ময়মনসিংহ , বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন পুরোপুরি প্রস্তুত জানিয়েছেন সিইসি শাপলা চত্বরের ঘটনা সরকার উপেক্ষা করবে না, ভালো বিচার হবে জানিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত: এসকে সুরের ৩ বছরের জেল গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেছেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি ময়মনসিংহের গৌরীপুরে উন্নয়ন ও জনকল্যাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী হাসনাত- সারজিস গণঅভ্যুত্থানের সাথে বেইমানি করার কারণে ছাত্র উপদেষ্টা হতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন রাশেদ খাঁন লন্ডনে ওয়াটফোর্ড বাংলাদেশী অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রামের মেজবান অনুষ্ঠিত শিক্ষককে ভিডিও ছড়িয়ে হেনস্তা, আইনি পদক্ষেপ পূর্বধলার সমস্যা ও অভিযোগ সরাসরি জানাতে এমপি মানসুরার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ পূর্বধলা থানা পরিদর্শন করলেন নেত্রকোণার পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

রাতের ভোটের ভয়ংকর কাহিনি নূরুলের মুখে

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:০২:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ জুলাই ২০২৫
  • ১৯৫ বার পড়া হয়েছে

সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা ২০১৮ সালের দিনের ভোট রাতে সম্পন্ন করা নিয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ভোটে ব্যাপক কারচুপির জন্য ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও গোয়েন্দা সংস্থাকে দায়ী করেছেন তিনি।

গত মঙ্গলবার ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম মো. জিয়াদুর রহমানের আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে নূরুল হুদা বলেন, নির্বাচনের আগেই গোয়েন্দা সংস্থা মাঠ দখলে নেয় এবং সরকারের অনুগত পুলিশ, রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের সহযোগিতায় ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা দিনের ভোট আগের রাতেই সম্পন্ন করে। বিষয়টি যখন বুঝতে পারি, তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। নূরুল হুদা বলেন, নির্বাচন কমিশনকে অন্ধকারে রেখেই আওয়ামী লীগ সরকার ভোট কারচুপি করেছিল, নির্বাচন কমিশনের কিছু করার ছিল না। নির্বাচনের সময় জানতে পারি, রাতেই অনেক কেন্দ্রে ৩০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত ভোট পড়েছে। তখন নিশ্চিত হই, রাতেই ভোট দেওয়া হয়েছে। তখন কিছু করার ছিল না। নূরুল হুদা আরও বলেন, এ বিষয়ে আমি অনুতপ্ত ছিলাম। যেহেতু গেজেট প্রকাশ হয়েছে, তখন আমি নির্বাচন বাতিল করতে পারি না। তখন আমার হাতে ক্ষমতাও নেই। কে এম নূরুল হুদার আদালতে দেওয়া এসব স্বীকারোক্তির কথা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে নিশ্চিত করেছেন আদালতের শেরেবাংলা নগর থানার এক উপ-পরিদর্শক। তিনি জানান, নূরুল হুদা বলেছেন, ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা নির্বাচন কমিশনকে অন্ধকারে রেখে পুরো প্রক্রিয়াটা শেষ করেছে। গোয়েন্দা সংস্থা রাতের ভোট আয়োজনেও সহায়তা করেছে। মাঠপর্যায়ের সব কর্মকর্তাই তৎকালীন নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলালুদ্দীনের অধীনে ছিলেন, যিনি সরকারের হয়ে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করতেন। এ অবস্থায় তার একার পক্ষে কিছু করার সুযোগ ছিল না।

এর আগে আওয়ামী লীগ আমলে অনুষ্ঠিত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে অনিয়ম-কারচুপির অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক তিন প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে আসামি করে গত ২২ জুন রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. সালাহউদ্দিন খান।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন পুরোপুরি প্রস্তুত জানিয়েছেন সিইসি

রাতের ভোটের ভয়ংকর কাহিনি নূরুলের মুখে

আপডেট সময় ১২:০২:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ জুলাই ২০২৫

সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা ২০১৮ সালের দিনের ভোট রাতে সম্পন্ন করা নিয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ভোটে ব্যাপক কারচুপির জন্য ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও গোয়েন্দা সংস্থাকে দায়ী করেছেন তিনি।

গত মঙ্গলবার ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম মো. জিয়াদুর রহমানের আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে নূরুল হুদা বলেন, নির্বাচনের আগেই গোয়েন্দা সংস্থা মাঠ দখলে নেয় এবং সরকারের অনুগত পুলিশ, রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের সহযোগিতায় ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা দিনের ভোট আগের রাতেই সম্পন্ন করে। বিষয়টি যখন বুঝতে পারি, তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। নূরুল হুদা বলেন, নির্বাচন কমিশনকে অন্ধকারে রেখেই আওয়ামী লীগ সরকার ভোট কারচুপি করেছিল, নির্বাচন কমিশনের কিছু করার ছিল না। নির্বাচনের সময় জানতে পারি, রাতেই অনেক কেন্দ্রে ৩০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত ভোট পড়েছে। তখন নিশ্চিত হই, রাতেই ভোট দেওয়া হয়েছে। তখন কিছু করার ছিল না। নূরুল হুদা আরও বলেন, এ বিষয়ে আমি অনুতপ্ত ছিলাম। যেহেতু গেজেট প্রকাশ হয়েছে, তখন আমি নির্বাচন বাতিল করতে পারি না। তখন আমার হাতে ক্ষমতাও নেই। কে এম নূরুল হুদার আদালতে দেওয়া এসব স্বীকারোক্তির কথা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে নিশ্চিত করেছেন আদালতের শেরেবাংলা নগর থানার এক উপ-পরিদর্শক। তিনি জানান, নূরুল হুদা বলেছেন, ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা নির্বাচন কমিশনকে অন্ধকারে রেখে পুরো প্রক্রিয়াটা শেষ করেছে। গোয়েন্দা সংস্থা রাতের ভোট আয়োজনেও সহায়তা করেছে। মাঠপর্যায়ের সব কর্মকর্তাই তৎকালীন নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলালুদ্দীনের অধীনে ছিলেন, যিনি সরকারের হয়ে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করতেন। এ অবস্থায় তার একার পক্ষে কিছু করার সুযোগ ছিল না।

এর আগে আওয়ামী লীগ আমলে অনুষ্ঠিত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে অনিয়ম-কারচুপির অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক তিন প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে আসামি করে গত ২২ জুন রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. সালাহউদ্দিন খান।