কোনো সমঝোতা হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
ট্রাম্প তাঁর ভাষণে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। তাঁর বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংঘাতে প্রশাসনের ভূমিকার বিষয়ও উঠে আসে।
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। নিউইয়র্কে যাওয়ার আগে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে ইরানি জনগণের দুর্ভোগ, যুদ্ধ এবং দেশটির অবস্থান তুলে ধরা হবে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপ কমানো ও বন্দর অবরোধ প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনায় আগ্রহী। তেহরানের পক্ষ থেকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে কূটনৈতিক যোগাযোগ পুনরুজ্জীবিত করার একটি সুযোগ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
পেজেশকিয়ান ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন। তিনি পেশায় হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জন। তাঁর জীবনীসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯৪ সালে এক সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর স্ত্রী ও এক সন্তান মারা যাওয়ার পর তিনি অন্য সন্তানদের একক অভিভাবক হিসেবে বড় করেন এবং পরে আর বিয়ে করেননি।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই এবারের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ট্রাম্পের বক্তব্য এবং পেজেশকিয়ানের নির্ধারিত ভাষণ—দুই দেশের পরবর্তী কূটনৈতিক অবস্থান বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 


















