ময়মনসিংহ , বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বর্ণিল সাজে বারোমারী তীর্থস্থান, ফাতেমা রাণীর তীর্থোৎসব ঘিরে আনন্দের বন্যা বিদ্যুৎ খাতে লুটপাট করতেই দায়মুক্তি আইন পাস করেছিল আওয়ামী লীগ বললেন রিজভী পাঁচজন সাংবাদিকের হত্যাকাণ্ড, বিচারের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছেন ময়মনসিংহের সাংবাদিকবৃন্দ বারোমারী মিশনে ফাতেমা রাণীর তীর্থোৎসবের প্রস্তুতি পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক ময়মনসিংহ পুলিশ লাইন্সের আরআই তারা মিয়ার বদলিজনিত বিদায় সংবর্ধনা কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে বাড়ির পাশের জমে থাকা পানিতে ডুবে হুমাইশা আক্তার (২) নামের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে দিনাজপুরে রাস্তার জমি ও পারিশ্রমিক নিয়ে বিরোধ: প্রধান শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ২ সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অঙ্গীকার পূর্বধলায় শিক্ষক-কর্মচারী ক্রেডিট ইউনিয়নের নির্বাচনে সমর্থন চায় রূপন-নিলয়-মোশারফ পরিষদ রাজশাহীতে প্রথম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধন নারায়ণগঞ্জে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে একই পরিবারের চারজন নিহত, পরিবারকে ৮০ হাজার টাকা সহায়তা দিল পূর্বধলা প্রশাসন
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

পাবনা জেলা ফরিদপুর উপজেলায় নিয়মিত সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় সেবাগ্রহীতাগণদের চরম ভোগান্তি

পাবনা জেলার ফরিদপুর উপজেলায় সাব-রেজিস্ট্রী অফিসে নিয়মিত সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় সেবা গ্রহীতাগণদের ভোগান্তির শেষ নেই। জমির দলিল করতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকেও কাঙিক্ষত সেবা মিলছে না। এতে করে একদিকে যেমন সরকার বড় অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অন্যদিকে জমিজমা, ঘরবাড়ি ও অন্যান্য সম্পত্তি বেচাকেনা বন্ধের উপক্রম হয়েছে। জমি ক্রেতা বিক্রেতাদের সঠিক সেবা দিতে না পারায় সাব-রেজিস্ট্রী অফিসকে কেন্দ্র করে যারা জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন সেই দলিল লেখকগণ, ভেন্ডার ও তাদের সহযোগীদের সহস্ত্রাধিক পরিবার বেকার হয়ে পড়ছেন। যা সামগ্রিক অর্থনীতিকে বাজে প্রভাব ফেলছে। সরকারের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অফিস সাব-রেজিস্ট্রী কার্যালয়।

এলাকার সব জমিজমা ও স্থাপনার দলিল সম্পাদন এখানে হয়ে থাকে এখানে। এলাকায় জমিজমা হস্তান্তর হয়ে থাকে। যার ফলে সরকারি কোষাগারে বড় অংকের রাজস্ব যোগ হয়। সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত সপ্তাহে পাঁচদিন উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রী অফিস চালু থেকেও সেবা গ্রহীতাগণদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। জানা গেছে যে, পার্শবর্তী চাটমোহর উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার মোঃ আলমগীর হোসেনকে এ অফিসের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি সপ্তাহে মাত্র একদিন অফিস করেন, বাকি চাটমোহর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রী অফিসে বসেন।
নিয়মিত সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় সেবাগ্রহীতাগণরা বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দেয়। অনেকে ভোগান্তির কারণে দলিল সম্পাদন করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এসব দুর্ভোগের কারণে জমির মালিকগণরা জমি বেচাকেনায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। ফলে সরকার লাখ লাখ টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পাশাপাশি দলিল লেখকগণরাও বেকার হয়ে পড়ছেন। ফরিদপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রী অফিসের দলিল লেখকগণরা প্রায় একই রকম তথ্য দিয়ে জানিয়েছেন, সপ্তাহে একদিন জমি রেজিস্ট্রী করতে গেলে নানা ভোগান্তির শিকার হতে হয়। ব্যাংক ড্রাফট, জমির কাগজপত্র ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস জোগাড় করতেই বেলা শেষ হয়ে যায়। ওইদিন কোনো কারণে জমির দলিল না হলে পরের সপ্তাহের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। আবার কাগজে কোনো গ্যাপ থাকলে পরের সপ্তাহেও দলিল হয় না। ফরিদপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা জমি বেচাকেনা করতে আসা ব্যাক্তিদের সঙ্গে সরেজমিনে আলাপকালে জমি রেজিস্ট্রী করতে এসে তাদের দুর্ভোগের কথা জানা যায়।

