ময়মনসিংহ , বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
দুই সপ্তাহের মধ্যে বিদ্যুৎ-জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নতি হবে: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী চট্টগ্রামে ১১ টন রাসায়নিক সার জব্দ, আটক ৩ সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু বিভাজন ভুলে নাগরিক পরিচয়কে বড় করে দেখার আহ্বান প্রধানন্ত্রীর জন্মাষ্টমীতে সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাইবোনদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উষ্ণ শুভেচ্ছা বিনিময় আদালতে হাজিরা না দেওয়ায় বড় নির্দেশ: শেখ হাসিনাসহ পলাতক ৩০ আসামির বিরুদ্ধে সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ রাজনৈতিক অঙ্গনে চাঞ্চল্যকর তথ্য: আসিফ মাহমুদের পক্ষে জামায়াত আমিরকে ফোন করেছিলেন ড. ইউনূস ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে রদবদল: যুগ্ম কমিশনার পদমর্যাদার দুই কর্মকর্তাকে নতুন দায়িত্ব নেত্রকোনায় পুকুর দখল করে নির্মিত অবৈধ দুইতলা ভবন উচ্ছেদ শুরু নেত্রকোণায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘ওয়ান ইনস্টিটিউশন, ফোর ক্লাবস’ কার্যক্রম পরিদর্শন ডাক-টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে এমপি মানসুরা আলম
নোটিশ :
প্রতিটি জেলা- উপজেলায় একজন করে ভিডিও প্রতিনিধি আবশ্যক। যোগাযোগঃ- Email- matiomanuss@gmail.com. Mobile No- 017-11684104, 013-03300539.

নেত্রকোনায় পুকুর দখল করে নির্মিত অবৈধ দুইতলা ভবন উচ্ছেদ শুরু

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলা সদরের বাজার এলাকায় সরকারি জায়গা ও পুকুর দখল করে নির্মিত অনুমোদনহীন দুইতলা ভবন উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করেছে জেলা পরিষদ। গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা থেকে জেলা পরিষদের নির্দেশে এই উচ্ছেদ অভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।

​জেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, সরকারি জায়গার ওপর নির্মিত ভবনটির জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কিংবা জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো ধরনের পূর্বানুমোদন নেওয়া হয়নি। ভবনটির নিচের অংশ সরাসরি পুকুরের পানির ওপর পিলারের সাহায্যে নির্মাণ করা হয়েছে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া এই অবৈধ স্থাপনার কারণে বাজারের স্বাভাবিক পরিবেশ ও সৌন্দর্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

উচ্ছেদ অভিযান ও ভবন ভাঙার কার্যক্রম পরিদর্শনকালে জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান নুরু বলেন, “জেলা পরিষদের জায়গায় কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ বা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হলে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের অনুমোদন প্রয়োজন। এই স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে কোনো আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।”

​ভবনটির ঝুঁকির দিক তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “স্থাপনাটির ওপরের অংশের যেমন কোনো অনুমোদন নেই, তেমনি এর নিচের অংশ পুকুরের ওপর সম্পূর্ণ অবৈধভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় আইন অনুযায়ী ভেঙে দেওয়া হচ্ছে।”

সরেজমিনে দেখা যায়, মঙ্গলবার সকাল থেকে শ্রমিকরা ভবনটির ওপরের অংশের বিভিন্ন স্থাপনা অপসারণের কাজ শুরু করেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ভবনটির দুইতলার অবৈধ অংশ অপসারণ করা হচ্ছে। পরবর্তীতে আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করে পর্যায়ক্রমে স্থাপনাটির অন্যান্য অবৈধ অংশের বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

​উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে কলমাকান্দা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুজ্জামান আসিফ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জেলা পরিষদের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।

​এদিকে প্রশাসনের এই উচ্ছেদ অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা জানান, পুকুরের ওপর স্থাপনাটি নির্মাণের পর থেকেই বাজারের পরিবেশ ও সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছিল। সরকারি জায়গা এবং জলাশয় রক্ষায় অনুমোদনহীন এমন স্থাপনার বিরুদ্ধে প্রশাসনের এ ধরনের কার্যক্রম আগামীতেও অব্যাহত রাখার জোর দাবি জানান এলাকাবাসী। স্থানীয়দের মতে, কেবল উচ্ছেদই নয়, সরকারি সম্পত্তি ও জলাশয় রক্ষায় ভবিষ্যতে যাতে কেউ অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের কোনো অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করতে না পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দুই সপ্তাহের মধ্যে বিদ্যুৎ-জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নতি হবে: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

নেত্রকোনায় পুকুর দখল করে নির্মিত অবৈধ দুইতলা ভবন উচ্ছেদ শুরু

আপডেট সময় ১১:২৪:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলা সদরের বাজার এলাকায় সরকারি জায়গা ও পুকুর দখল করে নির্মিত অনুমোদনহীন দুইতলা ভবন উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করেছে জেলা পরিষদ। গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা থেকে জেলা পরিষদের নির্দেশে এই উচ্ছেদ অভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।

​জেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, সরকারি জায়গার ওপর নির্মিত ভবনটির জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কিংবা জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো ধরনের পূর্বানুমোদন নেওয়া হয়নি। ভবনটির নিচের অংশ সরাসরি পুকুরের পানির ওপর পিলারের সাহায্যে নির্মাণ করা হয়েছে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া এই অবৈধ স্থাপনার কারণে বাজারের স্বাভাবিক পরিবেশ ও সৌন্দর্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

উচ্ছেদ অভিযান ও ভবন ভাঙার কার্যক্রম পরিদর্শনকালে জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান নুরু বলেন, “জেলা পরিষদের জায়গায় কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ বা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হলে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের অনুমোদন প্রয়োজন। এই স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে কোনো আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।”

​ভবনটির ঝুঁকির দিক তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “স্থাপনাটির ওপরের অংশের যেমন কোনো অনুমোদন নেই, তেমনি এর নিচের অংশ পুকুরের ওপর সম্পূর্ণ অবৈধভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় আইন অনুযায়ী ভেঙে দেওয়া হচ্ছে।”

সরেজমিনে দেখা যায়, মঙ্গলবার সকাল থেকে শ্রমিকরা ভবনটির ওপরের অংশের বিভিন্ন স্থাপনা অপসারণের কাজ শুরু করেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ভবনটির দুইতলার অবৈধ অংশ অপসারণ করা হচ্ছে। পরবর্তীতে আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করে পর্যায়ক্রমে স্থাপনাটির অন্যান্য অবৈধ অংশের বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

​উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে কলমাকান্দা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুজ্জামান আসিফ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জেলা পরিষদের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।

​এদিকে প্রশাসনের এই উচ্ছেদ অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা জানান, পুকুরের ওপর স্থাপনাটি নির্মাণের পর থেকেই বাজারের পরিবেশ ও সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছিল। সরকারি জায়গা এবং জলাশয় রক্ষায় অনুমোদনহীন এমন স্থাপনার বিরুদ্ধে প্রশাসনের এ ধরনের কার্যক্রম আগামীতেও অব্যাহত রাখার জোর দাবি জানান এলাকাবাসী। স্থানীয়দের মতে, কেবল উচ্ছেদই নয়, সরকারি সম্পত্তি ও জলাশয় রক্ষায় ভবিষ্যতে যাতে কেউ অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের কোনো অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করতে না পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।