দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বাড়ির নির্মাণকাজের পারিশ্রমিক ও পারিবারিক রাস্তার জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মারামারির ঘটনায় মনোরঞ্জন রায় (৫৫) নামের এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে পার্বতীপুর উপজেলার বেলাইচণ্ডী ইউনিয়নের নয়া মোল্লাপাড়া গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত মনোরঞ্জন রায় চিরিরবন্দর উপজেলার চক সুকদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তাঁর বাড়ি একই উপজেলার চক সুকদেবপুর এলাকায়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন পার্বতীপুর উপজেলার সোনাপুকুর নয়া মোল্লাপাড়া এলাকার মোস্তাহার হোসেনের ছেলে আসাদুজ্জামান (৩২) ও আশিকুজ্জামান আলো মিয়া (৩৫)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রয়াত শিক্ষক আজিজুল হকের বাড়ির নির্মাণকাজের পারিশ্রমিক, ইউক্যালিপ্টাস গাছের কাঠের হিসাব ও শ্রমিকদের মজুরি বণ্টন নিয়ে কাঠমিস্ত্রি ফরতাজ হোসেনের সঙ্গে আজিজুল হকের ছেলে আল-রোমানের বিরোধ চলছিল। পাশাপাশি বাড়ির পাশের রাস্তার জমি নিয়ে আল-রোমানদের সঙ্গে আশিকুজ্জামান আলো মিয়া ও তাঁর ভাই আসাদুজ্জামানের মনোমালিন্য ছিল।
গত রোববার দুপুরে এসব বিরোধের জেরে ফরতাজ হোসেন, আশিকুজ্জামান আলো মিয়া ও আসাদুজ্জামান আল-রোমানদের বাড়িতে যান। সেখানে আল-রোমানের মা রোমানা আক্তারের সঙ্গে তাঁদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে উভয়পক্ষের বিরোধ মীমাংসার উদ্দেশ্যে সেখানে উপস্থিত হন প্রধান শিক্ষক মনোরঞ্জন রায়।
প্রাথমিক তদন্তের বরাতে পুলিশ জানায়, সালিশ বা মীমাংসার সময় মনোরঞ্জন রায়কে সজনে গাছের ডাল ও লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এ সময় তিনি পালানোর চেষ্টা করলে তাঁকে ধাওয়া করে আবারও মারধর করা হয়। এতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পেয়ে তিনি পাশের একটি ধানখেতে পড়ে যান। পরে তাঁকে উদ্ধার করে আজিজুল হকের বাড়িতে নেওয়া হলে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।
তবে নিহত শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে হৃদ্রোগে ভুগছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এর মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে পার্বতীপুর থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
ঘটনার পরপরই প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আসাদুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর সোমবার (২৬ অক্টোবর) ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে চিরিরবন্দর উপজেলার ফতেজংপুর ইউনিয়নের হাসিমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপর অভিযুক্ত আশিকুজ্জামান আলো মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে দিনাজপুরের পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসা (পিপিএম) এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আনোয়ার হোসেন (বিপিএম-সেবা) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ (বিপিএম)-এর নির্দেশনা অনুযায়ী ঘটনায় জড়িত বাকিদের শনাক্ত, গ্রেপ্তার ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

স্টাফ রিপোর্টার 


















