ময়মনসিংহ , বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পতিত ফ্যাসিবাদকে উৎসাহিত করে, এমন কাজ থেকে বিরত থাকুন জানিয়েছেন রিজভী চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৫৩ বিজিবির পৃথক অভিযানে ১৪৩টি ভারতীয় মোবাইল ফোন ও বিড়ির সরঞ্জাম জব্দ শিবপুরে মোবাইল কোর্টে দুই মামলায় জরিমানা ও একজনকে ২ মাসের কারাদণ্ড দুর্গাপুরে ১১০ বোতল এসকাফসহ নারী আটক, স্বামী পলাতক আদমদীঘিতে ইউএনও-এসিল্যান্ডের হস্তক্ষেপে ৪০ পরিবারের চলাচলের পথ মুক্ত পূর্বধলা বাজারের উন্নয়নে ড্রেনেজ সংস্কার ও যানজট নিরসনের দাবি ব্যবসায়ীদের দেওয়ানগঞ্জে জেলা প্রশাসকের বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন, সেবার মানোন্নয়নে গুরুত্বারোপ জামালপুর জেলা পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত ঢাকা জেলা পুলিশের পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের র‍্যাংক ব্যাচ পরিধান ধামইরহাটে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

নারায়ণগঞ্জে বাউল শিল্পী আনিকার রহস্যজনক মৃত্যু

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:৪৪:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫
  • ১৮৯ বার পড়া হয়েছে

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় আনিকা আক্তার আনিকা (১৯) নামে এক বাউল শিল্পীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার (৩ অক্টোবর) গভীর রাতে ফতুল্লার ভুইগড় এলাকার ভাড়া বাসা থেকে আনিকার মৃতদেহ স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান তার স্বামী হাবিবুর রহমান (২৫)।

 খবর পেয়ে ফতুল্লা থানা পুলিশ হাবিবুরকে আটক করে আনিকার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।
 
আনিকা মাদারীপুর জেলার মোস্তফাকুর গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের মেয়ে। হাবিবুর ও আনিকা ফতুল্লার ভুইগড় এলাকায় মাস্টারের বাড়ির একটি ভাড়া ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন।
 
আনিকার পরিবার অভিযোগ করেছে, পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী পরিকল্পিতভাবে আনিকাকে হত্যা করেছেন।
 
আনিকার বাবা জানান, পাঁচ বছর আগে হাবিবুর ভালোবেসে আনিকাকে বিয়ে করেন। বিয়ের পরও হাবিবুর ক্ষুদ্রখুটে বিষয় নিয়ে ঝগড়া করতেন এবং আনিকার ভরণপোষণ দিতেন না। গত চার মাস আগে আনিকা একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। সন্তান কোলে নিয়ে আনিকা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংকের বিভিন্ন বাউল ক্লাবে গান করতেন, আর উপার্জিত টাকা স্বামী জোর করে নিয়ে নিতেন।
 সম্প্রতি হাবিবুর মালা নামে আরেক নারী বাউল শিল্পীকে বিয়ে করলে আনিকা তার সত্যতা জানতে চায়। এ নিয়ে হাবিবুর ক্ষিপ্ত হয়ে ঘরের আসবাবপত্র ভাংচুর করে চাঁদপুরে চলে যান। এরপর আনিকাকে তালাকের নোটিশ পাঠান। আনিকা নোটিশ নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তির কাছে নালিশ করলে হাবিবুর আরও ক্ষিপ্ত হন।
 
বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) রাতে হাবিবুরের সহযোগী স্বর্ণা আনিকার বাসায় গিয়ে তাকে বেধরক মারধর করে নাক, গলার ও হাতের স্বর্ণের অলংকার ছিনিয়ে নেয়। আনিকার চিৎকারে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
 
পরিবারের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে আনিকাকে হত্যা করে হাবিবুর মৃতদেহ নিয়ে হাসপাতালে যান। তারা সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।
 
