ময়মনসিংহ , বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পরিচয় অনুসন্ধান নাকি পাসপোর্ট জালিয়াতি? নেত্রকোণায় আটক রোহিঙ্গা যুবককে ঘিরে ঘনীভূত রহস্য পূর্বধলায় কৃষি প্রণোদনা তালিকায় অনিয়মের অভিযোগে ঘাগড়া চৌরাস্তায় সংবাদ সম্মেলন ​লোহালিয়া নদীর ওপর ৯ম মৈত্রী সেতু নির্মাণে বাংলাদেশ ও চীনের চুক্তি রামিসা হত্যা মামলা: বিচার চেয়ে রোববার শুনানি করবেন অ্যাটর্নি জেনারেল ​আসছে নবম পে-স্কেল: ১ জুলাই থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন বেতন কাঠামো ​হঠাৎ জার্সি বদলের চাপে হাইতি: ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে এসেই সংকটে দলটি গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে একই পরিবারের ৪ জনসহ দগ্ধ, ৫ ফুটবল বিশ্বকাপ: স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী জাতির প্রত্যাশা পূরণের লক্ষেই এবারের বাজেট প্রণয়ন জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসি পাবনার উদ্যোগে পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্স অনুষ্ঠিত
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

ইতিহাসের ওপর মব আক্রমণ চলছে বললেন সারা হোসেন

  • ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:০৮:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ অগাস্ট ২০২৫
  • ১১৭ বার পড়া হয়েছে

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন বলেছেন, দেশজুড়ে সাম্প্রতিক সময়ে যে মব হামলা ও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, তা ইতিহাসের ওপর সরাসরি আক্রমণ। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পরেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, প্রান্তিক ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা ও বিচারহীন ঘটনা চলছেই।

সারা হোসেন আরও জানান, গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার চলে যাওয়ার পর তিন দিন দেশে কোনো সরকার ছিল না। সেই সময় পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর অনুপস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়েছিল এবং নির্বিচারে গুলির ঘটনায় শতাধিক মানুষ নিহত ও হাজারাধিক আহত হয়েছেন। পরে ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হলে কিছুটা স্বস্তি আসে। তবে তিনি বলেছেন, ‘সেই সময় এবং এখনো অনেকের ওপর প্রতিহিংসামূলক আক্রমণ হয়েছে, যা তদন্ত ও বিচার হওয়া প্রয়োজন।’

সাম্প্রতিক মব হামলার উদাহরণ হিসেবে সারা হোসেন ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাড়ির ওপর বুলডোজার আনার ঘটনা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘সামাজিক মাধ্যমে উস্কানির কারণে ভয়াবহ মব তৈরি হয়েছিল। এটি সরকারের নিয়ন্ত্রণে আসা উচিত ছিল। ইতিহাসের ওপর এ ধরনের আক্রমণ গ্রহণযোগ্য নয়।’

পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে তিনি বলেন, ‘যেখানে মৃত্যুর অভিযোগ উঠছে, সেখানে প্রতিটি ঘটনার তদন্ত জরুরি। দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সাধারণ নাগরিকের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।’

জুলাই হত্যাকাণ্ড ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নিয়েও তিনি মন্তব্য করেন। ‘যারা এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছে, তারা এখনও অনুশোচনা দেখাচ্ছেন না। তাদের বিচারের মাধ্যমে জবাবদিহি নিশ্চিত করা দরকার। স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু প্রক্রিয়া আবশ্যক।’

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মানবাধিকার কমিশনের কার্যকারিতার অভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘মানবাধিকার কমিশন দীর্ঘদিন কার্যকর নয়। কার্যকর কমিশন দরকার, যারা সাহস করে সরকারের সমালোচনা করতে দ্বিধা করবে না।’

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পরিচয় অনুসন্ধান নাকি পাসপোর্ট জালিয়াতি? নেত্রকোণায় আটক রোহিঙ্গা যুবককে ঘিরে ঘনীভূত রহস্য

ইতিহাসের ওপর মব আক্রমণ চলছে বললেন সারা হোসেন

আপডেট সময় ০১:০৮:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ অগাস্ট ২০২৫

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন বলেছেন, দেশজুড়ে সাম্প্রতিক সময়ে যে মব হামলা ও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, তা ইতিহাসের ওপর সরাসরি আক্রমণ। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পরেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, প্রান্তিক ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা ও বিচারহীন ঘটনা চলছেই।

সারা হোসেন আরও জানান, গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার চলে যাওয়ার পর তিন দিন দেশে কোনো সরকার ছিল না। সেই সময় পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর অনুপস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়েছিল এবং নির্বিচারে গুলির ঘটনায় শতাধিক মানুষ নিহত ও হাজারাধিক আহত হয়েছেন। পরে ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হলে কিছুটা স্বস্তি আসে। তবে তিনি বলেছেন, ‘সেই সময় এবং এখনো অনেকের ওপর প্রতিহিংসামূলক আক্রমণ হয়েছে, যা তদন্ত ও বিচার হওয়া প্রয়োজন।’

সাম্প্রতিক মব হামলার উদাহরণ হিসেবে সারা হোসেন ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাড়ির ওপর বুলডোজার আনার ঘটনা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘সামাজিক মাধ্যমে উস্কানির কারণে ভয়াবহ মব তৈরি হয়েছিল। এটি সরকারের নিয়ন্ত্রণে আসা উচিত ছিল। ইতিহাসের ওপর এ ধরনের আক্রমণ গ্রহণযোগ্য নয়।’

পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে তিনি বলেন, ‘যেখানে মৃত্যুর অভিযোগ উঠছে, সেখানে প্রতিটি ঘটনার তদন্ত জরুরি। দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সাধারণ নাগরিকের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।’

জুলাই হত্যাকাণ্ড ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নিয়েও তিনি মন্তব্য করেন। ‘যারা এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছে, তারা এখনও অনুশোচনা দেখাচ্ছেন না। তাদের বিচারের মাধ্যমে জবাবদিহি নিশ্চিত করা দরকার। স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু প্রক্রিয়া আবশ্যক।’

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মানবাধিকার কমিশনের কার্যকারিতার অভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘মানবাধিকার কমিশন দীর্ঘদিন কার্যকর নয়। কার্যকর কমিশন দরকার, যারা সাহস করে সরকারের সমালোচনা করতে দ্বিধা করবে না।’