ময়মনসিংহ , মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পাটওয়ারীকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিলেই বের হবে, বাসে ককটেল মারছে কারা বলেছেন রাশেদ খাঁন ১১ দলের লংমার্চে যমুনা সেতুতে কিছু গাড়ির টোল দেওয়া হয়নি বললেন রিজভী ময়মনসিংহে বিএনপির অবস্থান কর্মসূচি’তে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের অংশগ্রহণ ব্যয় সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর সংক্ষিপ্ত জানিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা দুই-একটা ককটেল ফাটিয়ে সরকারের কিছু করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা মাদকসহ আটক: ঠাকুরগাঁওয়ে এক ব্যক্তির ৩ মাসের কারাদণ্ড বাংলাদেশে নিজেকে নিরাপদ মনে করি না বললেন তানজিন তিশা সহজ ধাপে অনলাইনে নবম পে স্কেলের বেতন স্কেল নির্ধারণ ও অনুমোদন প্রক্রিয়া নিউ জার্সির ৭ম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট: নতুন জরিপে রিপাবলিকান টম কিয়ানকে পেছনে ফেলে এগিয়ে গেলেন ডেমোক্র্যাট বেনেট নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটি নির্বাচন: আবারও সহ-সভাপতি পদে সেলিম-আলী পরিষদের মহিউদ্দিন দেওয়ানের পক্ষে সহযোগিতার আহ্বান
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

হিমাগারের ভাড়া কমানোর দাবিতে আলু ফেলে মহাসড়ক অবরোধ

হিমাগার মালিকদের বৈষম্যমূলক ও একতরফা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রতিবাদে মহাসড়কে আলু ফেলে বিক্ষোভ করেছেন আলু চাষি ও ব্যবসায়ীরা। এ সময় ভাড়া বৃদ্ধির সিন্ডিকেট ভেঙে তা পুনর্বিন্যাসের দাবি জানান তারা।

বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে রংপুরের মডার্ন মোড়ে ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। আন্দোলনকারীদের সড়ক অবরোধের কারণে মহাসড়কের দুই পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

ভুক্তভোগী আলু চাষিদের দাবি, চলতি বছর সিন্ডিকেট করে হিমাগারগুলোতে আলু সংরক্ষণের ভাড়া অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। গত বছরের চেয়ে বস্তা প্রতি ভাড়া বাড়ানো হয়েছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত। ফলে বর্তমানে প্রতি বস্তা আলুর জন্য হিমাগার ভাড়া গুনতে হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪২০ টাকা পর্যন্ত, যা সাধারণ ব্যবসায়ী ও চাষিদের জন্য অত্যন্ত অমানবিক। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে হিমাগার মালিকদের সিন্ডিকেট ভেঙে বস্তা প্রতি ভাড়া ২৮০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা নির্ধারণের জোর দাবি জানান তারা।
 
রংপুর জেলা আলু চাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ বনিক বলেন, ‘চলতি বছর আলুর সঠিক দাম না পাওয়ায় ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছেন চাষিরা। এর ওপর হিমাগারের ভাড়া অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি করা আমাদের জন্য অশনিসংকেত।’

তিনি আরও বলেন, ‘চলতি বছর আলু উৎপাদনে কেজি প্রতি প্রায় ২০ টাকা খরচ হলেও কৃষকদের তা বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ৮ থেকে ১০ টাকায়। উপরন্তু হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়াও যদি এভাবে বাড়ানো হয়, তাহলে সাধারণ কৃষকরা আর আলু সংরক্ষণ করতে পারবেন না। এর প্রভাবে তারা আরও বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়বেন। তাই আমরা চাই, ভাড়া বৃদ্ধির এই ঘোষণা থেকে দ্রুত সরে দাঁড়াবেন হিমাগার মালিকরা এবং বস্তা প্রতি ভাড়া ২৮০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকার মধ্যে রাখবেন।’
 
রংপুর বিভাগীয় আলু চাষি ও ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি তৈয়বুর রহমান বলেন, ‘দেশের অন্য সব এলাকার চেয়ে রংপুরে আলু সংরক্ষণের ভাড়া বেশি নেয়া হয়। কৃষকরা দিনের পর দিন আন্দোলন করে আসলেও প্রশাসন কিংবা হিমাগার মালিকরা তা কখনোই আমলে নেন না। যার ফলে প্রতি বছর বড় বড় ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে আলু থেকে অধিক মুনাফা আয় করলেও প্রকৃত কৃষকদের উৎপাদন খরচ তোলাই দায় হয়ে পড়ে।’
 
তৈয়বুর রহমান আরও বলেন, ‘চলতি মৌসুমে আলুর সংরক্ষণ ব্যয় বস্তা প্রতি ছয় টাকার বেশি করলে কৃষকরা যেমন বড় ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, তেমনি সিন্ডিকেটের কারণে পরবর্তীতে বাজারে আলুর দাম বাড়বে; কিন্তু কৃষক কিছুই পাবেন না।’
 
