ময়মনসিংহ , বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
লঘুচাপের পূর্বাভাস: সমুদ্র বন্দরে সতর্ক সংকেত জারি ​অমাবস্যার জোয়ার: বরিশালের ৮ নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার উপরে আফগানিস্তানের দায়িত্বে বাংলাদেশের রাবাব ফাতিমা, জাতিসংঘে বড় পদমর্যাদা ২৪ ঘণ্টায় ডিএমপির অভিযানে গ্রেফতার ৪৮৭ ​জুলাইয়ের প্রথম ১৪ দিনে এলো ১৫৪ কোটি ২০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স ​কাতার সফর শেষ করে দেশে ফিরলেন স্পিকার নোয়াখালী মাদক নিয়ে বিরোধে যুবককে কুপিয়ে হত্যা ​পূর্বধলায় বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের সঙ্গে ইউএনওর মতবিনিময়, দ্রুত নিবন্ধনের দাবি মদনে পৌনে ২ লাখ টাকার নিষিদ্ধ জাল জব্দ ও পুড়িয়ে ধ্বংস টেকনাফ-উখিয়ায় র‌্যাব-বিজিবি-এপিবিএনের যৌথ ধাক্কা: বিপুল ইয়াবা, অস্ত্র ও নগদ টাকাসহ ৬ জন আটক
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

ম্যারাডোনাকে জয় উৎসর্গ করে মেসি বললেন, ‘এটি তাঁরই উপহার’

  • ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:২৮:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে

রুদ্ধশ্বাস জয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা। ৮৬-এর ম্যারাডোনা থেকে ২৬-এর মেসির হাতে এখন আলবিসেলেস্তেদের ঝান্ডা। গোল না পেলেও দলের দুটি জয়সূচক গোলেই অবদান রেখেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। ইংলিশদের বিপক্ষে যার নাম সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হয়, সেই ম্যারাডোনাকেই এই জয় উৎসর্গ করলেন লিওনেল মেসি।

ঠিক ৪০ বছর আগে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ম্যারাডোনা এমন এক ব্যক্তিগত নৈপুণ্য দেখিয়েছিলেন, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স হিসেবে বিবেচিত হয়। অনেকের মতে, সেই জয় ১৯৮২ সালে ফকল্যান্ডস যুদ্ধের ক্ষতবিক্ষত আর্জেন্টাইন জনগণের মনে কিছুটা হলেও প্রশান্তি এনে দিয়েছিল। ফলে প্রতিপক্ষ যখন ইংল্যান্ড, বারবারই আলোচনায় আসছিল দিয়েগোর নামটি। তাই তো শেষ মুহূর্তের নাটকীয় প্রত্যাবর্তনে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেসি এই জয় উৎসর্গ করেন ম্যারাডোনাকে।

টিওয়াইসি’র সাংবাদিক মাতিয়াস পেলিচিওনি খেলা শেষে ১৯৮৬ সালের সেই ঐতিহাসিক ম্যাচে ম্যারাডোনার পরা জার্সির একটি প্রতিরূপ মেসির হাতে তুলে দেন। এ সময় আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় মেসি বলেন, ‘নিঃসন্দেহে ওপর থেকে দিয়েগো এটা দারুণভাবে উপভোগ করছে। কারণ আজকের দিনটা তার জন্য খুবই বিশেষ ছিল। তাকে এই আনন্দটা দিতে পেরে ভালো লাগছে। ওপর থেকে যেভাবেই দেখুক, উপভোগ করুক। এটাও ওর জন্য একটা উপহার।’

১৯৮৬ সালের ২২ জুন মেক্সিকোর আজতেকা স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচেই মাত্র পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে ম্যারাডোনা নিজেকে কিংবদন্তির আসনে প্রতিষ্ঠিত করেন। ম্যাচের ৫০তম মিনিটে তিনি পিটার শিলটনের আগেই হাতে বল ছুঁয়ে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন। যা পরে ‘হ্যান্ড অব গড’ নামে ইতিহাসে অমর হয়ে যায়। এরপর খানিক বাদেই একের পর এক ইংলিশ ফুটবলারকে কাটিয়ে, যেন ‘মহাজাগতিক ঘুড়ি’র মতো ছুটে গিয়ে করেন দ্বিতীয় গোল। সৌন্দর্য ও প্রতীকী গুরুত্ব– দুই দিক থেকেই অনেকের কাছে সেটিই বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ গোল।

মেসি বলেন, ‘জাতীয় সংগীতের সময় বিশেষ কিছু ঘটেছিল। দর্শকদের গুঞ্জন ধীরে ধীরে জোরালো হয়ে ওঠে। তারা অন্যরকম আবেগ নিয়ে গান গাইছিল, আর আমরা একে অপরের দিকে তাকিয়ে সেটা অনুভব করছিলাম। জানতাম এটা শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ, কিন্তু কখনও কখনও আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে যায়। আমরা সেই অনুভূতি নিয়েই ম্যাচটি খেলেছি।’

