নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন স্মরণে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) নাট্যকলা বিভাগের আয়োজনে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে মঞ্চস্থ হয়েছে তাঁর আলোচিত নাটক ‘যৌবতী কন্যার মন’। আফরিন হুদা তোরার নির্দেশনায় নাটকটির প্রদর্শনী দেখতে গত ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমিতে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় হাই কমিশনের প্রতিনিধিরা।
নাটক শেষে বিভাগের শিক্ষার্থীদের অভিনিত পরিবেশনার ভূয়সী প্রশংসা করেন ভারতীয় হাই কমিশনের প্রতিনিধি। নাটকের আবেগকে গভীরভাবে মূল্যায়ন করে নির্দেশক আফরিন হুদা তোরাকে এ ধরনের নান্দনিক মঞ্চায়ন অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানান তিনি। এসময় তিনি বলেন, “সংস্কৃতিতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অনেক মিল রয়েছে। এ ধরনের পরিবেশনা নিজেদের শেকড় ও সংস্কৃতিকে মনে করিয়ে দেয়।”
ঢাকার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে চার দিনব্যাপী এ আয়োজনে নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের দুটি আলোচিত নাটক—‘যৌবতী কন্যার মন’ ও ‘ধাবমান’ মঞ্চস্থ হচ্ছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই প্রদর্শনী চলবে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত।
আয়োজকদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২৭ ও ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় মঞ্চস্থ হয়েছে ‘যৌবতী কন্যার মন’। এছাড়া পরবর্তী দুই দিন অর্থাৎ ২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বর একই সময়ে মঞ্চস্থ হবে তাঁর আরেকটি আলোচিত নাটক ‘ধাবমান’।
আয়োজনটিতে নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের একটি বিশেষ উদ্ধৃতি ব্যবহার করা হয়েছে—
“এই আমাদের দেশ
আমার কিছু নাই
আমি শূন্যে ভাসমান
গঠিত হই শূন্যে মিলায়”—
যা পুরো আয়োজনের সঙ্গে তাঁর নাট্যভাবনার একটি গভীর আবহ তৈরি করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত মঞ্চচর্চা, অভিনয় ও প্রযোজনাকেন্দ্রিক কাজের অংশ হিসেবে এ ধরনের আয়োজন সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। শিল্পকলা একাডেমির মঞ্চে চার দিনব্যাপী সেলিম আল দীনের নাটক প্রদর্শনের মাধ্যমে দর্শকদের সামনে তাঁর নাট্যরীতি ও সৃষ্টিশীলতা নতুনভাবে উপস্থাপিত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে যাত্রা শুরু করা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগ বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্য ও সাংস্কৃতিক চর্চার একটি অন্যতম প্রধান একাডেমিক পরিসর হিসেবে পরিচিত।

স্টাফ রিপোর্টার 


















