ময়মনসিংহ , রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সেন্টমার্টিনে অবৈধ ট্রলিং বোটসহ ১৭ জেলে আটক সালিশে বাদীর পক্ষে রায়, তবুও জমি ও দোকানের দখল ফিরে পাননি সাইফুল ইসলাম ময়মনসিংহে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা সচেতনতায় সাইকেল র‍্যালি অনুষ্ঠিত টেকনাফে ৯০ হাজার ইয়াবাসহ তিন মাদক কারবারি গ্রেপ্তার সরিষাবাড়ী উপজেলায় বাড়িতে ঘুমন্ত অবস্থায় গ্রেপ্তার, পরে ১২ গ্রাম হেরোইন উদ্ধারের দাবি দিনাজপুরের ঐতিহাসিক সীতাকোট বিহার পরিদর্শন করলেন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বিশ্ব পর্যটন দিবস আজ কটিয়াদীতে ৮ মাস ধরে চিকিৎসকহীন ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র, চিকিৎসা সেবা বঞ্চিত সাধারণ মানুষ গোপালগঞ্জে কলেজ শিক্ষার্থী জুবায়ের ভূঁইয়া হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার পূর্বধলায় বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ, ইউপি সদস্যের ছেলে পলাতক
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

ডিমলার কৃষকের ছেলে সিভিল জজ, আনন্দে ভাসছে নূরপাড়া গ্রাম

  • স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ১২:৩৫:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

বাবা সাধারণ কৃষক, মা গৃহিণী। সীমিত সামর্থ্যের সংসারে সন্তানকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করার স্বপ্ন দেখেছিলেন বাবা-মা। সেই স্বপ্ন পূরণে মেধা, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে অনন্য সাফল্য অর্জন করেছেন নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের নূরপাড়া গ্রামের আবু সালেহ মোহাম্মদ নাসিম। অষ্টাদশ বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস পরীক্ষা-২০২৫-এর চূড়ান্ত ফলাফলে মেধাক্রমে ৪৬তম হয়ে সিভিল জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন তিনি। তাঁর এই সাফল্যে পরিবার, স্বজন, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর মধ্যে বইছে আনন্দের জোয়ার।
​

আবু সালেহ মোহাম্মদ নাসিমের বাবা আব্দুস সামাদ দুলু পেশায় একজন কৃষক এবং মা গৃহিণী। চার ভাইবোনের মধ্যে নাসিম সবার বড়। কলেজজীবনের টেস্ট পরীক্ষায় প্রথম হওয়ার খবর দাদা মজিবর রহমানকে জানালে তিনি অত্যন্ত খুশি হন এবং নাসিমকে ভবিষ্যতে বিচারক হওয়ার জন্য উৎসাহিত করেন। দাদার সেই উৎসাহ থেকেই বিচারক হওয়ার স্বপ্ন আরও দৃঢ় হয় নাসিমের।
​

পরবর্তী সময়ে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন। পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য সীমিত হলেও সন্তানদের পড়াশোনার ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের আগ্রহ ও উৎসাহের কোনো কমতি ছিল না। তাঁদের ত্যাগ ও সহযোগিতার পাশাপাশি নাসিমের নিজের অধ্যবসায় তাঁকে সাফল্যের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দিয়েছে।

​নাসিম ডিমলা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের ছাতনাই উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ২০১৬ সালে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪.৫৬ অর্জন করেন। এরপর খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের জনতা ডিগ্রি মহাবিদ্যালয় থেকে ২০১৮ সালে বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ লাভ করেন। পরে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।

​দীর্ঘ পড়াশোনা ও প্রস্তুতির পর নাসিম বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের অষ্টাদশ পরীক্ষায় অংশ নেন। বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশনের প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলাফলে মেধাক্রমে ৪৬তম স্থান অর্জন করে তিনি সিভিল জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হন।

​নাসিমের এই সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নূরপাড়া গ্রামসহ পুরো পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের মানুষের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। কৃষক পরিবারের সন্তান হয়ে বিচার বিভাগে প্রবেশের সুযোগ পাওয়ায় স্বজন, প্রতিবেশী, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর অনেকেই তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
​প

রিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নাসিমের এই সাফল্য তাঁদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের বিষয়। নাসিম যেন ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে সততা, ন্যায় ও নিষ্ঠার সঙ্গে তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সে জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

​কৃষক পরিবারের সন্তান আবু সালেহ মোহাম্মদ নাসিমের এই সাফল্যে বাবা-মায়ের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর এই অর্জন ডিমলার তরুণ প্রজন্মের জন্য উচ্চশিক্ষা, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সামনে এগিয়ে যাওয়ার এক উজ্জ্বল অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সেন্টমার্টিনে অবৈধ ট্রলিং বোটসহ ১৭ জেলে আটক

ডিমলার কৃষকের ছেলে সিভিল জজ, আনন্দে ভাসছে নূরপাড়া গ্রাম

আপডেট সময় ১২:৩৫:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাবা সাধারণ কৃষক, মা গৃহিণী। সীমিত সামর্থ্যের সংসারে সন্তানকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করার স্বপ্ন দেখেছিলেন বাবা-মা। সেই স্বপ্ন পূরণে মেধা, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে অনন্য সাফল্য অর্জন করেছেন নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের নূরপাড়া গ্রামের আবু সালেহ মোহাম্মদ নাসিম। অষ্টাদশ বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস পরীক্ষা-২০২৫-এর চূড়ান্ত ফলাফলে মেধাক্রমে ৪৬তম হয়ে সিভিল জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন তিনি। তাঁর এই সাফল্যে পরিবার, স্বজন, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর মধ্যে বইছে আনন্দের জোয়ার।
​

আবু সালেহ মোহাম্মদ নাসিমের বাবা আব্দুস সামাদ দুলু পেশায় একজন কৃষক এবং মা গৃহিণী। চার ভাইবোনের মধ্যে নাসিম সবার বড়। কলেজজীবনের টেস্ট পরীক্ষায় প্রথম হওয়ার খবর দাদা মজিবর রহমানকে জানালে তিনি অত্যন্ত খুশি হন এবং নাসিমকে ভবিষ্যতে বিচারক হওয়ার জন্য উৎসাহিত করেন। দাদার সেই উৎসাহ থেকেই বিচারক হওয়ার স্বপ্ন আরও দৃঢ় হয় নাসিমের।
​

পরবর্তী সময়ে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন। পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য সীমিত হলেও সন্তানদের পড়াশোনার ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের আগ্রহ ও উৎসাহের কোনো কমতি ছিল না। তাঁদের ত্যাগ ও সহযোগিতার পাশাপাশি নাসিমের নিজের অধ্যবসায় তাঁকে সাফল্যের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দিয়েছে।

​নাসিম ডিমলা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের ছাতনাই উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ২০১৬ সালে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪.৫৬ অর্জন করেন। এরপর খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের জনতা ডিগ্রি মহাবিদ্যালয় থেকে ২০১৮ সালে বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ লাভ করেন। পরে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।

​দীর্ঘ পড়াশোনা ও প্রস্তুতির পর নাসিম বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের অষ্টাদশ পরীক্ষায় অংশ নেন। বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশনের প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলাফলে মেধাক্রমে ৪৬তম স্থান অর্জন করে তিনি সিভিল জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হন।

​নাসিমের এই সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নূরপাড়া গ্রামসহ পুরো পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের মানুষের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। কৃষক পরিবারের সন্তান হয়ে বিচার বিভাগে প্রবেশের সুযোগ পাওয়ায় স্বজন, প্রতিবেশী, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর অনেকেই তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
​প

রিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নাসিমের এই সাফল্য তাঁদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের বিষয়। নাসিম যেন ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে সততা, ন্যায় ও নিষ্ঠার সঙ্গে তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সে জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

​কৃষক পরিবারের সন্তান আবু সালেহ মোহাম্মদ নাসিমের এই সাফল্যে বাবা-মায়ের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর এই অর্জন ডিমলার তরুণ প্রজন্মের জন্য উচ্চশিক্ষা, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সামনে এগিয়ে যাওয়ার এক উজ্জ্বল অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।