গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম মাহাতাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক সাবেক শিক্ষিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই নারী আদালতে মামলা করেছেন। আদালতের নির্দেশে মামলাটি এজাহার হিসেবে নথিভুক্ত করেছে গোপালগঞ্জ সদর থানা-পুলিশ।
মামলার বাদী মুকসুদপুর উপজেলার ঝুটিগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষিকা। তিনি প্রায় পাঁচ মাস আগে চাকরি ছেড়ে দেন। অভিযুক্ত এস এম মাহাতাব উদ্দিন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের ডুবশি গ্রামের এস এম আকবার হোসেনের ছেলে।এজাহারে যেসব অভিযোগ
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ওই নারীর সঙ্গে মাহাতাব উদ্দিনের পরিচয় হয়। পরে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে মাহাতাব উদ্দিন শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দিলে ওই নারী বিয়ের শর্ত দেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, গত ১১ সেপ্টেম্বর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কথা বলে ওই নারীকে নিজের বাড়িতে ডেকে নেন মাহাতাব উদ্দিন। সেখানে গিয়ে ওই নারী পরিবারের কাউকে দেখতে পাননি। পরে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন বলে অভিযোগ করেন ওই নারী। পরদিন তাঁকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন তারিখে মাহাতাব উদ্দিন ওই নারীর বাবার বাড়িতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করেন। সর্বশেষ গত ২ অক্টোবর বিয়ের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে চাইলে মাহাতাব উদ্দিন তাঁদের সম্পর্ক ও বিয়ের প্রতিশ্রুতির কথা অস্বীকার করেন বলে অভিযোগ করেন ওই নারী।পরে কোনো উপায় না পেয়ে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।
অভিযুক্তের বক্তব্য পাওয়া যায়নি
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম মাহাতাব উদ্দিনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, ‘আমি মাহাতাব নই। তিনি ফোন রেখে বাইরে গেছেন।’ ফলে এ বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশের বক্তব্য
গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আদালতের নির্দেশে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
মামলার অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলোর সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

স্টাফ রিপোর্টার 


