হাবিবুর রহমান দাবি করেছেন, আনিকাকে তিনি হত্যা করেননি। গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর থেকে এসে ভুইগড়ে ফ্ল্যাটে গিয়ে দরজা ভেঙ্গে প্রবেশ করলে দেখেন, আনিকা জানালার গ্রিলে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলছেন। এরপর তিনি তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ‘তালাকের নোটিশ ভুয়া ছিল এবং আনিকাকে ভয় দেখানোর জন্য পাঠিয়েছিলাম।’
 ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। তবে নিহতের পরিবার দাবি করেছেন, পারিবারিক কলহের জের ধরে হাবিবুর আনিকাকে হত্যা করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পতিত ফ্যাসিবাদকে উৎসাহিত করে, এমন কাজ থেকে বিরত থাকুন জানিয়েছেন রিজভী

নারায়ণগঞ্জে বাউল শিল্পী আনিকার রহস্যজনক মৃত্যু

আপডেট সময় ১১:৪৪:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় আনিকা আক্তার আনিকা (১৯) নামে এক বাউল শিল্পীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার (৩ অক্টোবর) গভীর রাতে ফতুল্লার ভুইগড় এলাকার ভাড়া বাসা থেকে আনিকার মৃতদেহ স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান তার স্বামী হাবিবুর রহমান (২৫)।

 খবর পেয়ে ফতুল্লা থানা পুলিশ হাবিবুরকে আটক করে আনিকার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।
 
আনিকা মাদারীপুর জেলার মোস্তফাকুর গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের মেয়ে। হাবিবুর ও আনিকা ফতুল্লার ভুইগড় এলাকায় মাস্টারের বাড়ির একটি ভাড়া ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন।
 
আনিকার পরিবার অভিযোগ করেছে, পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী পরিকল্পিতভাবে আনিকাকে হত্যা করেছেন।
 
আনিকার বাবা জানান, পাঁচ বছর আগে হাবিবুর ভালোবেসে আনিকাকে বিয়ে করেন। বিয়ের পরও হাবিবুর ক্ষুদ্রখুটে বিষয় নিয়ে ঝগড়া করতেন এবং আনিকার ভরণপোষণ দিতেন না। গত চার মাস আগে আনিকা একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। সন্তান কোলে নিয়ে আনিকা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংকের বিভিন্ন বাউল ক্লাবে গান করতেন, আর উপার্জিত টাকা স্বামী জোর করে নিয়ে নিতেন।
 সম্প্রতি হাবিবুর মালা নামে আরেক নারী বাউল শিল্পীকে বিয়ে করলে আনিকা তার সত্যতা জানতে চায়। এ নিয়ে হাবিবুর ক্ষিপ্ত হয়ে ঘরের আসবাবপত্র ভাংচুর করে চাঁদপুরে চলে যান। এরপর আনিকাকে তালাকের নোটিশ পাঠান। আনিকা নোটিশ নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তির কাছে নালিশ করলে হাবিবুর আরও ক্ষিপ্ত হন।
 
বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) রাতে হাবিবুরের সহযোগী স্বর্ণা আনিকার বাসায় গিয়ে তাকে বেধরক মারধর করে নাক, গলার ও হাতের স্বর্ণের অলংকার ছিনিয়ে নেয়। আনিকার চিৎকারে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
 
পরিবারের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে আনিকাকে হত্যা করে হাবিবুর মৃতদেহ নিয়ে হাসপাতালে যান। তারা সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।
 
হাবিবুর রহমান দাবি করেছেন, আনিকাকে তিনি হত্যা করেননি। গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর থেকে এসে ভুইগড়ে ফ্ল্যাটে গিয়ে দরজা ভেঙ্গে প্রবেশ করলে দেখেন, আনিকা জানালার গ্রিলে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলছেন। এরপর তিনি তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ‘তালাকের নোটিশ ভুয়া ছিল এবং আনিকাকে ভয় দেখানোর জন্য পাঠিয়েছিলাম।’
 ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। তবে নিহতের পরিবার দাবি করেছেন, পারিবারিক কলহের জের ধরে হাবিবুর আনিকাকে হত্যা করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।