ময়মনসিংহ , বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পরীক্ষায় স্বচ্ছতা ফেরাতে উদ্যোগ: আলিমের সব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বাধ্যতামূলক জুলাই থেকেই কার্যকর হতে যাচ্ছে নবম পে-স্কেল! প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে চলছে একনেক সভা: অনুমোদনের অপেক্ষায় ৮,১০৬ কোটি টাকার ১২ প্রকল্প বাংলাদেশী শান্তিরক্ষীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন বলেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কর্মবিরতি শেষে কাজে যোগ দিচ্ছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা দুই পয়েন্ট থেকে ২১ বাংলাদেশিকে ফেরত দিল বিএসএফ পূর্বধলায় ৪৫০ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার ​টাইগারদের বড় পরীক্ষা: আজ অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি বাংলাদেশ সাময়িক যুদ্ধবিরতি: ইসরায়েলের সঙ্গে হামলা বন্ধে একমত ইরান ভয়াবহ কম্পন ইরানে: আঘাত হানল ৫ মাত্রার ভূমিকম্প
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

নুর মুহাম্মদ বিয়ের দুদিন আগে পরিবারের ২৪ সদস্যকে হারালেন

  • ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:১৭:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৫
  • ১২৯ বার পড়া হয়েছে

বিয়ে করতে গিয়ে এক মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী হলেন মালয়েশিয়া প্রবাসী পাকিস্তানের নুর মুহাম্মদ। তিনি বিয়ের উদ্দেশে গত ১৫ আগস্ট পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বুনের জেলায় নিজ

সেখানে পুরোদমে চলছিল বিয়ের প্রস্তুতি। কিন্তু বাড়ি পৌঁছানোর পর তার চোখের সামনে বন্যায় পরিবারের চব্বিশ সদস্যই প্রাণ হারিয়েছে।

অথচ বিয়ের জন্য দেশে ফেরার দুই দিন আগে সর্বশেষ মায়ের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ ফোনে কথা বলেছিলেন তিনি।

কাদির নগর গ্রামে খালের তীরের ধ্বংসস্তূপের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি সাংবাদিকদের জানান, তাদের ৩৬ কক্ষের বড় বাড়িটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।

২৫ বছর বয়সী মুহাম্মদ কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। বাড়ি ফিরে এসে আমি শুধু ধ্বংসস্তূপ ও ভারী পাথর দেখেছি। পাহাড় থেকে ভেসে আসা কাদা ও বন্যার পানি সব কিছু ধ্বংস করেছে।’

নিহতদের মধ্যে তার মা, এক ভাই ও এক বোনও আছেন।

তিনি বলেন, ‘এক বিশাল বন্যা এসে সব কিছু ভাসিয়ে নিয়ে গেল– বাড়ি, মা, ভাই, বোন, চাচা, দাদা এবং ছোট ছোট শিশুদেরও। আমরা আর কী করতে পারি? এটি আল্লাহর ইচ্ছা।’ তবে ইসলামাবাদ বিমানবন্দরে যাওয়ার সময় তার বাবা ও এক ভাই বেঁচে যান।

নিহতদের মধ্যে ছিলেন তার চাচাদের পরিবার এবং বিয়েতে যোগদানকারী অন্যান্য আত্মীয়স্বজন।

পাহাড়ি বুনের জেলা সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রাজধানী ইসলামাবাদ থেকে প্রায় তিন ঘণ্টার দূরত্বে এই এলাকায় ১৫ আগস্ট থেকে ৪০০-এরও বেশি মানুষ বন্যায় প্রাণ হারিয়েছে।

জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জুনের শেষের দিকে শুরু হওয়া বর্ষাকালে সারা দেশে ৭৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে আটকে পড়া ২৫ হাজারের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সেনাবাহিনী ও বিমান বাহিনী কাজ করছে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পরীক্ষায় স্বচ্ছতা ফেরাতে উদ্যোগ: আলিমের সব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বাধ্যতামূলক

নুর মুহাম্মদ বিয়ের দুদিন আগে পরিবারের ২৪ সদস্যকে হারালেন

আপডেট সময় ০১:১৭:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৫

বিয়ে করতে গিয়ে এক মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী হলেন মালয়েশিয়া প্রবাসী পাকিস্তানের নুর মুহাম্মদ। তিনি বিয়ের উদ্দেশে গত ১৫ আগস্ট পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বুনের জেলায় নিজ

সেখানে পুরোদমে চলছিল বিয়ের প্রস্তুতি। কিন্তু বাড়ি পৌঁছানোর পর তার চোখের সামনে বন্যায় পরিবারের চব্বিশ সদস্যই প্রাণ হারিয়েছে।

অথচ বিয়ের জন্য দেশে ফেরার দুই দিন আগে সর্বশেষ মায়ের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ ফোনে কথা বলেছিলেন তিনি।

কাদির নগর গ্রামে খালের তীরের ধ্বংসস্তূপের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি সাংবাদিকদের জানান, তাদের ৩৬ কক্ষের বড় বাড়িটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।

২৫ বছর বয়সী মুহাম্মদ কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। বাড়ি ফিরে এসে আমি শুধু ধ্বংসস্তূপ ও ভারী পাথর দেখেছি। পাহাড় থেকে ভেসে আসা কাদা ও বন্যার পানি সব কিছু ধ্বংস করেছে।’

নিহতদের মধ্যে তার মা, এক ভাই ও এক বোনও আছেন।

তিনি বলেন, ‘এক বিশাল বন্যা এসে সব কিছু ভাসিয়ে নিয়ে গেল– বাড়ি, মা, ভাই, বোন, চাচা, দাদা এবং ছোট ছোট শিশুদেরও। আমরা আর কী করতে পারি? এটি আল্লাহর ইচ্ছা।’ তবে ইসলামাবাদ বিমানবন্দরে যাওয়ার সময় তার বাবা ও এক ভাই বেঁচে যান।

নিহতদের মধ্যে ছিলেন তার চাচাদের পরিবার এবং বিয়েতে যোগদানকারী অন্যান্য আত্মীয়স্বজন।

পাহাড়ি বুনের জেলা সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রাজধানী ইসলামাবাদ থেকে প্রায় তিন ঘণ্টার দূরত্বে এই এলাকায় ১৫ আগস্ট থেকে ৪০০-এরও বেশি মানুষ বন্যায় প্রাণ হারিয়েছে।

জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জুনের শেষের দিকে শুরু হওয়া বর্ষাকালে সারা দেশে ৭৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে আটকে পড়া ২৫ হাজারের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সেনাবাহিনী ও বিমান বাহিনী কাজ করছে।