ময়মনসিংহের তারাকান্দায় রেনু রানী সেন নামে এক নারীর হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২/২০১/৩৪ ধারার উল্লেখ রয়েছে। মামলার নথিতে ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রেনু রানী সেন ছিলেন সহজ-সরল স্বভাবের নারী। ঘটনার দিন তিনি তাঁর নাতি রুদ্রকে পড়ানোর উদ্দেশ্যে স্থানীয় শিক্ষক বুলবুল মাস্টারের কাছে পাঠানোর জন্য বাড়ি থেকে বের হন। ওই সময় এলাকায় প্রচণ্ড বৃষ্টি হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, বৃষ্টির মধ্যে রাস্তায় চলার সময় ভয় পেয়ে রেনু রানী সেন “জয় শ্রী রাম” ধ্বনি দিতে থাকেন। এ সময় মাজারুল (২৬), পিতা আবুল কালাম, সাং তিয়রকান্দি, থানা তারাকান্দা, জেলা ময়মনসিংহ-এর সঙ্গে তাঁর বিরোধের সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
সবচেয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ হলো “জয় শ্রী রাম” বলার কারণেই রেনু রানী সেনকে হত্যা করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে। যদিও হত্যার কারণ হিসেবে ধর্মীয় স্লোগানের বিষয়টি এজাহারে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ফলে বিষয়টি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রাখে।
অভিযোগকারীর দাবি, গ্রেপ্তারের পর আসামি তদন্তকারী কর্মকর্তাদের কাছে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন এবং ম্যাজিস্ট্রেটের কাছেও স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। তবে ওই বক্তব্যের সঠিক বিষয়বস্তু, আইনগত গ্রহণযোগ্যতা এবং হত্যার সঙ্গে ধর্মীয় স্লোগানের সম্পর্ক তদন্ত ও আদালতের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
এজাহারে এক তথ্য, সামনে আসছে আরেক গুরুতর প্রশ্ন,মামলার নথিতে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো উল্লেখ থাকলেও, হত্যার পেছনে প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল—সেটিই এখন তদন্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
রেনু রানী সেন কি শুধুই ব্যক্তিগত বিরোধের শিকার, নাকি তাঁর ধর্মীয় পরিচয় বা “জয় শ্রী রাম” উচ্চারণের কারণে তাঁকে টার্গেট করা হয়েছিল—এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তদন্ত সংস্থার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন অভিযোগকারী পক্ষ।
হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে একজনের বেশি ব্যক্তি জড়িত ছিল কি না, হত্যার আগে বা পরে কারও সহযোগিতা ছিল কি না এবং ঘটনাটির প্রকৃত কারণ কী—এসব বিষয়ও গভীরভাবে তদন্তের দাবি উঠেছে।
অভিযোগকারীর পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে দাবি জানানো হয়েছে, ঘটনার নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে প্রকৃত হত্যাকারী এবং সহযোগীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনানুগ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
একজন নারীর প্রাণহানির এই ঘটনায় ধর্মীয় বিদ্বেষের কোনো যোগসূত্র ছিল কি না—তা দ্রুত তদন্ত করে জাতির সামনে প্রকৃত সত্য তুলে ধরাই এখন সবচেয়ে বড় দাবি।

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি 



