ফরিদপুর দলিল লেখক সমিতির সভাপতি/সম্পাদক বলেন, সপ্তাহে মাত্র একদিন দলিল হওয়ায় সেবা গ্রহীতাগণদের ভোগান্তির কোনো শেষ নেই। আরও বলেন, নিয়িমিত সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় দলিল একেবারেই কমে গেছে। ফরিদপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সাব-রেজিস্ট্রার মোঃ আলমগীর হোসেন বলেন, আমি খণ্ডকালীন এ কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করছি। ফরিদপুর উপজেলায় সাব-রেজিস্ট্রার না থাকার কারণে দলিল রেজিস্ট্রীতে গ্রাহকগণদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। যার মধ্যে রয়েছে দীর্ঘ সূত্রতা, দলিলে স্বাক্ষর না হওয়া, দাতাগণ-গ্রহীতাগণের বারবার আসা-যাওয়া এবং অতিরিক্ত খরচ করতে হচ্ছে।

উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার না থাকলে যে ধরণের ভোগান্তি হয়। দীর্ঘ সূত্রতা ও দলিল স্বাক্ষর না হওয়া বদলি বা অনুপস্থিতির কারণে শতশত দলিলে স্বাক্ষর আটকে থাকে, ফলে জমির মালিকানা হস্তান্তর প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যায়। আর্থিক ও শারীরিক ভোগান্তি দাতাগণ ও গ্রহীতাগনদের দিনের পর দিন সাব-রেজিস্ট্রী অফিসে এসে হয়রানির শিকার হতে হয়। দালাল ও দুর্নীতির সুযোগ নিয়মিত সাব-রেজিস্ট্রার না থাকলে দালাল চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং দলিল দ্রুত করতে অতিরিক্ত অর্থের দাবি করে। আইনি ও ভবিষ্যৎ জটিলতা দলিল ঠিক সময়ে রেজিস্ট্রী না হলে নামজারি বা ভূমি রেকর্ড সংশোধনে জটিলতা দেখা দেয়। সময় মতো দলিলে স্বাক্ষর না হওয়া দলিল দাতাগণ দলিলে স্বাক্ষর করে গেলেও সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় তা যাচাই ও রেজিস্ট্রী করা যায় না।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বর্ণিল সাজে বারোমারী তীর্থস্থান, ফাতেমা রাণীর তীর্থোৎসব ঘিরে আনন্দের বন্যা

পাবনা জেলা ফরিদপুর উপজেলায় নিয়মিত সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় সেবাগ্রহীতাগণদের চরম ভোগান্তি

আপডেট সময় ১২:০৪:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

পাবনা জেলার ফরিদপুর উপজেলায় সাব-রেজিস্ট্রী অফিসে নিয়মিত সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় সেবা গ্রহীতাগণদের ভোগান্তির শেষ নেই। জমির দলিল করতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকেও কাঙিক্ষত সেবা মিলছে না। এতে করে একদিকে যেমন সরকার বড় অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অন্যদিকে জমিজমা, ঘরবাড়ি ও অন্যান্য সম্পত্তি বেচাকেনা বন্ধের উপক্রম হয়েছে। জমি ক্রেতা বিক্রেতাদের সঠিক সেবা দিতে না পারায় সাব-রেজিস্ট্রী অফিসকে কেন্দ্র করে যারা জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন সেই দলিল লেখকগণ, ভেন্ডার ও তাদের সহযোগীদের সহস্ত্রাধিক পরিবার বেকার হয়ে পড়ছেন। যা সামগ্রিক অর্থনীতিকে বাজে প্রভাব ফেলছে। সরকারের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অফিস সাব-রেজিস্ট্রী কার্যালয়।

