মানবিকতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও পরিবেশ সুরক্ষার বার্তা নিয়ে ফরিদপুরের হাই কেয়ার স্কুলে মানবিক সহায়তা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সামাজিক সংগঠন ‘চেষ্টা’র উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য সহায়তা সামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন ও সবুজ পরিবেশ তৈরিতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়।
‘চেষ্টা’ একটি অরাজনৈতিক সামাজিক সংগঠন। ২০১১ সালে যাত্রা শুরু করা সংগঠনটি মহিলা ও শিশু বিষয়ক অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধিত। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সংগঠনটি ১৯৭১ সালের বীরকন্যা, সমাজের অবহেলিত মানুষ এবং হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর কল্যাণে বিভিন্ন মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
এরই ধারাবাহিকতায় ফরিদপুরের হাই কেয়ার স্কুলের মেরামত কাজে সহযোগিতার অংশ হিসেবে ‘চেষ্টা’র পক্ষ থেকে ২ বান্ডিল টিন প্রদান করা হয়। পাশাপাশি স্কুলের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের আনন্দ ও মানসিক বিকাশের কথা বিবেচনা করে তাদের মাঝে খেলনা সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
একই আয়োজনে রোটারী ক্লাব অব ঢাকা সর্বজয়া স্কুলের জন্য নগদ অর্থ সহায়তা এবং শিশুদের জন্য পুষ্টিকর খাবার বিতরণ করে। এতে একদিকে যেমন বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় কাজে সহায়তার সুযোগ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে শিশুদের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে আনন্দ ও উৎসাহের পরিবেশ।
সবুজ ভবিষ্যতের প্রত্যয়ে বৃক্ষরোপণ ও
মানবিক সহায়তার পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষার বার্তাও ছড়িয়ে দেওয়া হয় কর্মসূচিতে। ‘চেষ্টা’ ও ‘ঢাকা শেকড়’-এর যৌথ উদ্যোগে হাই কেয়ার স্কুল প্রাঙ্গণে ফলজ ও বনজ বৃক্ষ রোপণ করা হয়।
আয়োজকরা জানান, এসব বৃক্ষ শুধু বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের সৌন্দর্যই বৃদ্ধি করবে না, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ ও নিরাপদ পরিবেশ তৈরিতেও ভূমিকা রাখবে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা ও বেড়ে ওঠার পরিবেশকে আরও আনন্দময় ও প্রকৃতিবান্ধব করে তুলতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ‘চেষ্টা’র প্রেসিডেন্ট লায়লা নাজনীন হারুন, সেক্রেটারি গুলশান নাসরীন চৌধুরী, ফরিদপুর হাই কেয়ার স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা রাশিদা আখতারী খানম, রোটারী ক্লাব অব ঢাকা সর্বজয়ার প্রেসিডেন্ট সাকেরা খান, ঢাকা শেকড়ের অ্যাডমিন নাসিমা জামান।
এছাড়াও ‘চেষ্টা’র সম্মানিত সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন ও পরিবেশ সুরক্ষায় এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানান উপস্থিত অতিথি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। তারা ‘চেষ্টা’সহ সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর মানবিক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন।
‘শিশুরা করুণার নয়, ভালোবাসার পাত্র’
অনুষ্ঠানে ‘চেষ্টা’র প্রেসিডেন্ট লায়লা নাজনীন হারুন বলেন,“হাই কেয়ার স্কুলের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা আমাদের সমাজেরই অংশ। তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সমাজের প্রত্যেকটি মানুষ যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে এসব শিশুর পাশে দাঁড়ায়, তাহলে তারা আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে সমাজে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে পারবে।”
রোটারী ক্লাব অব ঢাকা সর্বজয়ার প্রেসিডেন্ট সাকেরা খান বলেন,
“এই শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে পেরে আমরা আনন্দিত। তাদের জন্য সামান্য কিছু করতে পারাও আমাদের কাছে আনন্দ ও দায়িত্বের বিষয়। ভবিষ্যতেও আমাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।”
ঢাকা শেকড়ের অ্যাডমিন নাসিমা জামান বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন,
“বৃক্ষরোপণ আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ পৃথিবী গড়ার অঙ্গীকার। আজ আমরা যে বৃক্ষগুলো রোপণ করছি, ভবিষ্যতে এগুলোই শিশুদের জন্য ছায়া, সৌন্দর্য ও নির্মল পরিবেশের উৎস হয়ে উঠবে।”
মানবিক কার্যক্রম তুলে ধরেন ‘চেষ্টা’র সেক্রেটারি গুলশান নাসরীন চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে ‘চেষ্টা’র সেক্রেটারি গুলশান নাসরীন চৌধুরী সংগঠনের বিভিন্ন মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রম সম্পর্কে উপস্থিত অতিথিদের অবহিত করেন।
গুলশান নাসরীন চৌধুরী বলেন,
“প্রতিবন্ধী শিশুরা করুণার পাত্র নয়, ভালোবাসার পাত্র। মানবতার হাত বাড়িয়ে ‘চেষ্টা’ তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সংগঠনের অন্যতম লক্ষ্য। আমরা বিশ্বাস করি, সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষের জীবনকে আরও সুন্দর ও মর্যাদাপূর্ণ করা সম্ভব।”
গুলশান নাসরীন চৌধুরী আরও বলেন, ‘চেষ্টা’র একঝাঁক উদ্দীপ্ত সদস্য মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এ ধরনের আয়োজন সংগঠনের সদস্যদেরও নতুনভাবে উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করে।
‘আপনাদের ভালোবাসা শিশুদের এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা’
হাই কেয়ার স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা রাশিদা আখতারী খানম ঢাকা থেকে আগত সংগঠনগুলোর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন,
“আপনাদের এই ভালোবাসা ও সহযোগিতা আমাদের শিশুদের এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য সমাজের বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন এগিয়ে এলে তাদের শিক্ষা, বিকাশ ও ভবিষ্যৎ আরও সুন্দর হবে।”
তিনি ‘চেষ্টা’, রোটারী ক্লাব অব ঢাকা সর্বজয়া এবং ঢাকা শেকড়সহ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া সবাইকে ধন্যবাদ জানান।‘চেষ্টা’র প্রেসিডেন্ট লায়লা নাজনীন হারুন বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের কল্যাণ, সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং পরিবেশ সুরক্ষার মতো উদ্যোগগুলো ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার চেষ্টা করা হবে।
ফরিদপুরের হাই কেয়ার স্কুলে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচি তাই শুধু সহায়তা বিতরণের একটি আয়োজন নয় মানবিকতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা, ভালোবাসা ও পরিবেশ সচেতনতার এক সম্মিলিত বার্তাও বয়ে এনেছে। শিশুদের মুখের হাসি এবং বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নতুন বৃক্ষের চারা যেন সেই বার্তাই মনে করিয়ে দেয় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর পৃথিবী রেখে যাওয়াই হতে পারে সবচেয়ে বড় সামাজিক দায়িত্ব।

স্টাফ রিপোর্টার 


















