ময়মনসিংহ , সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সবার জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করা অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের পূর্বশর্ত বলেছেন রাষ্ট্রপতি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলায় বিএনপির নেতাকর্মীদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই জানিয়েছেন রাশেদ খাঁন পরিকল্পিত নগরায়নে প্রতি সিটি ও জেলায় হচ্ছে মাস্টারপ্ল্যান বললেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ উপলক্ষে ঢাকায় প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে নেত্রকোণায় মতবিনিময় সভা ময়মনসিংহে শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন করতে পুলিশ ও সুশীল সমাজের মতবিনিময় সভা বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে ৪ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার: বিজিবির অভিযান পাঁচবিবিতে মাদকবিরোধী ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত, বিজয়ী রিফাতের আর টিম কালিয়াকৈরে বাংলাদেশ গার্ল গাইডস্ অ্যাসোসিয়েশনের ১৩তম জাতীয় ক্যাম্প শুভ উদ্বোধন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে নেত্রকোণায় আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিষয়ক মতবিনিময় সভা
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

ময়মনসিংহে শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন করতে পুলিশ ও সুশীল সমাজের মতবিনিময় সভা

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার, সম্প্রীতির বন্ধনে গড়ি মানবতার দ্বার।”​আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের উদ্যোগে হিন্দু ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​রোববার (অজ্ঞাত তারিখ অনুযায়ী) ময়মনসিংহ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এ সভায় জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের হিন্দু ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, সামাজিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভায় আসন্ন দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি প্রতিরোধে পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।

​সভায় বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ কণ্ঠের সভাপতি দেবব্রত দাস দুকুল বক্তব্য রাখেন। তিনি দুর্গাপূজাকে ঘিরে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক শান্তি বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সকলের দায়িত্বশীল ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, পূজা উদযাপন কমিটিগুলোর সঙ্গে প্রশাসন ও পুলিশের সমন্বয় এবং যেকোনো গুজব বা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।

​বক্তারা বলেন, দুর্গাপূজা শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসবই নয়; এটি বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও দীর্ঘদিনের সামাজিক সম্প্রীতির একটি উজ্জ্বল প্রতিফলন। উৎসবকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, গুজব, উসকানি কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক ও দায়িত্বশীল থাকতে হবে।

​পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে নজরদারি বৃদ্ধি, প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশি টহল জোরদার এবং পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হবে।

​সভায় দেবব্রত দাস দুকুল বলেন, “একটি উৎসবের সৌন্দর্য কেবল আলোকসজ্জা কিংবা আনুষ্ঠানিকতায় নয়; বরং নিরাপদ পরিবেশ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সম্প্রীতির মধ্যেই এর প্রকৃত সৌন্দর্য নিহিত।”

​ময়মনসিংহের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগমের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পূজা উদযাপন কমিটি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবক ও সাধারণ নাগরিকদের সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

​উপস্থিত হিন্দু নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, শান্তি ও সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখতে তারা প্রশাসন ও পুলিশের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করবেন। কোনো ধরনের অপপ্রচার বা গুজবে কান না দিয়ে যেকোনো সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার আহ্বান জানান তারা।
​

বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্যকে আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে দেবব্রত দাস দুকুল বলেন—
“আলোর উৎসব ছড়িয়ে পড়ুক ঘরে ঘরে,
সম্প্রীতির বাংলাদেশ থাকুক সবার অন্তরে।”

​এই মতবিনিময় সভার মাধ্যমে আসন্ন দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহে একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসন, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের মধ্যে চমৎকার সমন্বয়ের বার্তা উঠে এসেছে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সবার জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করা অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের পূর্বশর্ত বলেছেন রাষ্ট্রপতি

ময়মনসিংহে শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন করতে পুলিশ ও সুশীল সমাজের মতবিনিময় সভা

আপডেট সময় ১০:০১:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার, সম্প্রীতির বন্ধনে গড়ি মানবতার দ্বার।”​আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের উদ্যোগে হিন্দু ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​রোববার (অজ্ঞাত তারিখ অনুযায়ী) ময়মনসিংহ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এ সভায় জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের হিন্দু ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, সামাজিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভায় আসন্ন দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি প্রতিরোধে পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।

​সভায় বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ কণ্ঠের সভাপতি দেবব্রত দাস দুকুল বক্তব্য রাখেন। তিনি দুর্গাপূজাকে ঘিরে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক শান্তি বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সকলের দায়িত্বশীল ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, পূজা উদযাপন কমিটিগুলোর সঙ্গে প্রশাসন ও পুলিশের সমন্বয় এবং যেকোনো গুজব বা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।

​বক্তারা বলেন, দুর্গাপূজা শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসবই নয়; এটি বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও দীর্ঘদিনের সামাজিক সম্প্রীতির একটি উজ্জ্বল প্রতিফলন। উৎসবকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, গুজব, উসকানি কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক ও দায়িত্বশীল থাকতে হবে।

​পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে নজরদারি বৃদ্ধি, প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশি টহল জোরদার এবং পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হবে।

​সভায় দেবব্রত দাস দুকুল বলেন, “একটি উৎসবের সৌন্দর্য কেবল আলোকসজ্জা কিংবা আনুষ্ঠানিকতায় নয়; বরং নিরাপদ পরিবেশ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সম্প্রীতির মধ্যেই এর প্রকৃত সৌন্দর্য নিহিত।”

​ময়মনসিংহের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগমের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পূজা উদযাপন কমিটি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবক ও সাধারণ নাগরিকদের সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

​উপস্থিত হিন্দু নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, শান্তি ও সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখতে তারা প্রশাসন ও পুলিশের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করবেন। কোনো ধরনের অপপ্রচার বা গুজবে কান না দিয়ে যেকোনো সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার আহ্বান জানান তারা।
​

বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্যকে আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে দেবব্রত দাস দুকুল বলেন—
“আলোর উৎসব ছড়িয়ে পড়ুক ঘরে ঘরে,
সম্প্রীতির বাংলাদেশ থাকুক সবার অন্তরে।”

​এই মতবিনিময় সভার মাধ্যমে আসন্ন দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহে একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসন, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের মধ্যে চমৎকার সমন্বয়ের বার্তা উঠে এসেছে।