যশোর শহরতলির বিরামপুর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে সড়কের জায়গা দখল করে প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে সড়কের দুপাশের সরকারি জায়গা বেদখল হয়ে মূল সড়ক থেকে বিরামপুর গ্রামের ভাটাপাড়া পর্যন্ত সলিং রাস্তাটি কোথাও ৯, আবার কোথাও ১০ ফুটে সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এতে নিয়মিত যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তার সংযোগস্থলের দুই পাশে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কারণে মূল সড়ক থেকে ভাটাপাড়া সড়কে প্রবেশকারী বা ভাটাপাড়া সলিং সড়ক থেকে মূল সড়কে ওঠা কোনো যানবাহনই দূর থেকে দেখা যায় না। ফলে সেখানে প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে স্কুল ছুটির সময় শিক্ষার্থীদের ভিড় থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মূল সড়ক থেকে ভাটাপাড়া পর্যন্ত সলিং রাস্তাটির সরকারি হিসাবে প্রস্থ প্রায় ১৬ ফুট। তবে স্থানীয়দের দাবি, সড়কের দুপাশের জায়গা দখল করে স্থাপনা ও প্রাচীর নির্মাণের ফলে এর প্রস্থ অনেক স্থানে ৬ থেকে ৭ ফুট পর্যন্ত কমে গেছে। এই সংকীর্ণতার কারণে বড় কোনো যানবাহন ওই সড়কে ঢুকতে পারে না। বর্তমানে শুধু ভ্যান ও ইজিবাইক কোনো রকমে চলাচল করতে পারছে।
ভাটাপাড়ার বাসিন্দারা জানান, জায়গা বেদখল হওয়ায় রাস্তাটি অতিরিক্ত সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে, ফলে সাধারণ মানুষ স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছেন না। এমনকি ড্রেন তৈরির জায়গাও রাখা হয়নি। দ্রুত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে রাস্তাটি দখলমুক্ত করার দাবি জানান তারা।
নিউটাউন বাদশা-ফয়সাল হাইস্কুলের গণিত শিক্ষক ও ভাটাপাড়া এলাকার বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘রাস্তার দুপাশ দখল হওয়ায় চলাচল করতে খুব কষ্ট হয়। বড় গাড়ি ঢুকতে পারে না, ভ্যান-ইজিবাইকও কোনোরকমে চলাচল করে। প্রাচীরের কারণে সড়কের সংযোগস্থল দেখা যায় না। স্কুল ছুটির পর শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকদের চরম উদ্বেগে থাকতে হয়।’
বিরামপুর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারহাজ মাহবুব বলে, ‘স্কুল ছুটির পর রাস্তায় অনেক চাপ থাকে। মূল রাস্তা থেকে ছোট যানবাহন ঢুকলে আগে থেকে বোঝা যায় না, তাই ভয় নিয়ে রাস্তা পার হতে হয়। রাস্তাটি দখলমুক্ত হলে আমাদের যাতায়াত সহজ হতো।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাহিমা খাতুন বলেন, ‘ভাটাপাড়ার সড়কের দুপাশ দখল হওয়ায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা ভীষণ উদ্বিগ্ন। কখন কোন শিক্ষার্থী দুর্ঘটনার শিকার হয়, সেই শঙ্কা সবসময় কাজ করে। সবার নিরাপত্তার স্বার্থে সরকারি রাস্তাটি দ্রুত দখলমুক্ত করা প্রয়োজন।’
সদর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সোহেল রানা জানান, সড়ক দখল করে প্রাচীর নির্মাণ করায় ওই এলাকার মানুষের মারাত্মক অসুবিধা হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু শিক্ষার্থীদের নিয়ে সবাই আতঙ্কে থাকেন। বিষয়টির একটি সঠিক সমাধান হওয়া জরুরি।
সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, ‘খবরটি পেয়েছি, দ্রুত রাস্তাটি পরিদর্শন করব। এরপর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।’
এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহারিয়ার হক বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে বিষয়টি জেনে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

স্টাফ রিপোর্টার 


















