ময়মনসিংহ , রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পাবনার ফরিদপুর পৌরসভায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান পাবনার ফরিদপুর বনওয়ারীনগর বাজারের অর্ধশতাধিক অবৈধ দোকান উচ্ছেদ নকলায় ছাত্রলীগের ১৩ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার, থানার সামনে স্বজনদের আহাজারি আদমদীঘিতে ডিলারদের সাইনবোর্ডসর্বস্ব বাণিজ্য: নির্ধারিত পয়েন্টে মিলছে না সার, অন্যত্র মজুত-বিক্রির অভিযোগ চট্টগ্রামে অনলাইন ভূমি অভিযোগ নিষ্পত্তিতে দেশসেরা সাফল্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে আইন কর্মকর্তা জাইমা রহমান, শুভেচ্ছা জিসপ সভাপতির ডিমলার কৃষকের ছেলে সিভিল জজ, আনন্দে ভাসছে নূরপাড়া গ্রাম সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপারের সাথে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় টেকনাফে নাফ নদীতে ১৫ হাজার ইয়াবা জব্দ লিবিয়ায় প্রবাসীকে অপহরণ ও নির্যাতন: ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের পর পিবিআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার ২
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

মদন-ফতেপুর সড়কের বেহাল দশা, চরম দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

নেত্রকোনার মদন-ফতেপুর সড়কের সংস্কারকাজ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ। সড়কের শক্ত ভিত্তি প্রস্তুতের পর কাজ থমকে যাওয়ায় এবং সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণে সড়কজুড়ে বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন পথচারী ও যানবাহন চালকরা।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ‘গ্রামীণ সড়ক মেরামত ও সংরক্ষণ’ প্রকল্পের আওতায় মদন-ফতেপুর সিসি সড়কের মেরামতকাজ শুরু হয়। ২ কোটি ৭২ লাখ ২৬ হাজার ৪৬ টাকা প্রাক্কলিত মূল্যের কাজটি পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স (প্রা.) লিমিটেড’। কাজটি ২০২৫ সালের ২৫ জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল।

অপরদিকে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩ কোটি ৫৭ হাজার ৬৪৩ টাকা প্রাক্কলিত মূল্যের আরেকটি কাজ পায় ‘বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন লিমিটেড’। এ কাজও ২০২৬ সালের ২৬ জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল।

দীর্ঘদিন ধরে কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় সড়কে সৃষ্টি হয়েছে গভীর গর্ত। বৃষ্টির পানি জমে এসব গর্ত আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এতে সড়ক দিয়ে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে পাহাড়পুর ব্রিজ এলাকায় অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও মালবাহী যানবাহন চলাচলে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সফিয়ন তালুকদার, হোসেন তালুকদার, মিনারুল, শফিকুল চৌধুরী ও মাওলানা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ যাতায়াত করেন। সংস্কারকাজে বিলম্বের কারণে সময় ও অর্থ দুটোই নষ্ট হচ্ছে। দ্রুত ভোগান্তি নিরসনে স্থানীয় মাননীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক সফল স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
লুৎফুজ্জামান বাবর এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সামিউল হায়দার শফি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। খানাখন্দের কারণে চরম ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অনুরোধ করছি, দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য।’

কাজ বন্ধ থাকার বিষয়ে ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্সের প্রতিনিধি তোফায়েল জানান, ‘আমরা অনেক আগে রাস্তার কাজ করেছি। কিন্তু বিল না পাওয়ায় বাকি কাজ করতে পারছি না। বিল পেলে দ্রুত কাজ শেষ করব।’

বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশনের প্রতিনিধি আশরাফুল জানান, ‘বৃষ্টির কারণে আমরা কাজ শেষ করতে পারছি না। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই কাজটি সম্পন্ন করার চেষ্টা করব।’
এ বিষয়ে মদন উপজেলা প্রকৌশলী মো. আরিফ উল্লাহ খান বলেন, ‘দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারলে তাদের চুক্তি বাতিল করা হবে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুতই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পাবনার ফরিদপুর পৌরসভায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান

মদন-ফতেপুর সড়কের বেহাল দশা, চরম দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

আপডেট সময় ১০:৩৮:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নেত্রকোনার মদন-ফতেপুর সড়কের সংস্কারকাজ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ। সড়কের শক্ত ভিত্তি প্রস্তুতের পর কাজ থমকে যাওয়ায় এবং সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণে সড়কজুড়ে বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন পথচারী ও যানবাহন চালকরা।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ‘গ্রামীণ সড়ক মেরামত ও সংরক্ষণ’ প্রকল্পের আওতায় মদন-ফতেপুর সিসি সড়কের মেরামতকাজ শুরু হয়। ২ কোটি ৭২ লাখ ২৬ হাজার ৪৬ টাকা প্রাক্কলিত মূল্যের কাজটি পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স (প্রা.) লিমিটেড’। কাজটি ২০২৫ সালের ২৫ জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল।

অপরদিকে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩ কোটি ৫৭ হাজার ৬৪৩ টাকা প্রাক্কলিত মূল্যের আরেকটি কাজ পায় ‘বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন লিমিটেড’। এ কাজও ২০২৬ সালের ২৬ জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল।

দীর্ঘদিন ধরে কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় সড়কে সৃষ্টি হয়েছে গভীর গর্ত। বৃষ্টির পানি জমে এসব গর্ত আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এতে সড়ক দিয়ে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে পাহাড়পুর ব্রিজ এলাকায় অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও মালবাহী যানবাহন চলাচলে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সফিয়ন তালুকদার, হোসেন তালুকদার, মিনারুল, শফিকুল চৌধুরী ও মাওলানা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ যাতায়াত করেন। সংস্কারকাজে বিলম্বের কারণে সময় ও অর্থ দুটোই নষ্ট হচ্ছে। দ্রুত ভোগান্তি নিরসনে স্থানীয় মাননীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক সফল স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
লুৎফুজ্জামান বাবর এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সামিউল হায়দার শফি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। খানাখন্দের কারণে চরম ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অনুরোধ করছি, দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য।’

কাজ বন্ধ থাকার বিষয়ে ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্সের প্রতিনিধি তোফায়েল জানান, ‘আমরা অনেক আগে রাস্তার কাজ করেছি। কিন্তু বিল না পাওয়ায় বাকি কাজ করতে পারছি না। বিল পেলে দ্রুত কাজ শেষ করব।’

বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশনের প্রতিনিধি আশরাফুল জানান, ‘বৃষ্টির কারণে আমরা কাজ শেষ করতে পারছি না। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই কাজটি সম্পন্ন করার চেষ্টা করব।’
এ বিষয়ে মদন উপজেলা প্রকৌশলী মো. আরিফ উল্লাহ খান বলেন, ‘দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারলে তাদের চুক্তি বাতিল করা হবে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুতই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’