এই ম্যাচে আরও কয়েকটি রেকর্ড নিজের নামে লিখিয়েছেন মেসি। আগামী রোববার দিবাগত রাতে নিউজার্সিতে স্পেনের বিপক্ষে তিনি খেলবেন নিজের তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল, যা তাকে ব্রাজিল কিংবদন্তি কাফুর রেকর্ডের সমতায় নিয়ে যাবে। একইসঙ্গে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে কিলিয়ান এমবাপ্পের ওপর নিজের ব্যবধান আরও বাড়ানোর সুযোগ থাকবে তার সামনে। পাশাপাশি লক্ষ্য থাকবে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জিতে নিজের অনন্য অর্জনের ভাণ্ডারকে আরও সমৃদ্ধ করা।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচজুড়ে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মুখে এখন একটি গান সবচেয়ে বেশি শোনা যায়, ‘ফকল্যান্ডসের জন্য, দিয়েগোর জন্য, আর লিওর শেষ গোলের জন্য।’ আটলান্টার এই মহাকাব্যিক বিকেলে প্রথম দুটি পূরণ

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লঘুচাপের পূর্বাভাস: সমুদ্র বন্দরে সতর্ক সংকেত জারি

ম্যারাডোনাকে জয় উৎসর্গ করে মেসি বললেন, ‘এটি তাঁরই উপহার’

আপডেট সময় ১০:২৮:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

রুদ্ধশ্বাস জয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা। ৮৬-এর ম্যারাডোনা থেকে ২৬-এর মেসির হাতে এখন আলবিসেলেস্তেদের ঝান্ডা। গোল না পেলেও দলের দুটি জয়সূচক গোলেই অবদান রেখেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। ইংলিশদের বিপক্ষে যার নাম সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হয়, সেই ম্যারাডোনাকেই এই জয় উৎসর্গ করলেন লিওনেল মেসি।

ঠিক ৪০ বছর আগে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ম্যারাডোনা এমন এক ব্যক্তিগত নৈপুণ্য দেখিয়েছিলেন, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স হিসেবে বিবেচিত হয়। অনেকের মতে, সেই জয় ১৯৮২ সালে ফকল্যান্ডস যুদ্ধের ক্ষতবিক্ষত আর্জেন্টাইন জনগণের মনে কিছুটা হলেও প্রশান্তি এনে দিয়েছিল। ফলে প্রতিপক্ষ যখন ইংল্যান্ড, বারবারই আলোচনায় আসছিল দিয়েগোর নামটি। তাই তো শেষ মুহূর্তের নাটকীয় প্রত্যাবর্তনে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেসি এই জয় উৎসর্গ করেন ম্যারাডোনাকে।

টিওয়াইসি’র সাংবাদিক মাতিয়াস পেলিচিওনি খেলা শেষে ১৯৮৬ সালের সেই ঐতিহাসিক ম্যাচে ম্যারাডোনার পরা জার্সির একটি প্রতিরূপ মেসির হাতে তুলে দেন। এ সময় আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় মেসি বলেন, ‘নিঃসন্দেহে ওপর থেকে দিয়েগো এটা দারুণভাবে উপভোগ করছে। কারণ আজকের দিনটা তার জন্য খুবই বিশেষ ছিল। তাকে এই আনন্দটা দিতে পেরে ভালো লাগছে। ওপর থেকে যেভাবেই দেখুক, উপভোগ করুক। এটাও ওর জন্য একটা উপহার।’

১৯৮৬ সালের ২২ জুন মেক্সিকোর আজতেকা স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচেই মাত্র পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে ম্যারাডোনা নিজেকে কিংবদন্তির আসনে প্রতিষ্ঠিত করেন। ম্যাচের ৫০তম মিনিটে তিনি পিটার শিলটনের আগেই হাতে বল ছুঁয়ে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন। যা পরে ‘হ্যান্ড অব গড’ নামে ইতিহাসে অমর হয়ে যায়। এরপর খানিক বাদেই একের পর এক ইংলিশ ফুটবলারকে কাটিয়ে, যেন ‘মহাজাগতিক ঘুড়ি’র মতো ছুটে গিয়ে করেন দ্বিতীয় গোল। সৌন্দর্য ও প্রতীকী গুরুত্ব– দুই দিক থেকেই অনেকের কাছে সেটিই বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ গোল।

মেসি বলেন, ‘জাতীয় সংগীতের সময় বিশেষ কিছু ঘটেছিল। দর্শকদের গুঞ্জন ধীরে ধীরে জোরালো হয়ে ওঠে। তারা অন্যরকম আবেগ নিয়ে গান গাইছিল, আর আমরা একে অপরের দিকে তাকিয়ে সেটা অনুভব করছিলাম। জানতাম এটা শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ, কিন্তু কখনও কখনও আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে যায়। আমরা সেই অনুভূতি নিয়েই ম্যাচটি খেলেছি।’

এই ম্যাচে আরও কয়েকটি রেকর্ড নিজের নামে লিখিয়েছেন মেসি। আগামী রোববার দিবাগত রাতে নিউজার্সিতে স্পেনের বিপক্ষে তিনি খেলবেন নিজের তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল, যা তাকে ব্রাজিল কিংবদন্তি কাফুর রেকর্ডের সমতায় নিয়ে যাবে। একইসঙ্গে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে কিলিয়ান এমবাপ্পের ওপর নিজের ব্যবধান আরও বাড়ানোর সুযোগ থাকবে তার সামনে। পাশাপাশি লক্ষ্য থাকবে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জিতে নিজের অনন্য অর্জনের ভাণ্ডারকে আরও সমৃদ্ধ করা।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচজুড়ে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মুখে এখন একটি গান সবচেয়ে বেশি শোনা যায়, ‘ফকল্যান্ডসের জন্য, দিয়েগোর জন্য, আর লিওর শেষ গোলের জন্য।’ আটলান্টার এই মহাকাব্যিক বিকেলে প্রথম দুটি পূরণ