এ সময় কৃষক প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও হিমাগার মালিকসহ সংশ্লিষ্ট দফতরের সমন্বয়ে আলোচনার মাধ্যমে পুনরায় হিমাগার ভাড়া সর্বোচ্চ পাঁচ থেকে ছয় টাকা নির্ধারণের দাবি জানান আন্দোলনকারীরা। দাবি অবিলম্বে মানা না হলে আগামীতে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পাটওয়ারীকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিলেই বের হবে, বাসে ককটেল মারছে কারা বলেছেন রাশেদ খাঁন

হিমাগারের ভাড়া কমানোর দাবিতে আলু ফেলে মহাসড়ক অবরোধ

আপডেট সময় ০৩:৪৬:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

হিমাগার মালিকদের বৈষম্যমূলক ও একতরফা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রতিবাদে মহাসড়কে আলু ফেলে বিক্ষোভ করেছেন আলু চাষি ও ব্যবসায়ীরা। এ সময় ভাড়া বৃদ্ধির সিন্ডিকেট ভেঙে তা পুনর্বিন্যাসের দাবি জানান তারা।

বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে রংপুরের মডার্ন মোড়ে ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। আন্দোলনকারীদের সড়ক অবরোধের কারণে মহাসড়কের দুই পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

ভুক্তভোগী আলু চাষিদের দাবি, চলতি বছর সিন্ডিকেট করে হিমাগারগুলোতে আলু সংরক্ষণের ভাড়া অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। গত বছরের চেয়ে বস্তা প্রতি ভাড়া বাড়ানো হয়েছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত। ফলে বর্তমানে প্রতি বস্তা আলুর জন্য হিমাগার ভাড়া গুনতে হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪২০ টাকা পর্যন্ত, যা সাধারণ ব্যবসায়ী ও চাষিদের জন্য অত্যন্ত অমানবিক। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে হিমাগার মালিকদের সিন্ডিকেট ভেঙে বস্তা প্রতি ভাড়া ২৮০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা নির্ধারণের জোর দাবি জানান তারা।
 
রংপুর জেলা আলু চাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ বনিক বলেন, ‘চলতি বছর আলুর সঠিক দাম না পাওয়ায় ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছেন চাষিরা। এর ওপর হিমাগারের ভাড়া অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি করা আমাদের জন্য অশনিসংকেত।’

তিনি আরও বলেন, ‘চলতি বছর আলু উৎপাদনে কেজি প্রতি প্রায় ২০ টাকা খরচ হলেও কৃষকদের তা বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ৮ থেকে ১০ টাকায়। উপরন্তু হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়াও যদি এভাবে বাড়ানো হয়, তাহলে সাধারণ কৃষকরা আর আলু সংরক্ষণ করতে পারবেন না। এর প্রভাবে তারা আরও বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়বেন। তাই আমরা চাই, ভাড়া বৃদ্ধির এই ঘোষণা থেকে দ্রুত সরে দাঁড়াবেন হিমাগার মালিকরা এবং বস্তা প্রতি ভাড়া ২৮০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকার মধ্যে রাখবেন।’
 
রংপুর বিভাগীয় আলু চাষি ও ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি তৈয়বুর রহমান বলেন, ‘দেশের অন্য সব এলাকার চেয়ে রংপুরে আলু সংরক্ষণের ভাড়া বেশি নেয়া হয়। কৃষকরা দিনের পর দিন আন্দোলন করে আসলেও প্রশাসন কিংবা হিমাগার মালিকরা তা কখনোই আমলে নেন না। যার ফলে প্রতি বছর বড় বড় ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে আলু থেকে অধিক মুনাফা আয় করলেও প্রকৃত কৃষকদের উৎপাদন খরচ তোলাই দায় হয়ে পড়ে।’
 
তৈয়বুর রহমান আরও বলেন, ‘চলতি মৌসুমে আলুর সংরক্ষণ ব্যয় বস্তা প্রতি ছয় টাকার বেশি করলে কৃষকরা যেমন বড় ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, তেমনি সিন্ডিকেটের কারণে পরবর্তীতে বাজারে আলুর দাম বাড়বে; কিন্তু কৃষক কিছুই পাবেন না।’
 
এ সময় কৃষক প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও হিমাগার মালিকসহ সংশ্লিষ্ট দফতরের সমন্বয়ে আলোচনার মাধ্যমে পুনরায় হিমাগার ভাড়া সর্বোচ্চ পাঁচ থেকে ছয় টাকা নির্ধারণের দাবি জানান আন্দোলনকারীরা। দাবি অবিলম্বে মানা না হলে আগামীতে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।