ময়মনসিংহ নগরীর ব্যস্ত দুর্গাবাড়ি বাইলেন এলাকায় জনতা ব্যাংক পিএলসির ময়মনসিংহ কর্পোরেট শাখার সামনে সরকারি রাস্তার জায়গা দখল করে কয়েকটি চায়ের দোকান পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। এসব দোকানকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আড্ডা, রাস্তার ওপর ভিড়, যানজট এবং নানা ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।
জনতা ব্যাংকের নিজস্ব ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ময়মনসিংহ কর্পোরেট শাখাটি দুর্গাবাড়ি বাইলেনের ২২ নম্বর হোল্ডিংয়ে অবস্থিত।স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্যাংকের সামনে বাইলেনের বাস্তার অংশ দখল করে প্রায় ৩-৪টি চায়ের দোকান গড়ে উঠেছে। দোকানগুলোতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন বয়সী মানুষের ভিড় দেখা যায়। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর এসব দোকানকে কেন্দ্র করে আড্ডা বাড়তে থাকে। ফলে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।
রাস্তার ওপর দোকান, বাড়ছে যানজট
এলাকাবাসীর দাবি, চায়ের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বাড়লে অনেকেই রাস্তার দুই পাশে মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহন দাঁড় করিয়ে রাখেন। দোকানের বেঞ্চ, চেয়ার ও অন্যান্য সামগ্রী রাস্তার জায়গা দখল করে রাখার কারণেও চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়।ব্যস্ত সময়ে একদিকে পথচারী, অন্যদিকে রিকশা, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনের চাপ থাকায় প্রায়ই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, এতে ছোট-বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
উঠতি বয়সীদের ও কিশোর গ্যাংয়ের
আড্ডা নিয়ে উদ্বেগ সচেতন মহলের।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে উঠতি বয়সী কিশোর, বখাটে ও বিভিন্ন ধরনের আড্ডাবাজদের আনাগোনা বেড়ে যায়। দোকানগুলোতে বসাকে কেন্দ্র করে নিজেদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক, বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির মতো পরিস্থিতিও তৈরি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সাংবাদিকরা একসময় এসব চায়ের দোকানের জটলা করলেও পরিবেশ নষ্ট হওয়ার কারণে চায়ের এই দোকানগুলোতে সাংবাদিকরদের দেখা যায় না।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার
গভীরে নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল। একই সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত না করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।ছিনতাই ও হয়রানির অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, চায়ের দোকানগুলোর আশপাশে বিভিন্ন সময়ে চুরি, ছিনতাই, পথচারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, ইভটিজিং এবং বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানোর মতো ঘটনা ঘটে থাকে।
স্থানীয়দের দাবি, এসব ঘটনার কারণে সন্ধ্যার পর ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নারী, শিক্ষার্থী ও বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
রয়েছে সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ।
সম্প্রতি ওই চায়ের দোকানগুলোর সামনে সাংবাদিক মারুফ হোসেনের ওপর হামলার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সহকর্মী সাংবাদিকদের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনায় রূপ নেওয়া থেকে রক্ষা পায়।
ঘটনাটির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য যাচাই করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরী হয়েছে,জনমনে উদ্বেগ,জনসাধারনের অভিযোগ, রাস্তার ওপর দোকান বসানো এবং দোকানের সামনে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে যানবাহন ও পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে দ্রুতগতির মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনের সঙ্গে পথচারীদের সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।ইতিপূর্বে কয়েকজন পথচারী রাস্তায় চলাচল করতে গিয়ে আহত হয়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি, এখনই রাস্তার অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করা না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।প্রশাসনের নজরদারি ও উচ্ছেদ অভিযান দাবি।এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, রাস্তার জায়গা দখল করে দোকান বসানোর বৈধতা আছে কি না তা যাচাই করা, ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করা এবং অপরাধপ্রবণতা থাকলে তা চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
একই সঙ্গে সন্ধ্যার পর ওই এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহল জোরদার, সড়কের ওপর যানবাহন পার্কিং নিয়ন্ত্রণ এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তাদের ভাষ্য, একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংক শাখার সামনে যদি সড়ক দখল, যানজট ও নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ তৈরি হয়, তাহলে শুধু স্থানীয় বাসিন্দাই নয় ব্যাংকের গ্রাহক, পথচারী ও নগরবাসী সবাই এর ভুক্তভোগী হতে পারেন।

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি 


