এলাকার সব জমিজমা ও স্থাপনার দলিল সম্পাদন এখানে হয়ে থাকে এখানে। এলাকায় জমিজমা হস্তান্তর হয়ে থাকে। যার ফলে সরকারি কোষাগারে বড় অংকের রাজস্ব যোগ হয়। সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত সপ্তাহে পাঁচদিন উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রী অফিস চালু থেকেও সেবা গ্রহীতাগণদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। জানা গেছে যে, পার্শবর্তী চাটমোহর উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার মোঃ আলমগীর হোসেনকে এ অফিসের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি সপ্তাহে মাত্র একদিন অফিস করেন, বাকি চাটমোহর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রী অফিসে বসেন।
নিয়মিত সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় সেবাগ্রহীতাগণরা বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দেয়। অনেকে ভোগান্তির কারণে দলিল সম্পাদন করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এসব দুর্ভোগের কারণে জমির মালিকগণরা জমি বেচাকেনায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। ফলে সরকার লাখ লাখ টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পাশাপাশি দলিল লেখকগণরাও বেকার হয়ে পড়ছেন। ফরিদপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রী অফিসের দলিল লেখকগণরা প্রায় একই রকম তথ্য দিয়ে জানিয়েছেন, সপ্তাহে একদিন জমি রেজিস্ট্রী করতে গেলে নানা ভোগান্তির শিকার হতে হয়। ব্যাংক ড্রাফট, জমির কাগজপত্র ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস জোগাড় করতেই বেলা শেষ হয়ে যায়। ওইদিন কোনো কারণে জমির দলিল না হলে পরের সপ্তাহের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। আবার কাগজে কোনো গ্যাপ থাকলে পরের সপ্তাহেও দলিল হয় না। ফরিদপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা জমি বেচাকেনা করতে আসা ব্যাক্তিদের সঙ্গে সরেজমিনে আলাপকালে জমি রেজিস্ট্রী করতে এসে তাদের দুর্ভোগের কথা জানা যায়।

ফরিদপুর দলিল লেখক সমিতির সভাপতি/সম্পাদক বলেন, সপ্তাহে মাত্র একদিন দলিল হওয়ায় সেবা গ্রহীতাগণদের ভোগান্তির কোনো শেষ নেই। আরও বলেন, নিয়িমিত সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় দলিল একেবারেই কমে গেছে। ফরিদপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সাব-রেজিস্ট্রার মোঃ আলমগীর হোসেন বলেন, আমি খণ্ডকালীন এ কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করছি। ফরিদপুর উপজেলায় সাব-রেজিস্ট্রার না থাকার কারণে দলিল রেজিস্ট্রীতে গ্রাহকগণদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। যার মধ্যে রয়েছে দীর্ঘ সূত্রতা, দলিলে স্বাক্ষর না হওয়া, দাতাগণ-গ্রহীতাগণের বারবার আসা-যাওয়া এবং অতিরিক্ত খরচ করতে হচ্ছে।

উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার না থাকলে যে ধরণের ভোগান্তি হয়। দীর্ঘ সূত্রতা ও দলিল স্বাক্ষর না হওয়া বদলি বা অনুপস্থিতির কারণে শতশত দলিলে স্বাক্ষর আটকে থাকে, ফলে জমির মালিকানা হস্তান্তর প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যায়। আর্থিক ও শারীরিক ভোগান্তি দাতাগণ ও গ্রহীতাগনদের দিনের পর দিন সাব-রেজিস্ট্রী অফিসে এসে হয়রানির শিকার হতে হয়। দালাল ও দুর্নীতির সুযোগ নিয়মিত সাব-রেজিস্ট্রার না থাকলে দালাল চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং দলিল দ্রুত করতে অতিরিক্ত অর্থের দাবি করে। আইনি ও ভবিষ্যৎ জটিলতা দলিল ঠিক সময়ে রেজিস্ট্রী না হলে নামজারি বা ভূমি রেকর্ড সংশোধনে জটিলতা দেখা দেয়। সময় মতো দলিলে স্বাক্ষর না হওয়া দলিল দাতাগণ দলিলে স্বাক্ষর করে গেলেও সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় তা যাচাই ও রেজিস্ট্রী করা যায় না।