ময়মনসিংহ , বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পতিত ফ্যাসিবাদকে উৎসাহিত করে, এমন কাজ থেকে বিরত থাকুন জানিয়েছেন রিজভী চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৫৩ বিজিবির পৃথক অভিযানে ১৪৩টি ভারতীয় মোবাইল ফোন ও বিড়ির সরঞ্জাম জব্দ শিবপুরে মোবাইল কোর্টে দুই মামলায় জরিমানা ও একজনকে ২ মাসের কারাদণ্ড দুর্গাপুরে ১১০ বোতল এসকাফসহ নারী আটক, স্বামী পলাতক আদমদীঘিতে ইউএনও-এসিল্যান্ডের হস্তক্ষেপে ৪০ পরিবারের চলাচলের পথ মুক্ত পূর্বধলা বাজারের উন্নয়নে ড্রেনেজ সংস্কার ও যানজট নিরসনের দাবি ব্যবসায়ীদের দেওয়ানগঞ্জে জেলা প্রশাসকের বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন, সেবার মানোন্নয়নে গুরুত্বারোপ জামালপুর জেলা পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত ঢাকা জেলা পুলিশের পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের র‍্যাংক ব্যাচ পরিধান ধামইরহাটে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২৭ বছর ধরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন গুচ্ছগ্রামের ১১০০ মানুষ

  • স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ১১:৫৩:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৪৮ বার পড়া হয়েছে

কবিতার সেই অসহায় মানুষের জীবন যেন বাস্তবে পরিণত হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার লাউর ফতেপুর ইউনিয়নের একটি গুচ্ছগ্রামে। আধুনিক নাগরিক সুবিধার ছোঁয়া না পেয়ে এই জনপদের প্রায় ২০০ পরিবারের প্রায় ১১০০ মানুষ দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে চরম অবহেলা ও মানবেতর জীবনযাপন করছেন। নানা সমস্যায় জর্জরিত এসব মানুষ দীর্ঘদিনের বঞ্চনা থেকে মুক্তি পেতে স্থানীয় সংসদ সদস্যের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
​

গত ২৭ সেপ্টেম্বর রবিবার সরেজমিন দেখা যায়, ২০০০ সালে তৎকালীন সময়ে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে লাউর ফতেপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে এই গুচ্ছগ্রামটি তৈরি করা হয়েছিল। প্রতিষ্ঠার পর থেকে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সরকারি এই পুনর্বাসন কেন্দ্রে ন্যূনতম নাগরিক সুবিধার ছোঁয়া লাগেনি।
​

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গুচ্ছগ্রামে যাতায়াতের জন্য কোনো ভালো রাস্তাঘাট এবং পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেই। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে নর্দমার দূষিত পানির পাশেই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তাদের বসবাস করতে হয়। এর প্রভাবে শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত প্রতিনিয়ত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

​এলাকায় সুপেয় পানির জন্য ভালো কোনো টিউবওয়েল নেই। এছাড়া গ্রামের একমাত্র পুকুরটিতে গোসল করার জন্য কোনো পাকা ঘাটলা না থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নারী ও শিশুদের।
​

গ্রামের বাসিন্দারা জানান, সামান্য বৃষ্টি হলেই ঝুপড়ি ঘরগুলোর চাল ভেদ করে অঝোর ধারায় পানি পড়ে পুরো ঘর ভেসে যায়। অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের সময় মাটি সরে গিয়ে অনেক ঘর চরম বিপদের মুখে রয়েছে। একটু ঝড়ো হাওয়ায় ঘরের ছাউনি উড়ে যাওয়ার ভয়ে আতঙ্কে দিন কাটে তাদের।

​ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিগত দিনে স্থানীয় সাবেক জনপ্রতিনিধিরা শুধু আশার বাণী শুনিয়ে গেলেও কোনো উন্নয়নমূলক কাজ করেননি। এছাড়া সরকারের দেওয়া এই ঘরগুলো থেকে ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক হোল্ডিং ট্যাক্স বা ফি হিসেবে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে। সরকারি নিয়মে হোল্ডিং স্মার্ট কার্ডের ফি ২০০ টাকা লেখা থাকলেও মাঠপর্যায়ে প্রতিটি পরিবার থেকে জোরপূর্বক ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। অসহায় এসব মানুষের ওপর এমন জুলুম কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

​দীর্ঘদিনের এই পুঞ্জীভূত সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে এবং মাথার ওপর একটি নিরাপদ ছাদ, পাকা ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানীয় জল ও রাস্তাঘাট নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পতিত ফ্যাসিবাদকে উৎসাহিত করে, এমন কাজ থেকে বিরত থাকুন জানিয়েছেন রিজভী

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২৭ বছর ধরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন গুচ্ছগ্রামের ১১০০ মানুষ

আপডেট সময় ১১:৫৩:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কবিতার সেই অসহায় মানুষের জীবন যেন বাস্তবে পরিণত হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার লাউর ফতেপুর ইউনিয়নের একটি গুচ্ছগ্রামে। আধুনিক নাগরিক সুবিধার ছোঁয়া না পেয়ে এই জনপদের প্রায় ২০০ পরিবারের প্রায় ১১০০ মানুষ দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে চরম অবহেলা ও মানবেতর জীবনযাপন করছেন। নানা সমস্যায় জর্জরিত এসব মানুষ দীর্ঘদিনের বঞ্চনা থেকে মুক্তি পেতে স্থানীয় সংসদ সদস্যের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
​

গত ২৭ সেপ্টেম্বর রবিবার সরেজমিন দেখা যায়, ২০০০ সালে তৎকালীন সময়ে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে লাউর ফতেপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে এই গুচ্ছগ্রামটি তৈরি করা হয়েছিল। প্রতিষ্ঠার পর থেকে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সরকারি এই পুনর্বাসন কেন্দ্রে ন্যূনতম নাগরিক সুবিধার ছোঁয়া লাগেনি।
​

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গুচ্ছগ্রামে যাতায়াতের জন্য কোনো ভালো রাস্তাঘাট এবং পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেই। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে নর্দমার দূষিত পানির পাশেই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তাদের বসবাস করতে হয়। এর প্রভাবে শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত প্রতিনিয়ত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

​এলাকায় সুপেয় পানির জন্য ভালো কোনো টিউবওয়েল নেই। এছাড়া গ্রামের একমাত্র পুকুরটিতে গোসল করার জন্য কোনো পাকা ঘাটলা না থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নারী ও শিশুদের।
​

গ্রামের বাসিন্দারা জানান, সামান্য বৃষ্টি হলেই ঝুপড়ি ঘরগুলোর চাল ভেদ করে অঝোর ধারায় পানি পড়ে পুরো ঘর ভেসে যায়। অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের সময় মাটি সরে গিয়ে অনেক ঘর চরম বিপদের মুখে রয়েছে। একটু ঝড়ো হাওয়ায় ঘরের ছাউনি উড়ে যাওয়ার ভয়ে আতঙ্কে দিন কাটে তাদের।

​ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিগত দিনে স্থানীয় সাবেক জনপ্রতিনিধিরা শুধু আশার বাণী শুনিয়ে গেলেও কোনো উন্নয়নমূলক কাজ করেননি। এছাড়া সরকারের দেওয়া এই ঘরগুলো থেকে ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক হোল্ডিং ট্যাক্স বা ফি হিসেবে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে। সরকারি নিয়মে হোল্ডিং স্মার্ট কার্ডের ফি ২০০ টাকা লেখা থাকলেও মাঠপর্যায়ে প্রতিটি পরিবার থেকে জোরপূর্বক ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। অসহায় এসব মানুষের ওপর এমন জুলুম কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

​দীর্ঘদিনের এই পুঞ্জীভূত সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে এবং মাথার ওপর একটি নিরাপদ ছাদ, পাকা ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানীয় জল ও রাস্তাঘাট নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।