ময়মনসিংহ , মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পূর্বধলায় মাদ্রাসার জমি দখল ও গাছ কাটার অভিযোগ, তদন্তে প্রশাসন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর হবে যথাসময়ে বলে মন্তব্য করেছেন দীনেশ ত্রিবেদী দেশে এলপি গ্যাসের কোনো সংকট নেই জানিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা চলছে একনেক বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় নবাগত এসিল্যান্ড নুসরাত জাহানের যোগদান উখিয়ায় মাছের ক্যারেটে দুই লাখ ইয়াবা জব্দ, পাচারকারী পলাতক নালিতাবাড়ীতে আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস পালন ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের পাশে চেষ্টা’র মানবিক সহায়তা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক পেলেন এসআই অসিত কুমার বসাক
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

ভালোবাসার প্রতিদান: নিঃসঙ্গতার বারান্দা থেকে স্মৃতির মণিকোঠায়

  • বিশেষ প্রতিবেদন
  • আপডেট সময় ১২:১০:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৭ বার পড়া হয়েছে

​জীবনের গোধূলিলগ্নে এসে বাবা-মায়ের ঠিকানা যখন বৃদ্ধাশ্রম হয়, তখন সমাজ ও পরিবারের নির্মম বাস্তবতাই যেন সামনে ভেসে ওঠে। সুপরিচিত সাহিত্যিক মাধুরী ব্যানার্জীর অনবদ্য অণুগল্প ‘প্রতিদান’-এ ফুটে উঠেছে এমন এক মর্মস্পর্শী পিতৃত্ব ও ত্যাগের গল্প, যা প্রতিটি বিবেকবান মানুষের মনে দাগ কেটে যায়।
​

গল্পের কেন্দ্রে রয়েছেন অমলেন্দুবাবু। বৃদ্ধাশ্রমের বারান্দায় বসে প্রতিদিন বিকেলে সূর্যাস্ত দেখা আর হাতে একটি পুরোনো ডায়েরি—এটাই ছিল তাঁর নিত্যদিনের রুটিন। স্ত্রী হারানোর পর একাই নিজের সব সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়ে যিনি ছেলেকে মানুষ করেছিলেন, তার পড়াশোনা থেকে শুরু করে চাকরি ও বিয়ে—সবকিছুর পেছনে উজাড় করে দিয়েছিলেন নিজের সব সঞ্চয়। সেই ছেলে অর্ণব বিদেশে চাকরি পাওয়ার পর একসময় ব্যস্ততার অজুহাতে বাবাকে পাঠিয়ে দেয় শহরের এক বৃদ্ধাশ্রমে।​কোনো অভিযোগ না করে অমলেন্দুবাবু শুধু মৃদু হেসে বলেছিলেন, “তুই ভালো থাকিস, বাবা।”

​এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ পাঁচ বছর। একদিন এক বর্ষার সন্ধ্যায় বৃদ্ধাশ্রমের দরজায় এসে দাঁড়ায় এক যুবক। জামাকাপড় ভিজে একাকার, চোখে তীব্র উৎকণ্ঠা। সে আর কেউ নয়—অর্ণবেরই ছেলে রাহুল। অমলেন্দুবাবুকে জড়িয়ে ধরে সে জানায়, অর্ণব আর বেঁচে নেই; মারা যাওয়ার আগে বাবা তাকে বলে গেছেন—‘আমি বাবার ভালোবাসার প্রতিদান দিতে পারিনি।’
​দাদুকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার আকুল আবেদন জানিয়ে রাহুল বলে, “বাবা ভুল করেছিলেন, কিন্তু আমি তাঁর ভুলের প্রতিদান ভুল দিয়ে দিতে চাই না।”

​তখন অমলেন্দুবাবু তাঁর পুরোনো ডায়েরির একটি পাতা খুলে নাতির হাতে তুলে দেন। সেখানে লেখা ছিল এক চিরন্তন সত্য—
​“ভালোবাসার প্রতিদান ভালোবাসা দিয়েই দিতে হয়। দেরি হয়ে গেলেও।”
​রাহুল চোখের জল মুছে দাদুর হাত শক্ত করে ধরে। সেদিন বৃদ্ধাশ্রমের বারান্দায় বসে অমলেন্দুবাবুর মনে হয়েছিল, জীবনে নিঃস্বার্থভাবে দেওয়া ভালোবাসা কখনো হারিয়ে যায় না—কখনও না কখনও, কোনো না কোনো হৃদয় থেকে তার প্রতিদান ঠিকই ফিরে আসে।

​এই গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়, রক্তের সম্পর্ক ও স্নেহের ঋণ চিরকালীন। সন্তান ভুল করতে পারে, কিন্তু মাতৃত্ব বা পিতৃত্বের নিখাদ ভালোবাসার প্রকৃত প্রতিদান কেবল ভালোবাসাই হতে পারে, তা যতই দেরিতে হোক না কেন।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পূর্বধলায় মাদ্রাসার জমি দখল ও গাছ কাটার অভিযোগ, তদন্তে প্রশাসন

ভালোবাসার প্রতিদান: নিঃসঙ্গতার বারান্দা থেকে স্মৃতির মণিকোঠায়

আপডেট সময় ১২:১০:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

​জীবনের গোধূলিলগ্নে এসে বাবা-মায়ের ঠিকানা যখন বৃদ্ধাশ্রম হয়, তখন সমাজ ও পরিবারের নির্মম বাস্তবতাই যেন সামনে ভেসে ওঠে। সুপরিচিত সাহিত্যিক মাধুরী ব্যানার্জীর অনবদ্য অণুগল্প ‘প্রতিদান’-এ ফুটে উঠেছে এমন এক মর্মস্পর্শী পিতৃত্ব ও ত্যাগের গল্প, যা প্রতিটি বিবেকবান মানুষের মনে দাগ কেটে যায়।
​

গল্পের কেন্দ্রে রয়েছেন অমলেন্দুবাবু। বৃদ্ধাশ্রমের বারান্দায় বসে প্রতিদিন বিকেলে সূর্যাস্ত দেখা আর হাতে একটি পুরোনো ডায়েরি—এটাই ছিল তাঁর নিত্যদিনের রুটিন। স্ত্রী হারানোর পর একাই নিজের সব সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়ে যিনি ছেলেকে মানুষ করেছিলেন, তার পড়াশোনা থেকে শুরু করে চাকরি ও বিয়ে—সবকিছুর পেছনে উজাড় করে দিয়েছিলেন নিজের সব সঞ্চয়। সেই ছেলে অর্ণব বিদেশে চাকরি পাওয়ার পর একসময় ব্যস্ততার অজুহাতে বাবাকে পাঠিয়ে দেয় শহরের এক বৃদ্ধাশ্রমে।​কোনো অভিযোগ না করে অমলেন্দুবাবু শুধু মৃদু হেসে বলেছিলেন, “তুই ভালো থাকিস, বাবা।”

​এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ পাঁচ বছর। একদিন এক বর্ষার সন্ধ্যায় বৃদ্ধাশ্রমের দরজায় এসে দাঁড়ায় এক যুবক। জামাকাপড় ভিজে একাকার, চোখে তীব্র উৎকণ্ঠা। সে আর কেউ নয়—অর্ণবেরই ছেলে রাহুল। অমলেন্দুবাবুকে জড়িয়ে ধরে সে জানায়, অর্ণব আর বেঁচে নেই; মারা যাওয়ার আগে বাবা তাকে বলে গেছেন—‘আমি বাবার ভালোবাসার প্রতিদান দিতে পারিনি।’
​দাদুকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার আকুল আবেদন জানিয়ে রাহুল বলে, “বাবা ভুল করেছিলেন, কিন্তু আমি তাঁর ভুলের প্রতিদান ভুল দিয়ে দিতে চাই না।”

​তখন অমলেন্দুবাবু তাঁর পুরোনো ডায়েরির একটি পাতা খুলে নাতির হাতে তুলে দেন। সেখানে লেখা ছিল এক চিরন্তন সত্য—
​“ভালোবাসার প্রতিদান ভালোবাসা দিয়েই দিতে হয়। দেরি হয়ে গেলেও।”
​রাহুল চোখের জল মুছে দাদুর হাত শক্ত করে ধরে। সেদিন বৃদ্ধাশ্রমের বারান্দায় বসে অমলেন্দুবাবুর মনে হয়েছিল, জীবনে নিঃস্বার্থভাবে দেওয়া ভালোবাসা কখনো হারিয়ে যায় না—কখনও না কখনও, কোনো না কোনো হৃদয় থেকে তার প্রতিদান ঠিকই ফিরে আসে।

​এই গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়, রক্তের সম্পর্ক ও স্নেহের ঋণ চিরকালীন। সন্তান ভুল করতে পারে, কিন্তু মাতৃত্ব বা পিতৃত্বের নিখাদ ভালোবাসার প্রকৃত প্রতিদান কেবল ভালোবাসাই হতে পারে, তা যতই দেরিতে হোক না কেন।